যানজটে যাত্রী ভোগান্তি কমেছে না রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় –

রুবেলুর রহমান/ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

দেশের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসাবে পরিচিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ঈদের পর থেকে প্রতিদিনের দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তি কমছে না যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের।
যানজটের কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীবাহি পরিবহন ও ছোট গাড়ি ঘন্টার পর ঘন্টা এবং কোনো কোনো পন্যবাহী ট্রাককে দিনের পর দিন নদী পারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এতে করে যাত্রীদের পাশাপাশি পন্যবাহি ট্রাকের চালকরা তাদের পন্য নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। তাছাড়া যানজটের কারণে যাত্রীবাহি পরিবহনগুলো সময় মতো তাদের যাত্রী পরিবহন করতে না পারায় পড়েছেন দুঃচিন্তায়।
প্রিয়জনের সাথে ঈদ উদযাপন শেষে ঈদের পর থেকেই দৌলতদিয়া দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ফিরতে শুরু করেছে কর্মমূখি মানুষ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে। কিন্তু প্রতিদিনই দৌলতদিয়ায় যানজটের কবলে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কাঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে নাব্যতা সংকট ও দৌলতিদয়া-পাটুরিয়া রুটে নদীতে তীব্র ¯্রােতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মুলত এ যানজট বলে দাবী দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষের।
এদিকে কাঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে নাব্যতা সংকটের কারণে গতকাল দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কে। তবে গতকাল রাত থেকে কাঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলেও আজ শনিবার বিকালে দৌলতিদয়া প্রান্তে চার কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৬ শতাধিক যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে।
এদিকে যানজট নিরসন ও সিরিয়াল ভেঙ্গে কেউ বিচ্ছৃঙ্খলা না করতে পারে সে জন্য রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরলস ভাবে কাজ করছেন সড়কে।
ঢাকা মুখি একাধিক যাত্রীরা জানান, ভোর থেকে তারা দৌলতদিয়া প্রান্তে এসে সড়কে নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছেন। এখনো ফেরি ঘাট অনেক দুর, কখন ফেরি পাবেন তা জানেন না। কতক্ষন এভাবে গাড়িতে বসে থাকবেন, পরিবার পরিজন নিয়ে পড়েছেন সমস্যায়। তারপরও বাথ রুম ও খাবার সমস্যা রয়েছে। ঈদের আগে ভালো মতো আসলেও ঈদের পরে এমন ভোগান্তি মেনে নিতে পারছেন না। তাই তারা সরকার বা সংশ্লিষ্ট ঘাট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন পর্যাপ্ত ফেরি ও লোকবল দিয়ে এ সমস্যা সমাধান করতে।
পরিবহন চালকরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে সময় মেনে যাত্রী নিয়ে তারা ঢাকায় যান এবং সেখান থেকে আবার যাত্রী নিয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু এবার ঈদের আগে যানজটের তেমন কোনো ঝামেলা না হলেও ঈদের পর থেকে দৌলতদিয়ায় প্রতিদিন তাদের যানজটে পড়তে হচ্ছে। এ কারণে গাড়িতে থাকা যাত্রীরা যেমন পড়ছেন ভোগান্তিতে, তেমনি সময় মতো যাত্রী পরিবহন না করতে পেরে তারা পড়েছেন বিপাকে।
পন্যবাহী ট্রাক চালক জানান, ভোমরা থেকে চারশ বস্তা চাউল লোড করে আজ চার দিন ধরে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছেন। যে চাউল ঢাকা শহরে নিয়ে গেলে মানুষ খেয়ে বাঁচবে, সে চাউলকে বাজে মাল বলে তার ট্রাককে আটকে রেখেছে। তাই তিনি সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে বলেন খাবার জাতীয় পন্যের সেসব গাড়ি সেসব গাড়ি যেন আটকে না রাখে। তাছাড়া তিনি একা না এরকম আরো গাড়ি আটকে আছে ।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া সহকারী ঘাট ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) রুহুল আমিন জানান, কাঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দৌলতদিয়ায় যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়েছিল, কাঠালবাড়ী-শিমুলিয়া রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় আজ দৌলতদিয়ায় গতকালের চাইতে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কম। দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় যাত্রীবাহি বাস ও পন্যবাহী ট্রাক মিলে ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন গাড়ি সিরিয়ালে রয়েছে। যানজট নিরসনে এ রুটে ছোট-বড় ২১টি ফেরি চলাচল করছে এবং চারটি ফেরি ঘাটই সচল রয়েছে।

(Visited 34 times, 1 visits today)