বিদেশ থেকে রাজবাড়ীতে আগতদের বাড়ীতে “হোম কোয়ারেন্টাইন” স্টিকার লাগাচ্ছে পুলিশ ! –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ স্ব-উদ্যোগে করোনা প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে। যার অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল থেকে জেলায় বিদেশ থেকে আগত ১ হাজার ৭শত ৮৭ জনের বাড়ীতে যেতে শুরু করেছেন পুলিশ সদস্যরা। তারা শুধু যাচ্ছেনই না। ওই সব বাড়ীর বাইরে হোম কোয়ারেন্টাইন স্টিকার লাগানোর পাশাপাশি আগতের সার্বিক তথ্য সংগ্রহও তারা করেছেন। একই সাথে ২০ দিনের জন্য খরিদ্দারদের দেশের বৃহত্তর যৌনপল্লী দৌলতদিয়া আসতেও নিষেধ করে দেয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম-এর নির্দেশনায় তড়িৎ এ সব কাজ করছেন জেলা পুলিশ সদস্যরা। এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন “নাহ্ এভাবে আর হচ্ছে না। মরবি ? তো একাই মর, জেলে গিয়ে মর…। রাজবাড়ী জেলায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১৭৮৭ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে হাটে বাজারে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। শুক্রবার প্রতিটি বিদেশ ফেরত ব্যক্তির বাড়ীতে পুলিশ যাবে। কোন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে যদি নিজ থেকে কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় পাওয়া না যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ২৬৯ ধারায় মামলা রুজু করে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হবে। যার শাস্তি ৬ মাসের জেল এবং ১ লক্ষ টাকা জরিমানা।
জানাগেছে, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলার প্রতিটি থানা এবং থানা এলাকায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হাত ধোয়া কার্যক্রম এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলায় বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে হাটে বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুক্রবার প্রতিটি বিদেশ ফেরত ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ যেয়ে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় থাকায় জন্য এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হাত ধোয়া কার্যক্রম এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়াও জেলার বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের ‘করোনা ভাইরাস’ সংক্রান্ত তথ্যের ফর্ম এবং হোম কোয়ারেন্টাইন সম্বলিত স্টিকার সরেজমিনে বাড়িতে বাড়িতে টানানোর কাজ চলছে। করোনা ভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি। সুতরাং সমাজের সকল স্তরের ব্যক্তির প্রতি আহবান ‘সামাজিক দূরত্ব'(ঝড়পরধষ উরংঃধহপব) বজায় রাখুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নীতি মেনে চলুন।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম জানান, কঠোর না হলে হবে না। সরকারী ভাবে কমিটি তৈরীর মাধ্যমে বিদেশ থেকে আগতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার কথা বলা হলেও নানা জটিলতায় তা এখনো করা সম্বব হয়নি। ফলে জেলা পুলিশ দেশের এই ক্রন্তিকালে ঘরে বসে না থেকে বিদেশ থেকে আগত প্রতিটি বাড়ীতে তারা যাচ্ছেন এবং তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলছেন। তিনি আরো বলেন, ২০ দিনের জন্য খরিদ্দারদের দেশের বৃহত্তর যৌনপল্লী দৌলতদিয়া আসতেও নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। আর এই ২০ দিন যাতে যৌনকর্মীরা না খেয়ে থাকে সে জন্য তিনি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের সাথে কথা বলে জনপ্রতি ২০ কেজি করে চাউল সরবরাহেরও উদ্যোগ নিয়েছেন।

(Visited 567 times, 1 visits today)