“বাবার বাড়ীতে বেড়ানো হলোনা গৃহবধু শেলীর” ॥ বালিয়াকান্দি থানায় মামলা-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

4

ক্লিনিকে নবজাতক ভাতিজাকে দেখে স্বামীর মোটর সাইকেলে ছোট মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ীতে বেড়াতে আসছিল গৃহবধু শেলী বেগম (৩০)। তবে তার আর বাবার বাড়ীতে বেড়ানো হলো না। বাবার বাড়ী প্রবেশের এক কিলো মিটার আগেই ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ। শেলী মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার টুপিপাড়া গ্রামের রিয়াজুল ইসলামে স্ত্রী। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধের পর ঘাতক ট্রাকটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আর ওই আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ভাংচুর করার পাশাপাশি এক ফায়ারম্যানকে আহত করে। পরে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি-জামালপুর সড়কের বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল বোবার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের ভাই ও স্থানীয় আড়কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী লুৎফর রহমান জানান, তাদের বাড়ী রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নে মধুপুর গ্রামে। তার সৌদী প্রবাসি ছোট ভাই মুক্তার হোসেনের স্ত্রীর সিজারিয়ানের মাধ্যমে পাশ্ববর্তী মধুখালী উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। গতকাল সকালে তার বোন শেলী বেগম স্বামীর মোটর সাইকেলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়–য়া ছোট মেয়ে রিনিকে ওই ক্লিনিকে যান। সেখান থেকে কিছু সময় পর তাদের (বাবার) বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। মোটর সাইকেলটি তাদের বাড়ী থেকে এক কিলো মিটার দুরে জেলার বালিয়াকান্দি-জামালপুর সড়কের বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল বোবার মোড়ে পৌছতেই পেছন থেকে একটি ইটবাহী ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে শেলী সড়কের উপর পরে যায় এবং ট্রাকের চাকা তার মাথা গুড়িয়ে দেয়। ফলে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। শেলীর বড় মেয়ে রিয়া অষ্টম শ্রেণীতে পরে। তার স্বামী এনজিও ‘আশা’ এর নড়াইল জেলার রিজোনাল ম্যানেজার পদে কর্মরত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এলাকার মেয়ে শেলীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয়রা বিক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন। তারা সে সময়ই ওই সড়ক অবরোধ করার পাশাপাশি ঘাতক ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে দেড় ঘন্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
রাজবাড়ীর ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, ট্রাকে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ষ্টেশনের দ্বিতীয় কল টানা একটি পিকআপ গাড়ীতে তিনিসহ ৭ জন ফায়ারম্যান রওনা হন। ঘটনাস্থলের সাত শত গজ দুরে থাকতেই স্থানীয়রা তাদের গাড়ীতে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা গাড়ী ও তাদের লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। ইটের আঘাতে গাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয় এবং ফায়ারম্যান কামরুল হোসেন আহত হয়। তারা আর ঘটনাস্থলে না গিয়ে আহত ফায়ারম্যানকে নিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তবে সেখান থেকে তাকে রাজবাড়ী হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি কিছুটা সুস্থ্য।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, সড়ক দূর্ঘটনা এবং ট্রাকে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ওই ট্রাকের চালক ও হেলপাড়কে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। যদিও ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। শেলীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ীর মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

(Visited 99 times, 1 visits today)