কালুখালীতে আ:লীগ নেতার মার খেয়ে মহিলা কমিশনারের আত্নগোপনের অভিযোগ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ত্রাণের তালিকা ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলার পাশাপাশি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রোকনুজ্জামান কর্তৃক একই ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর ফাতেমা বেগমকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যদিও রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী শাখার সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়ার পর থেকে বাড়ীতে ফিরতে পারছেন না ওই নারী কমিশনার। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।


লিখিত অভিযোগে মহিলা মেম্বর ফাতেমা বেগম জানান, গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে করিম নামে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যেতে বলে। তিনি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাওয়া মাত্র মদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রোকনুজ্জামানসহ ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে বলে, ত্রাণের সব কার্ড তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। তিনি দিতে রাজী না হওয়ায় রোকনুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ত্রাণের তালিকা ছিনিয়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে গেলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে। ওই সময় তার শ্লীলতাহানিও ঘটায়। তার আর্তচিৎকারে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। সে সময় চেয়ারম্যান কার্যালয়ে ছিলেন না। তিনি অপর নারী ইউপি সদস্য বিউটি প্রামানিকের সাথে ছিলেন।

এর আধা ঘণ্টা পর রোকনুজ্জামান আবারও দলবল নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালিয়ে বিউটি প্রামানিককে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ খবর পেয়ে কালুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা পরিষদে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা সেখানেও হানা দিলে তিনি প্রাণভয়ে বাথরুমে পালিয়ে থাকেন। পরে একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে রাজবাড়ী এসে আত্মগোপন করেন।

গত শনিবার বিকালে ওই নারী মেম্বার আরো জানান, মুঠোফোনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার পাশাপাশি হুমকী-ধামকীও প্রদান করা হচ্ছে। ফলে তিনি বাড়ী ফিরে যেতে সাহস পাচ্ছেন না, যে কারণে তিনি আতœগোপনে রয়েছে।

মদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, ওই নারী সদস্যের যদি কোনো ভুল থেকে থাকে তা আলোচনা করে সমাধান করা যেত। এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নারী ইউপি সদস্যকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন্নাহার বলেন, নারী ইউপি সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে এসিল্যান্ডকে পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে আনা হয়। বিষয়টি দলীয় কোন্দল বলেই মনে হয়েছে। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে বিষয়টি দেখতে বলেছি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজবাড়ী শাখার সাধারণ সম্পাদক সবিতা চন্দ জানান, ঘটনাটা দুঃখ জনক। তারা নারী ওই নারী মেম্বারকে মারপিটকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদানের দাবী করেছেন।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম জানান, ঘটনাটি কালুখালী থানার ওসিকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রোকনুজ্জামান তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

(Visited 782 times, 1 visits today)