৩ মাস ধরে ভিজিডি’র চাল বঞ্চিত ৩৮২ জন হতদরিদ্র –

আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৩৮২ জন হতদরিদ্র ভিজিডি ভোগী নারী ৩ মাস ধরে ভিজিডি’র চাল পাচ্ছেন না। খাদ্য গুদাম থেকে চাল সংগ্রহ ও বিতরন পর্যন্ত আনুসাঙ্গিক খরচের টাকার যোগান না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জানা গেছে, ছোটভাকলা ইউনিয়নে হত দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচীর আওতায় মোট ৩৮২ জন উপকারভোগী রয়েছেন। প্রতিমাসে একেকজন হতদরিদ্রকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। কিন্তু জানুয়ারি মাস থেকে চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত তাদের মধ্যে ভিজিডি’র চাল বিরতণ করা হয়নি। যদিও উপজেলা প্রশাসন থেকে ইউনিয়ন পরিষদের অনুকুলে চালের বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু খাদ্য গুদাম থেকে চালগুলো সংগ্রহ করতে গাড়ী ভাড়া ও শ্রমিকদের মুজুরী বাবদ প্রতিমাসে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু এ বাবদ সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত টাকা দেয়া হয় ৩ থেকে ৬ মাস পর পর। এ নিয়েই বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে ছোটভাকলায়। তবে অন্যান্য ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
ছোটভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, প্রতিমাসে ভিজিডি চাল সংগ্রহ ও বিতরণ করতে যা ব্যয় হয় তা এতোদিন ব্যক্তিগত ভাবেই বহন করে আসছি। কিন্তু আমার দাবী যেহেতু এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে সেহেতু তা প্রতিমাসেই দেয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।
এ প্রসঙ্গে দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান জানান, খরচের টাকা পাওয়ার আশায় বসে থাকলে গরীব মানুষকে সময় মতো ভিজিডি’র চাল দিতে পারবো না। তাই পরিষদের তহবিল থেকে আমরা খরচ করি। যখন বরাদ্দ পাওয়া যাবে তখন সমন্বয় করে নিবো। তবে প্রতিমাসের চালের সাথে খরচের টাকাটা দেয়ার ব্যবস্থা থাকলে ভাল হতো।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা ভিজিডি কর্মসূচীর সদস্য সচীব আব্দুস সালাম সিদ্দিকী জানান, এ খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা সাধারনত ৩ থেকে ৬ মাস পরপর ছাড় করা হয়। এ সময়টায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে একটু সমন্বয় করে চলা উচিত। আমাদের দিক থেকে এ ক্ষেত্রে কোন গাফিলতি নেই।

(Visited 39 times, 1 visits today)