অসহায় রিমাকে রক্ষা করলো রাজবাড়ীর এসপি –

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

জীবন সংসার থেকে ঝড়ে যাবার প্রাক্কালে মেহেরুন নেছা রিমা (২৫) নামে এতিম এক ছাত্রীকে প্রাথমিক ভাবে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম। তার প্রচেষ্টায় প্রতারক স্বামী রিমাকে পুনঃরায় বিয়ে করে কর্মস্থলের বাসায় নিয়েও গেছে। গত বুধবার রাতে রাজবাড়ী জেলা মহিলা পরিষদ কার্যালয়ে এ বিয়ে সম্পূর্ণ করা হয়।
রিমা রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের মাহাবুব আলমের মেয়ে। তার স্বামীর নাম মোঃ কাউসার আহম্মেদ (৩০)। কাউসার মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা গইউনিয়নের চরকালিকাপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। সে বর্তমানে ডাস বাংলা ব্যাংকের রাজধানী ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
রিমা বলেন, তার বাবা সাত মাস বয়সের সময় তার মাকে নানা বাড়ী ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হন। যে কারণে নানার পরিবারের সদস্যরা তার মাকে অন্যত্র দেয় বিয়ে। সে বড় হয়েছে খালার কাছে। অত্যান্ত মেধাবী হওয়ায় ছেলে বেলা থেকে প্রাইভেট পরিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ নিয়ে চালিয়ে আসছেন। ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়া অবস্থায় তিন বছর ডাস বাংলা ব্যাংকে একটি একাউন্ট খোলেন। ওই একাউন্ট খোলার কয়েকদিন পর কাউসার আহম্মেদ ডাস বাংলা ব্যাংকের সিনিয়র অফিস পরিচয় দিয়ে তার সাথে কথা বলা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে যান। টানা তিন বছর প্রেম করার পর উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিগত বছরের ৪ অক্টোবর তাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে হয়। তিনি তার তিল তিল করে জমানো অর্থসহ স্বজনদের দেয়া অর্থ থেকে ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও মালামাল উপহার পান। কিন্তু তখনও তিনি বুঝতে পারেননি কাউসার আহম্মেদের চক্রান্ত। তিনি সরল বিশ্বাসে কাউছার আহম্মেদের চাওয়া অনুযায়ী কাবিন নামায় দেড় লাখ টাকা ওয়াশিল হিসেবে মেনেও নেন। এর পরই পাল্টে যায় কাউছারের আচার আচরন। তিনি বুঝতে পারেন, কাউছার অন্য কোন মেয়েতে আসক্ত। খুজে বের করেন তিনি ওই মেয়েকে, কথাও বলেন তার সাথে। এর পরই তাকে মারপিটসহ নির্যাতন শুরু করে কাউছার। একই বছরের ২১ নভেম্বর রাতে তাকে বেধড়ক মারপিট করে। সেই সাথে ২২ নভেম্বর সকালে তার চাচাতো ভাইকে ডেকে এনে স্বর্ণালংকার ও মালামাল কেড়ে রেখে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয় কাউছার। ওই সময় তিনি ঢাতার খিলগাও থানায় আশ্রয় নেন। সেখানকার উপ-পুলিশ কমিশনার কাউসারকে ডেকে আনলেও কোন রুপ সমাধান না করে কাউছার চলে যায় যায়। সে বাধ্য হয়ে নানা বাড়ী ফিরে আসে। এরই মাঝে সে জানতে পারে কাউছার তাকে এক তরফা তালাক দিয়েছে। তিনি সমাধান পেয়ে আসেন রাজবাড়ীর আদালতপাড়া। সেখানে ঘোড়াঘুরি করে জনৈক মহুরীর পরামর্শে কাউছারের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করেন আদালতে। বিত্তশালী কাউসার একাধিক আইনজীবির সহায়তায় একটি মামলায় পায় জামিন এবং অপর একটি মামলায় আদালত থেকে নেন সময়। ফলে কাউছার আনগত ভাবেই চলেযায় তার ধরা ছোয়ার বাইরে। তিনি অসহায় হয়ে পরেন। তবে খানিকটা সাহস সঞ্চয় করে তিনি স্বল্প সময়ে ঘটে যাওয়া তার জীবনের করুন কাহিনী জানাতে সক্ষম হন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএমকে। মানবিক পুলিশ সুপার তার পাশে দাঁড়ান এবং কাউসারকে ডেকে পাঠান। কাউছারকে জেলা পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা বোঝাতে চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। এক পর্যায়ে পুলিশ সুপার তাকে তার (রিমার) সাথে কথা বলার সুযোগ করে দেন। সে রাজি হয় রিমাকে ৭ লাখ টাকা কাবিন নামায় পুনঃরায় বিয়ে করতে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাডঃ দেবাহুতি চক্রবর্তী বলেন, গত বুধবার রাতে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার তাকে এই সমস্যা সামাধানের আহবান জানান। পরে ছেলে ও মেয়েকে জেলা মহিলা পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তবে সুচতুর কাউছার তার কথার জালে মজিয়ে এখান থেকে সটকে পড়ার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে তার সে মিশন ব্যর্থ হয় এবং সে পুনঃরায় রাজি হয় রিমাকে রিমাকে। পরে উভয় পক্ষের স্বজনরা, নারী নেত্রী, পুলিশ, ডাস বাংলা ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও আইনজীবিদের উপস্থিতিতে সাত লাখ টাকায় কাজী ডেকে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ে শেষে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কাউছার ঢাকার বাসায় রিমাকে নিয়ে যায়।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম বলেন, মেয়েটি অত্যান্ত অসহায়। তাকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলা হয়েছে। তাই তার তার পাশে থাকাটা ছিলো অত্যান্ত জরুরী। মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে রিমার পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন এবং তার পাশে থাকবেন। আশা করছেন তারা ভালো ভাবে তাদের সংসার পরিচালনা ও জীবন-যাপন করবেন।

(Visited 2,109 times, 1 visits today)