রাজবাড়ীর মূলঘরে সরকারী রাস্তার পাশ থেকে শতাধিক গাছ কর্তনের অভিযোগ-

লিটন চক্রাবর্তী, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

RAJBARI - (1)-26.04

রাজবাড়ী জেলা সদরের মূলঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশ থেকে এক শ্রেণীর অর্থলোভিরা দেদার কাটছে গাছ। তাদের কেউ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বা দলের নাম ভাঙিয়ে অথবা পেশি শক্তি খাটিয়ে করছে ওই গাছ গুলো হত্যা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মূলঘর ইউনিয়নের বিলনয়াবাদ গ্রামের ওপর দিয়ে যাওয়া ” ফেলুর দোকান থেকে বানিবহ পযন্ত ” এলজিডিই’র সড়কের দুই পাশ দিয়ে ১৯৮৮ সালের বন্যার পর লাগানো হয় শিশু গাছ। ২৮ বছর বয়সী ওই গাছ গুলো এখন আকারে হয়েছে অনেক বড়। তাই বৃহৎ আকারের শিশু বৃক্ষরাজি উপর দুষ্টুচক্রের লোলুভ দৃষ্টি পরে। তারা গত এক মাসে শুধুমাত্র বিলনয়াবাদ মৌজার সড়ক সংলগ্ন এলাকা থেকেই শতাধিক শিশু গাছসহ অন্যান্য বৃক্ষরাজি কেটে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মান্নান মুসুল্লীর কথিত পিএস হিসাবে পরিচিত প্রভাবশালী ইন্তাজ আলী মাস্টারেরর ছেলে শামিম শেখের নেতৃত্বে একটি চক্র ওই গাছ কর্তন করছে। এ চক্রটি ২০ বড় শিশু গাছসহ বেশ কয়েকটি অন্যান্য ছোটবড় গাছ কর্তন করেছে।
মূলঘরের ইউপির কুঠিরহাট সংলগ্ন সোবাহান মন্ডোলের স’মিল প্রঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল বিশাল আকারের শিশু গাছের গুড়ি গুলো পড়ে আছে। স’মিলের প্রধান মিস্ত্রি পাশ্ববর্তী রুপপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম অবলিলায় স্বীকার করেন, এসব শিশু কাঠের গুড়ি গুলো রেখেছেন ইউপি চেয়ারম্যানের পিএসহিসাবে পরিচিত শামিম ও তার বন্ধু জলিল মিয়ার ছেলে জাহিদ, অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্য জমির উদ্দিন এবং অবসরপ্রাপ্ত সাইদুর মিলিটারী। তিনি আরো বলেন, এ ইউনিয়নের বিলনয়াবাদ মৌজার সরকারী সড়কের দুই পাশ থেকে কেটে আনা হয়েছে এই বড় বড় শিশু গাছ গুলো।
স’মিলের সহকারি মিস্ত্রি আব্দুর রাজ্জাক জানালেন, আরো ৮ টি শিশু গাছ তারা গত ৭ থেকে ১৫ দিনে স্টক করেছেন। যার প্রতিটি গুড়ি ৩০ ফুট সাইজের ৩’শ সি,এফ,টি হিসাবে এখানে ১১ ‘শ টাকা হিসাবে অন্তত ৩ লক্ষাধিক মূল্য বিক্রি হয়েছে। ওই সরকারী সড়কের গাছের গুড়ি শুধু এ স,মিলেই নায় জেলা সদরের গোয়ালন্দ মোড়ে থাকা অপর একটি স’মিলেও রাখা হয়েছে।
সরজমিনে বিলনয়াবাদ এলাকায় রাস্তা গুলো ঘুড়ে দেখা যায়, অশংখ্য ছোট ও মাঝারি ধরনের কেটে নেয়া গাছের গোড়া গুলো পরে আছে। আর সম্প্রতি যে সব স্থান থেকে শিশু গাছ গুলো কর্তন করা হয়েছে, সে সব স্থান গুােতে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্ত গুলো ডাল পালাসহ আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। যা কি না দেখে অনায়াসে বোঝা যায় এখানে বড়া আকারের গাছ ছিল।
ওই এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে দশম শ্রেণীর ছাত্র পিয়াল হাসান বলে, ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মরে যাওয়া শিশু গাছ গুলো জোড়ে বাতাস এলেই ভেংগে যায়। মাঝে মধ্যে তা যানবাহন ,মানুষজন, বিদ্যুতের তার আর বাড়ী ঘরের ওপর পরে। এতে বেশ কয়েক জন আহত পর্যন্ত হয়েছে। যে কারণে মরা গাছ গুলো চায়ের দোকানদার সহ অনেক এলাকাবাসি জ্বালানি হিসাবে কেটে নিয়ে গেছে। কেউ কেউ আবার গাছের গুড়ি গুলো উচ্চ দামে বিক্রি করেছে।
একই এলাকার মরহুম জলিল মিয়ার ছেলে জাহিদ মিয়া জানান, বিল নয়াবাদ মধ্যপাড়া জামে মসজিদ হেফজো খানা ও একটি ভোট কেন্দ্র নির্মানের জন্য ৪/৫ টি শিশু গাছ কাটা হয় এটি সত্য। ধর্মীয় বিষয় বলে অনুমতি নেয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে আলোচিত হাজী মোঃ ইন্তাজ উদ্দিন মাস্টার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বলে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, একটিমাত্র শিশু গাছ কাটবার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কে বা কারা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলে তার নির্দেশে গাছটি কাটা বাদ রাখি। তিনি এই গাছটি ছাড়া কোনোদিনও সরকারি গাছ কাটার চেষ্টা করেননি বলে দাবি করেন।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি মেম্বার ফজলুল হক বলেন, গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ টি গাছ কাটা হয়েছে। তবে কে বা কারা কেটেছে তা বলতে পারবো না।
এই ইউনিয়নের সাবেক সবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন ” বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মান্নান মুসল্লী এই গাছ কাটার এর মূল হোতা। তার পিএস শামিম শেখ তাদের দলবল নিয়ে শত শত মূল্যবান গাছ কেটে সাবার করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জাকের পার্টির নেতা ও মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মান্নান মুসুল্লী বলেন, তিনি ওই সব গাছ কাটার সাথে জড়িত নন। মূলত অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্য জমির উদ্দিন এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সাইদুর কোথা থেকে যেন অনুমতি এনে গাছ গুলো কেটেছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহাবুবুর রহমার বলেন, ওই এলাকার সরকারী গাছ গুলো কাটে ফেলার অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তবে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে তা বন্ধ করা হয়েছে।

(Visited 178 times, 1 visits today)