কালুখালীতে এবার হাতে নাতে গ্রেপ্তার হলো ট্রেনের ডিজেল চোর চক্রের সদস্য –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এবার হাতে নাতে রাজবাড়ী অঞ্চলে চলাচলরত ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ডিজেল চোর চক্রের সদস্য ইয়াদ মোল্লা (২৫) কে গোয়েন্দা শাখার পুলিশ সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। সেই সাথে ইয়াদ মোল্লার কাছ থেকে উদ্ধার করেছে ২০লিটার চুরি করা ডিজেল। ইয়াদ জেলার কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের ইয়াছিল মোল্লার ছেলে। এর আগে ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রিয়দেশ পাতায় “ইঞ্জিন থেকে তেল চুরি” শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল।
জানাগেছে, ওই রিপোর্ট প্রকাশ পাবার পর এ অঞ্চলের রেলওয়ে বিভাগে হয়েছিল তোলপাড়া। সে সময় একাধিক তদন্ত কমিটির গঠন হয়। ওই তদন্ত কমিটির কর্তাব্যক্তিরা বেশ কয়েক দফা রাজবাড়ীতে এসে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে বন্ধ হয়নি তেল চুরি। তৎকালিন সময়ে সাময়িক ভাবে ওই চুরির ঘটনা রোধ হলেও পরবর্তীতে চোরেরা রাতের আঁধারে শুরু করে ট্রেনের ইঞ্জিনের ডিজেল চুরির কার্যক্রম। ওই রিপোর্ট প্রকাশের পর দিন রেল ইঞ্জিন গুলোর দেখভালকারী রাজবাড়ী রেলওয়ের লোক ফোরম্যান বিজয় কুমার ঘোষ রেলওয়ের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী রাজবাড়ী রেলওয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে তেল চোর চক্রের সদস্য ও জেলা সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য তাজু মেম্বার, জেলা সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের দফাদার মোসলেম মোল্লা, কালুখালী ষ্টেশন সংলগ্ন তেল ব্যবসায়ী রানা চৌধুরী ও পাংশার খালেকসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিলো।
সংশ্লিষ্ঠরা জানায়, বৃটিশ আমল থেকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের সাথে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম বাহন ট্রেন। বর্তমানে রাজবাড়ী-খুলনা, রাজবাড়ী-রাজশাহী, রাজবাড়ী-পোড়াদহ, রাজবাড়ী-ফরিদপুর, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া, রুটে বেশ কয়েকটি ট্রেন নিয়মিত ভাবে চলাচল করছে। প্রতিদিন এ ট্রেনের ইঞ্জিন গুলো খুলনার ডিপো থেকে কয়েক হাজার লিটার তেল নিয়ে রাজবাড়ীতে আসে। ইঞ্জিনের চালকরা ওই তেলের অংশ বিশেষ রাজবাড়ীর একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক তেল চোর চক্রের একাধিক সদস্য জানান, রাজবাড়ীর জেলা সদরের বেলগাছি, জেলার কালুখালী ও পাংশা রেলষ্টেশন এলাকায় তারা অবস্থান করে। তারা বস্তা বন্দি করে ৫৫ লিটারের একাধিক খালি তেলের ড্রপ জেলা সদরের সূর্যনগর এবং পাংশা রেলষ্টেশন থেকে ট্রেনের বগি ও ইঞ্জিনে তোলে। চালকরা প্রতিটি ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে প্রতিদিন ১১০ লিটার করে তেল চুরি করে তা ওই ড্রাপ গুলোতে ঢুকিয়ে রাখে। যে তেল বেলগাছি, কালুখালী ও পাংশা রেলষ্টেশনে নামিয়ে দেয়। পেট্রোল পাম্পের ডিজেলের চাইতে ট্রেনের ইঞ্জিনের ডিজেলের চাহিদা বাজারে বেশি। তাছাড়া দাম লিটার প্রতি ৪ টাকা কম হওয়ায় স্যালো ইঞ্জিন চালিত নছিমন, করিমন, পাওয়ার টিলারসহ ডিজেল চালিত যানবাহন চালকরা ওই তেল সংগ্রহ করতে অধিক ব্যস্ত থাকেন।
রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি হারুন মজুমদার জানান, ডিজেল চুরি চক্রের সদস্য ইয়াদ মোল্লার বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার সকালে রাজবাড়ীর রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন, থানার এসআই আব্দুল মমিন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন এসআই আশরাফ মোল্লা। ইয়াদ মোল্লার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইয়াদ মোল্লাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসা বাদের পর চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম এবং ট্রেন চালক ও রেলওয়ে আসাধু কোন কোন কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছেন তা জানা সম্ভব হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ের পুলিশ সুপার সিদ্দিকী তানজিলুর রহমান জানান, দীর্ঘ দিন ধরে রাজবাড়ী অঞ্চলে চলাচল রত ট্রেন থেকে ডিজিল চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরদের গ্রেপ্তার করতে তিনি রেলওয়ের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের নিযুক্ত করেন। ওই সদস্যরা গত শনিবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া থেকে ছেড়ে আসা রাজবাড়ীগামী “ভাটিয়াপাড়া-কালুখালী এক্সপ্রেস ট্রেন”টি জেলার কালুখালী রেলষ্টেশনে পৌছার পর নজরদারী শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা দেখতে পান ওই ট্রেনের পাওয়ার কার থেকে তেল তুলে তা দুইটি ড্রপে ভরা হয়েছে। তারা সে সময়ই ওই তেল জব্দ করার পাশাপাশি তেল চোর চক্রের সদস্য ইয়াদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। ইয়াদ মোল্লা মূলত ট্রেনের ডিজেল চুরি চক্রের অন্যতম ব্যক্তিত্ব তাইজুল ইসলামের তেলের দোকানের কর্মচারী। তিনি আরো বলেন, এই ডিজেল চুরি সাথে সরাসরি ট্রেনের চালকরা জড়িত। ফলে অসাধু চালকসহ সংশ্লিষ্ঠ রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সনাক্তেরও চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

(Visited 154 times, 1 visits today)