রাজবাড়ীর প্রতিবন্ধী হকার হাসেমের আকুতি –

রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

করোনা ভাইরাসের কারণে এমনিতেই সবকিছু বন্ধ। আঘাত এসেছে প্রায় সব উৎপাদন খাতেই। বড় ধাক্কা লেগেছে গণমাধ্যমের ওপরও। বিশেষ করে ছাপার পত্রিকাগুলো পরেছে বিকাপে। পত্রিকা ছাপা হচ্ছে, জেলায় জেলা পত্রিকা সর্বরাহও হচ্ছে, কিন্তু করোনা ছড়িয়ে পরতে পারে সন্দেহে কেউ পত্রিকা নিচ্ছেন না। আর সে কারণেই, সারা দেশের মতো রাজাবাড়ীতেও পত্রিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো পরেছেন বিপাকে।

“পেটে খাবার নাই, পত্রিকাও বিক্রি হচ্ছে না। তাহলে বাঁচবো কি করে। এছাড়া এখন আজ পর্যন্ত পাইনি কোন সহযোগিতা। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে পড়েছি মহাবিপদে।”
কয়েকদিন আগে রাজবাড়ী প্রেসক্লাব সংলগ্ন আজাদী ময়দানের সামনে দুইটি পত্রিকা নিয়ে অসহায়ের মত বসে থাকতে দেখা যায় রাজবাড়ী শহরের শারিরিক ও বাক প্রতিবন্ধী পত্রিকার হকার আবুল হাসেমকে। এ সময় তিনি ইশারায় তার দুঃখের কথা গুলো বুঝাতে চেষ্টা করেন। আবুল হাসেম জেলা শহরের পাবলিক হেলথ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সে পত্রিকার হকার।
আবুল হাসেম ইশারায় বুঝাতে চান, আজ কয়েক দিন ধরে সব দোকান-পার্ট, অফিস-আদালত বন্ধ। যার কারণে তিনি পত্রিকা বিক্রি করতে পারছেন না। আগে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১শ পত্রিকা বিক্রি করতে । কিন্তু এখন সেখানে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা পত্রিকা বিক্রি করছেন। বাড়ীতে স্ত্রী ও দুইটি সন্তান রয়েছে। এখন সবাই প্রায় অনাহারে দিন যাপন করছে। কষ্ট হলেও দুই সন্তানের লেখা পড়া করাচ্ছেন। এই বিপদের সময় কোন সহযোগিতা পাননি। একটু সহযোগিতা পেলে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ভাল থাকতেন।
স্থানীরা বলেন, হাসেম প্রতিবন্ধী হলেও পত্রিকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বহু বছর ধরে সে ব্যাগে করে হাতের মধ্যে নিয়ে পত্রিকা বিক্রি করেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমান রাজবাড়ীর সব কিছু বন্ধ থাকায় তার পত্রিকা বিক্রিতে ধস দেখা দিয়েছে। হাসেম সহযোগিতা পাবার মত একজন মানুষ। কিন্তু এই বিপদের সময় তিনি এখনো কোন সহযোগিতা পাননি।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, অসহায় পত্রিকার হকারদের তালিকা করা হয়েছে এবং তালিকা অনুযায়ী তাদেরকে সহায়তা দিচ্ছেন। এছাড়া চলমান অবস্থায় তিনি যদি কাউকে সামনে পান, তাহলে সেখানেই তাকে সহযোগিতা করছেন।

ফেসবুক থেকে এ ভিডিওটি দেখা না গেলে TV Rajbari লিখে ইউটিউবে সার্জ দিলেও দেখা যাবে।

(Visited 478 times, 1 visits today)