১৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হচ্ছে ঘাটে, গোয়ালন্দে ভয়াবহ যানজট-

আজু শিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :


সপ্তাহ জুড়ে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দূর্বিসহ যানজট অব্যাহত আছে। শুক্রবার এ যানজট পরিস্থিতি স্মরণকালের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারন করে।
শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত নদী পার হতে আসা যানবাহনের সারি মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। এদিকে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৬ কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ মোড় এলাকা থেকে লোকাল যানবাহন আটকে দেয় পুলিশ। এতেকরে ওই সকল যানবাহনে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ব্যাগ-বোঝা নিয়ে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ঘাটে পৌছাতে বাধ্য হয়। এ সকল যাত্রীদের দূর্ভোগ ছিল চেখে পড়ার মত।
গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় একটি দোকানের সামনের মাচার উপর শুয়ে থাকতে দেখা যায় খুলনার রূপসা এলাকার বাসিন্দা রুবি আক্তার (২৭), ঝুমুর খাতুন (৩০) ও মুরশিদার আক্তারকে (২৫)। তারা জানান, তারা রাজধানীর পোষাক কারখানায় কাজ করেন। দৌলতদিয়া ঘাটে ২০/২২ ঘন্টা সিরিয়ালে আটকে থাকার কথা শুনে তারা খুলনা থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে লোকাল বাসে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তাদের বাসটি গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় আসলে পুলিশ ওই বাস থেকে তাদের নামিয়ে বাসটি ঘুরিয়ে দেয়। এরপর তারা অন্য কোন যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বোঝা ব্যাগ নিয়ে এত পথ হাঁটতে গিয়ে তারা অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন।
বাগের হাটের আজিমুর গায়েন জানান, তিনি ঢাকার একটি পোষাক কারখানায় কর্মরত আছে। সেখান থেকে তারা কয়েক ৫০ জন মিয়ে একটি বাস রিজার্ভ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু তাদের বাসটি শুক্রবার সকালে গোয়ালন্দে এসে সিরিয়ালে আটকা পরে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঘাট থেকে ৭ কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনেই পরে আছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিবহনের ম্যানেজার (একে ট্রাভেল পরিবহনের ঘাট সুপারভাইজার শহিদুল ইসলাম) জানান, তাদের কোম্পানীর নৈশ কোচ গুলো রাতে এসে সিরিয়ালে আটকা পরে। সারা রাত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল কান্তি দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে বাজে মালের ট্রাক পারাপার করেছে। এতে তাদের নৈশ্য কোচসহ অন্যান্য হাজার হাজার যানবাহন ঘাটে এসে মহাসড়কে দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকা পড়েছে। এতেকরে এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় মানুষের এত দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল কান্তির সাথে ফোনে (০৭১২০২৮৪৮৪) যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ছোট ব্রিজ এলাকার প্রায় ১৩ কিলোমিটার জুড়ে যাত্রীবাহি বাসের দীর্ঘ সিরিয়াল। মহাসড়কের যানবাহনের সিরিয়ালের পাশ দিয়ে ¯্রােতের মত পায়ে হেঁটে চলেছে ঘাট মূখী মানুষ। ট্রাফিক ব্যবস্থা নাজুক থাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে একাধিক সিরিয়াল সৃষ্টি হয়ে পুরো সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে যানবাহনের আসা-যাওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে গোয়ালন্দের উজানচর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দেখা যায় স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ক্লান্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি ও শরবত পান করাচ্ছেন। এ সময় রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা রাতুল আহমেদ জানান, মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘবের জন্য তারা কয়েকজন সম্পূর্ন ব্যাক্তিগত ভাবে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে এ উদ্যোগ নেন। বিকেল পর্যন্ত ২৭০ লিটার শরবত বিতরন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ২১টি ফেরির মধ্যে দুটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে বসে আছে। বর্তমানে রুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। কিন্তু বাড়তি যানবাহনের চাপে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় টানা কয়েকদিন ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ওই রুটের যানবাহনসহ ঈদের ছুটি শেষে কর্মমুখী মানুষ ও তাদের বয়ে আনা বাড়তি যানবাহনের চাপে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, রুটে পর্যাপ্ত ফেরি চালাচল করছে। এর চেয়ে ফেরি বাড়ানো হলে তখন ফেরিজটের সৃষ্টি হবে। কেননা আমাদের ঘাট ও পন্টুন সীমিত। দুইটি রুটের যাত্রী ও যানবাহন এক রুটে হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এই যানজট ফেরি বা ঘাট সংক্রান্ত সমস্যার জন্য হচ্ছে না।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া অফিসের ব্যাবস্থাপক (বানিজ্য) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ঢাকামুখী ৩৬৪০টি বিভিন্ন যানবাহন নদী পার হয়েছে। এরমধ্যে বাস ১০৭৭টি, ট্রাক ৪৬৩টি ও ব্যাক্তিগত গাড়ি ২১০০টি। যা স্বাভানিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুন। তারপর রাস্তায় অসংখ্য যানবাহন সিরিয়ারে আটকা রয়েছে।

(Visited 142 times, 1 visits today)