করোনার প্রতিরোধে ‘দয়া করে, ঘরে থাকুন’ – পান্থ রহমান –

সময়টা খারাপ। খুবই খারাপ। আরেকটু ঘুরিয়ে যদি বলেন; ‘এরচে খারাপ সময় নিকট অতীতে বিশ্ব দেখতে হয়নি।’ এই কথাটা আমরা যত দ্রুত অনুধাবন করতে পারবো ততই মঙ্গল। করোনা ভাইরাস আমাদের এমনই একটা কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাড় করিয়েছে যে, কেউই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারছেন না ‘আমি নিরাপদ আছি’!
এমন নয় যে, চীনের উহানে সৃষ্টি হয়েছে বলে করোনা বাকিদের মাফ করে দিচ্ছে। যেহেতু এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়; তাই এতে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউই। এর মূল কারণ, বৈশি^ক যোগাযোগ। মানুষ এখন শুধু নিজের গ-ির মধ্যেই পরে থাকে না; বরং তারা সফর করে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর সর্বোপরি ব্যবসার খাতিরে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ এখন সাধারণ ঘটনা। আর সেই সাধারণ যোগাযোগই কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসকে সুযোগ করে দিয়েছে; বিশ^ ভ্রমনের।
যে কারণে; চীনের উহান থেকে শুরু করে এই ভাইরাস জাপান, কোরিয়া, ইরান, সৌদি আরব, ইতালি, স্পেন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিশে^র পরাক্রমশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, মারা যাচ্ছেন হাজারে হাজারে। কারও প্রতি দয়া করছে না এই ভাইরাস।
মনে করার কোন কারণ নেই, আপনার প্রিয় স্বদেশ, বাংলাদেশ এর বাইরে আছে। নিদৃষ্ট করে যদি বলেন; আমাদের প্রাণের রাজবাড়ীও এই তালিকার বাইরে নয় মোটেই। বিশে^র আক্রান্ত দেশ ভ্রমনকারী কিংবা প্রবাসীদের হাত ধরে এদেশে এরই মধ্যে করোনার উপস্থিতি জানা গেছে। মারাও গেছেন অন্তত ৬ জন।
আমাদের প্রিয় জেলা রাজবাড়ীর অনেকেই বিদেশে থাকেন। কেউ ব্যবসার খাতিরে আবার কেউ প্রবাসী। তারাও ফেরত এসেছেন নিজ জেলায়। বলা হয়েছিলো; যারা ফিরবেন, তারা ঘরে থাকবেন। কিন্তু অনেকেই সে কথা রাখেননি। ফলে আশঙ্কা আছে রাজবাড়ীতেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরার। এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই, সাবধান হতে হবে সবাইকে। সবাইকে মানে, সব্বাইকেই।
প্রিয় রাজবাড়ীবাসী; আপনারা জানেন, নতুন কোন ‘হোস্ট’ বা ‘পোষক দেহ’ না পেলে অর্থাৎ মানুষের দেহে প্রবেশের সুযোগ না পেলে এই ভাইরাসটি সর্বোচ্চ দু’সপ্তাহ বাঁচতে পারে। আর সে কারণেই, বিদেশ থেকে আসা কিংবা করোনা আক্রান্তদের ১৪ দিন ঘরে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে গবেষক, বিজ্ঞানী আর চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে। তারা মনে করছেন, কম করে দু’সপ্তাহ ঘরে থেকে, নিয়মিত সাবান পানিতে হাত ধোয়ার নিয়ম মেনে চললে ভাইরাসটি মারা যাবে। আর জীবিত থাকা অবস্থায় ভাইরাসটি নতুন কারো সংস্পর্শে না এলে এটি আর ছড়াতে পারবে না।
বাংলাদেশ সরকারও এই কথাগুলোই বলে আসছে শুরু থেকে। এ জন্য সাধারণ ছুটি মিলিয়ে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা ছুটিও ঘোষণা করেছিলো সরকার। উদ্দেশ ছিলো, মানুষ ঘরে থাকবেন। কিন্তু হয়েছে উল্টো, ঢাকায় থাকা মানুষগুলো (পড়–ন প্রায় সোয়া লাখ) ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে ছুটেছেন যে যার গ্রামের পথে, শহরের পথে, বাড়ির পথে। তাতে পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এবার আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন যে যেখানে আছেন, সেখানেই তাকে অবস্থানের আরেকটা সুযোগ দিচ্ছে সরকার। ছুটি বাড়িয়ে, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আপনারা জানেন, এক দিন ছুটি মানে দেশের অর্থনীতিতে কত বড় ক্ষতি। সরকার সেই ক্ষতি স্বীকার করে নিচ্ছে। জানি, সেই ক্ষতি স্বীকার করতে হচ্ছে আপনার, আমারও। বিশেষ করে আমাদের যারা ‘ডেইলি ওয়ার্কার’ বা ‘নিত্য কর্মজীবি’ তারা ঠিক টের পান, এ ধরনের ছুটি কতটা ক্ষতির!
কিন্তু সরকার উপায়হীন। আমরা, এই মানব জাতিও উপায়হীন। আমাদের তো প্রথমে বাঁচতে হবে। যদি নাই বাঁচেন, তবে কাজ করবেন কার জন্যে? আর সে কারণেই, সরকার যে আর্জি করেছে, দয়া করে সেটা মেনে চলুন। ঘরে থাকুন। করোনো ভাইরাস মোকাবেলায় সহযোগিতা করুন। কেননা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা ছাড়া করোনা মোকাবেলা সম্ভব হবে না। আর তাই, নিজেকে তো বটেই অন্যকেও রক্ষা করুন। মানব জাতি এখন আপনার দিকে তাকিয়ে, গোটা মানব জাতির জন্য ক্ষতি হয়ে উঠবেন না।
আর তাই করোনার বিরুদ্ধে আপনার প্রিয় জেলা রাজাবাড়ী কিংবা প্রিয় দেশ বাংলাদেশের মতো গোটা মানব জাতিকে রক্ষা করতে- “ঘরে থাকুন!”

(Visited 83 times, 1 visits today)