দৌলতদিয়ার গীতিকার মোহন ফকির অনেক গানের রচয়িতা –

লিটন চক্রবর্তী, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

174128

দু’কূল বেয়ে যায়রে যখন চাঁদের আলো পায়।” এটি গানের একটি গানের লাইন। সুপ্ত প্রতিভাবান, নিজকে অনেকটা গোপন রাখা, এই গানের রচয়িতা এর অর্থ স্বরুপ বুঝাতে চাইলেন যে,চাঁদের আলোর সাথে সমুদ্রের জোয়ার ভাটার যেমন সম্পর্ক রয়েছে তেমন বন্ধু আর বান্ধবী এক সাথে বসলে রস নির্গত হয়।
এই গিতিকারের নাম মোহন ফকির। বয়স ষাটোর্ধ। আদি নিবাস পাবনা। সে পাবনার আমিনপুরের বাঘুলপুর গ্রামের মৃত আবেদ আলী ফকিরের পুত্র। তিনি বলেন, ছোটকালে হিন্দুপ্রধান এলাকায় বসবাস ছিলো তাদের।তাই শিশু কাল থেকেই ঢোল, ঢাক ও বাঁশির সুর কানে পৌছালেই উতলা হতাম এমন যেনো পাগল হয়ে যেতাম। তাদের সাথে ছোট বেলায় যাত্রা নাটক ছাড়াও সং সেজে নানা অনুস্ঠান করতাম।
এই গিতিকার ও সুরকার মোহন ফকিরের বর্তমান বসবাস রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট সংলগ্ন সামসু মাস্টারের পাড়া এলাকায়। তিনি বাসা থেকে খুব একটা বেড় হননা। তবে বাড়ী বসে লিখে যাচ্ছেন বানীভিত্তিক অনেক গান।তিনি এপর্যন্ত তিন সহস্রাধিক গান রচনা করেছেন।তবে তিনি মনে করেন অসংখ্য গান তৈরিতে কৃতিত্ব নেই।এমন গান কম লিখাও ভালো যে গানে মানুষের মন গলে,মানুষ আনন্দ পায়,মানুষ পাল্টে যায়।তাই বেশি গান রচনা কৃতিত্ব নয় ভালো গান কম সংখ্যক লিখাও কৃতিত্তপূর্ণ বটে।
মোহন ফকির সাধারনত আধ্যাত্বিক,তত্ব গিতি,দৈন গান,বিচ্ছেদের গান লিখে চলছেন।এছাড়াও আধ্যাত্বিক বানীর মাধ্যমে যৌন অনাচার সম্পর্কে সচেতনতা মূলক গান লিখেছেন তিনি। তার লিখা গান নিয়ে “দূরের পাখি “ও “পাখি কৈ ওড়ে” দুটি এলবাম প্রস্তুত করা হলেও নানা প্রতিকূলতার কারন তা অপ্রকাশিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

যখন ৩০ বয়স তখন থেকে গান রচনা শুরু করেন মোহন ফকির। তার বিশেষ গুন হচ্ছে তিনি নিজ লিখা বানীগুলো তার নামে না লিখে তার গুরুর নাম দিয়েছেন গুরুর প্রতি উৎস্বর্গ করেছেন।এক কথায় প্রচন্ড লুকায়িত প্রতিভার অধীকারি তিনি।নিজকে প্রকাশ করা তার অপছন্দ।তিনি মনে করেন সেরা হতে গান, কবিতা,ছড়া, প্রবন্ধাদি সহ কিছু লিখলেই সেরা হয়না।যেমন লালন ফকির সামান্য কিছু বানী রচনা করলেও তিনি কি কম সেরা ?
বেকার ও সারাদিন বাড়ীতে বসবাসরত এই গিতিকার ও সুরকার বসবাস করেন বিনা ভাড়ায় স্থানীয় লালন অনুরাগী ব্যাক্তিত্ব ইদ্রিস ফকিরের বাড়ীতে।তিনি দাবি করেন, স্ত্রী চাকরি করে আর কিছু বন্ধু বান্ধবের সহায়তায় সন্তান সন্ততি পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালই আছেন তিনি।আর গান রচনা করেন মানুষের অনন্ত আকাংখা পুরবার জন্য।অন্য কোন হেতুতে নয়।
এদিকে মোহন ফকিরের প্রতিভার খোঁজ পেয়ে তার কুঠিরে রোববার বিকালে উপস্থিত হন লালন একাডেমী কুষ্টিয়ার শিল্পি ও সংগীত পরিচালক বর্তমান বাউল জগতের মাত করা বর্তমান “হাওয়ার ওপর চলে গাড়ি, মনের বয়স মাত্র ষোল ” গান দুটি খ্যাত বাউল শিল্পি মোঃওয়াসিম পাগলা। তিনি মোহন ফকিরের কিছু পান্ডলিপি দেখেন এবং তাকে সুর করে গেয়ে শোনান।ওয়াসিম বাউল তার প্রতিভায় মুগ্ধ হন।
এ সময় তিনি জানান,”তার কথা সুর দুটোই চমৎকার আর মর্মস্পর্শী। এধরনের প্রতিভা কম আছে।তাই আমার ইচ্ছে রয়েছে সৃষ্টিকর্তা তৌফিক দিলে আমার নিজস্ব অর্থায়নে তার গান আমি গাবো এবং প্রকাশ করবো।এছাড়া তার মতো প্রতিভা যাতে বি,টি,ভি ও বেতারে তালিকা ভুক্তির সুযোগ পায় সেজন্য সর্বচ্চ চেষ্টা করে যাবো।এটি আমার ইচ্ছে সুতরাং তাকে সমৃদ্ধির শীর্ষে নেয়া আমার চ্যালেঞ্জ ” বলে এই তরুন বাউল শিল্পি অনুভুতি ব্যাক্ত করেন।

(Visited 56 times, 1 visits today)