রাজবাড়ীর এসপি’র তৎপড়তায় আ:লীগ নেতা ওয়াজেদের হত্যা রহস্য উন্মচন, গ্রেপ্তার ১-

 

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

নিজ বাড়ী থেকে অস্ত্রের মুখে চরমপন্থীরা অপহরণ করে নিয়ে যায় রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী সেখ (৬০) কে। এর পর ওয়াজেদের মেলেনি কোন খোঁজ। ওই ঘটনার ১৮ দিন পর গ্রেপ্তার করা হয় চরমপন্থী সদস্য মোতাহার কাজী (৪০) কে। আর তাকে গ্রেপ্তারের পরই বেড়িয়ে আসে ওয়াজেদ হত্যার মূলরহস্য। গত মঙ্গলবার বিকালে মোতাহারকে রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির কারা হলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি কিভাবে এবং কি কারণে ওয়াজেদকে হত্যা করা হয়েছে তারও বর্ণনা দিয়েছেন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলার কালুখালী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই নিজাম উদ্দিন জানান, গত সোমবার রাতে জেলার কালুখালী উপজেলার মোহনপুর এলাকা থেকে মোতাহারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোতাহার একই উপজেলার চররাজাপুর গ্রামের মফিজ কাজীর ছেলে। গ্রেপ্তার হওয়া মোতাহার আদালতে তার জবানবন্দি প্রদান করেছেন। ওই জবানবন্দিতে মোতাহার বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় ওয়াজেদ আলী ছিলেন স্থানীয় ভাবে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। যে কারণে প্রয়োজনে বেশিরভাগ মানুষ ছুটে যেতেন ওয়াজেদের বাড়ীতে। আর ওয়াজেদ আলি ওই সুযোগটিই নিতেন। তিনি (মোতাহার) নিজেও তিন বিঘা খাস জমি বন্দবস্ত নেবার জন্য ওয়াজেদ আলীকে মোটা অংকের অর্থ প্রদান করেন। অথচ ওয়াজেদ ওই জমি তার নামে না দিয়ে অন্য এক জনের নামে করিয়ে দেয়। তা ছাড়া দীর্ঘ দিনেও ওয়াজেদ ওই টাকা তাকে ফেরৎও দিচ্ছিল না। ফলে তিনি ওয়াজেদেও উপর ক্ষিপ্ত হন। অপরদিকে, চরমপন্থীরা একাধিকবার ওয়াজেদের কাছে চাঁদা দাবী করে। ওয়াজেদ চরমপন্থীদের কথায় কর্ণপাত করাতো দুরের কথা বিষয়টি আমলেই নেননি। ফলে তার উপর চরমপন্থীরাও তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। যে কারণে মোতাহার চরমপন্থীদের সাথে হাত মেলান। তারা ওয়াজেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। যার অংশ গত ১৯ আগষ্ট রাত ১২ টার দিকে ১৪ জনের একদল চরমপন্থী সদস্য পাবনা জেলার আমিনপুরের পদ্মা নদীর একটি চরে মিলিত হন। তারা সে সময়ই একটি ট্রলার যোগে নদী পর হয়ে ওয়াজেদ আলীর বাড়ীর এলাকায় প্রবেশ করেন। ওয়াজেদের বাড়ীর চারপাশে সে সময় বন্যার পানিতে প্লাবিত অবস্থায় ছিলো। ফলে তাদের ট্রলারটি ওই বাড়ীর পাশে অবস্থান নেয়। তারা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণের পর দিন ভোর ৪টার দিকে ওই বাড়ীতে অভিযান শুরু করে। সে সময় ওয়াজেদ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলো। তারা জোর পূর্বক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই বাড়ীর অন্যান্য সদস্যদের জিম্মি করেন এবং ওয়াজেদকে অপহরণ করে ওই ট্রলারে নিয়ে তোলে। তারা মাঝ নদীতে পৌছার পর পরই ওয়াজেদকে জবাই করেন এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখমের পর লাশ নদীর তীব্র ¯্রােতের মধ্যে তারা ফেলে দেয়। এরপর তারা পর পর তিনটি ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বিজয় উল্লাস করে পাবনার দিকে চলে যায়। যাবার পথে একটি চরে তাকে চরমপন্থীরা নামিয়ে দেয়। পরে তিনি পরিস্থিতি বুঝে এলাকায় ফিরে আসেন।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার সালমা বেগম পিপিএম বলেন, ওয়াজেদ আলী অপহরণের জেলা পুলিশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উন্মচন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক বার নৌ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের অব্যাহত তৎপড়তার কারণেই ঘাতক মোতাহারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একই সাথে মোতাহার আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছে। মাত্র ১৮ দিনে মাথায় তারা ওয়াজেদ আলী হত্যা রহস্য উন্মচন করতে পেরেছেন। তিনি আরো বলেন, ওই অপহরণের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাবনার আমিনপুর থানায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়ায় আরো দুইজনকে শোন-এরেষ্ট করা হয়েছে। তারা হলো, পাবনার চর দূর্গাপুরের মৃত সাত্তার সরদারের ছেলে আতিয়ার সরদার (২৫) ও একই গ্রামের কোরবান ব্যাপারীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৩)।
উল্লেখ্য, ওয়াজেদ আলী সেখ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের বন্যাকবলিত চররাজপুর গ্রামের মৃত তোরাপ সেখের ছেলে। অপহরণের ঘটনায় ওয়াজেদের ভাতিজা মোকলেছ শেখ বাদী হয়ে কালুখালী থানায় অজ্ঞাত ৭/৮ জন চরমপন্থীদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

(Visited 200 times, 1 visits today)