রানা প্লাজা ধ্বস : প্রতারণা করে গোয়ালন্দের ইউনুছ মেম্বার বিপাকে –

আজু শিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

Goalundo Photo 4

ভয়াবহ রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্থ সেজে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের সকলের সহানুভুতিকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউপি’র সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুছ। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় একটি চক্র নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে আদায় করে দশ লক্ষ টাকা। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ভবন ধ্বসের ইতিহাসে ঘটে সব চেয়ে বড় দূর্ঘটনা ঘটে রানা প্লাজা ট্রাজেডি। এতে নাড়া দেয় বিশ্ব বিবেককে। তারা সহায়তার হাত বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি। একই দিন একটি গাছ থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হয় গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ইউনুছ। তাকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে ২৫ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তখন চলছে রানা প্লাজায় আহত রোগীদের চরম আর্তনাদ। ঠিক তখন প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে নিজেও সেজে যান রানা প্লাজার আহত উদ্ধারকর্মী। তখন তাকে হিরো হিসেবে একাধিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা হয়। ঢাকা মেডিকেলে ৩দিন চিকিৎসার পর গুরুতর আহত ইউনুছকে বিজিএমইএ’র তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২৫ দিন চিকিৎসার পর তাকে স্থানান্তর করা হয় সাভারের বক্ষব্যাধি হাসপাতালে (সিআরপি)। সিআরপিতে তার চিকিৎসা চলে টানা ১৭ মাস। তার চিকিৎসার বাবদ বিজিএমইএ’র সমুদয় খরচ হয় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। চিকিৎসার ফলে দরিদ্র ইউনুছ প্রাণে বেঁচে যান। তবে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেন। রানা প্লাজায় দূর্ঘটনায় আহত হিসেবে তালিকাভুক্ত ইউনুছ প্রধান মন্ত্রীর দেয়া দশ লক্ষ টাকা, বিভিন্ন ব্যাক্তি ও সংগঠন হতে আরো দশ লক্ষ টাকা সহ বিভিন্ন দেশী বিদেশী সংগঠন হতে তিনি বিপুল পরিমান অর্থ সাহায্য পান।
এদিকে এলাকায় ফিরে পঙ্গু ইউনুছের প্রায় দশ লক্ষ টাকা খরচ করে দুটি মেয়ের বিয়ে দেয়া, দেবগ্রাম হতে দৌলতদিয়ার নুরু মন্ডল পাড়ায় এসে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণ, একটি গরুর ফার্ম করা সহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে তার আর্থিক সচ্ছলতার প্রকাশ পায়। এতে একটি চক্র মিডিয়ায় ঘটনা প্রকাশ ও একমাত্র ছেলেকে অপহরনের হুমকি দিয়ে দুই দফায় তার কাছ থেকে দশ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
সরেজমিন ইউনুছের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী ঝর্ণা বেগম জানান, সেদিন ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করলেও রানা প্লাজার হতাহতদের ভীড়ে গুরুতর আহত তার স্বামীকে ভেতরে প্রবেশ করানো যাচ্ছিল না। সে সময় অবস্থার বেগতি দেখে একজন নিরাপত্তাকর্মীর পরামর্শে তার মুমুর্ষ স্বামীকে তারা ঠিকানা গোপন করে রানা প্লাজায় আহত বলে ভর্তি করার সুযোগ নিতে বাধ্য হন। এরপর জীবন বাঁচানোর তাগিদে চিকিৎসা সুবিধা নিতে তারা পরিচয় গোপনই রেখে দেন। আসতে থাকে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সাহায্য সহযোগিতা। দারিদ্রতার কারণে এবং পঙ্গু স্বামী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সে লোভও ছাড়তে পারিনি।
পঙ্গু ইউনুছ মেম্বার জানান, তিনি যে ভাবে আহত হয়েছিলেন তাতে চিকিৎসা করে বেঁচে থাকা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এখন প্রাণটা বাঁচলেও সারা জীবনের জন্য শয্যাসায়ী হয়ে গেছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দেয়া এফডিআর করা দশ লক্ষ টাকাসহ অন্যান্য সংস্থা থেকে তিনি মোট ৩০ লক্ষ টাকার মত সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান।
তবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া এলাকার আবুল, উড়াকান্দার আ. করিম ও কথিত সাংবাদিক রাজু আহম্মেদ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে দুই কিস্তিতে দশ লক্ষ টাকা তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া তার নবম শ্রেণিতে পড়–য়া একমাত্র ছেলের অপহরনের ভয়ে স্কুল যাওয়াও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
প্রতিবেশী আক্কাস আলী জানান, ওই এলাকার সব চেয়ে ধনী ব্যাক্তি ইউনছ মেম্বার। তবে সে টাকা সে হাতিয়ে নিয়েছে অবৈধ পন্থায়। এ কারণে তাকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ থেকে শুরু করে নানা ভাবে চাপের মধ্যে রেখেছে বিভিন্ন মহল। এতে টাকা থাকলেও তার শান্তি নেই।

(Visited 90 times, 1 visits today)