শতবাঁধা পেরিয়ে : দারিদ্রতা থাকলেও কালুখালীর কবিরের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARI - (2)-19.08
ছোট ছোট বাঁধা আর কত না বিপত্তি, তার পরও থেমে নেই আহসানুল কবির। তার স্বপ্নের কাঙ্খিত লক্ষ্য মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা শেষে ডাক্তার হওয়া। তার এ অদম্য ইচ্ছা শক্তির কারণেই দারিদ্রাতাকে পেছনে ফেলে শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্তর গুলো অতিক্রম করে এবারের এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পাবার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আব্দুস শুকুরের ছেলে কবির। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে কবির সবার ছোট। কৃষিকাজ করে আব্দুস শুকুরের পাঁচ জনের পরিবার চলে কোন রকমে। তবে বাড়ীর ছোট ছেলে হওয়ায় কবিরকে শত কষ্টেও পড়ালেখা করার খরচের যোগান বুঝতে দেয় নি তার পরিবারের সদস্যরা।
কবিরের বাবার সামান্য চাষের কৃষি জমিতে চাষ করে যা আয় তা দিয়েই সংসারসহ যাবতীয় খরচ চালাতে হয়। তাই বৃদ্ধ বাবার কৃষি কাজে সহায়তা করে কবিরের বড় ভাই কামরুল হাসান। এমনকি করির পড়াশোনার পাশাপশি মাঝে মধ্যে বাবার কাজে সহযোগীতার জন্য মাঠে যেতো।
অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর মেধা বিকাশের ফলে শিক্ষা জীবনের তৃতীয় স্থরের এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে আহসানুল কবির জিপিএ পাঁচ পাওয়াতে অভিভাবক, কলেজের শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী আনন্দে আত্মহারা।
কবিরের শিক্ষা জীবনের প্রথম স্তর ২০০৮ সালের পিএসসি পরীক্ষাতে ট্যালেন্ট ফুলে, দ্বিতীয় স্থর অর্থের অভাব দেখা দিলেও শিক্ষক, সহপাঠী, এলাকাবাসী ও অন্যন্যেদের সহযোগীতায় ২০১১ সালের জেএসসি ট্যালেন্ট ফুলে বৃত্তি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। সেই থেকে সে শিক্ষক ও শিক্ষাঅনুরাগী কিছু এলাকাবাসীর নজরে আসে কবির।
আর এ বৃত্তি পাবার ফলে তার পড়াশুনার একটু সুবিধা হওয়াতে শিক্ষা জীবনের তৃতীয় স্তর ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে এবং সফলতার সাথে বাব-মা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের আর্শিবাদে গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখা থেকে জিপিএ পাঁচ ও ৪র্থ স্তরে রাজবাড়ী সরকারী কলেজ বিজ্ঞান শাখা থেকে এবার জিপিএ পাঁচ পায়। শুধু মাত্র ইংরেজীতে নম্বর একটু কম পাওয়াতে গোল্ড্রেন প্লাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে কবির।
কবিরের এর কাছে তার ভবিষৎ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার একটা লক্ষ্য থাকে ঠিক তারও এমনি একটা লক্ষ্য আছে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবে। এ জন্য সে এইচ এস সি পরীক্ষার পর থেকেই রেটিনা কোচিং এ ভর্তি হয়েছে মেডিকেলে চান্স পেতে। তার আশা সে মেডিক্যালে চান্স পাবে। তার ইচ্ছা পুরনে সবার সহযোগীতা কামনা করেছে।
কবিরের বাবা আব্দুস শুকুর জানান, আমার ছেলে পরীক্ষায় ভাল ভাবে পাশ করেছে যাদের সহযোগীতায় আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবো। ৩ ছেলে মেয়ের মধ্যে কবির সবার ছোট। সংসার চালানোর জন্য বড় ছেলের পাশাপাশি সুযোগ পেলে কবির আমার কাজে সহযোগীতা করতো। তবে কবিরের আত্ম বিশ^াসে আজ এই অর্জন। আমি কবিরকে আরো পড়াতে চাই, ওর স্বপ্ন পুরোন করতে পারবো কি না জানিনা তবে চেষ্টা করে যাব।
রাজবাড়ী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীন জানান, আহসানুল কবিরের মত মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে সমাজের বিত্তশালী মানুষের দাঁড়ানো প্রয়োজন।

(Visited 93 times, 1 visits today)