ভাড়া করা শিক্ষক নেয়, শিক্ষক নেতা’র ক্লাস !

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

নিজে ক্লাস না নিয়ে ভাড়া করা শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেয়াচ্ছেন একজন শিক্ষক নেতা। এমনি অভিযোগ গতকাল বুধবার দুপুরে জমা পড়েছে রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাযালয়ে। ওই শিক্ষক নেতার নাম মানিক বিশ্বাস। মানিক সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের রুপপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। একাধারে তিনি সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং স্থানীয় কুটিরহাট বাজার সমিতির সভাপতি।
অভিযোগ দায়েরকারী একই বিদ্যালয়ের অপর সহকারী শিক্ষক মোঃ আক্কাস আলী মিয়া বলেন, তিনি গত ২২ জানুয়ারী ওই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি যোগদান করেই দেখতে পান হাসি খাতুন নামে একজন প্যারা শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। তিনি হাসি খাতুনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মানিক বিশ্বাসের পরিবর্তে প্যারা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তার বেতন নিয়ম বহিভর্’ত ভাবে শ্লিপ ফান্ড (বিদ্যালয়ের ব্যয় নিবারণের জন্য সরকারী বরাদ্দ) থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষক সংকট থাকলে ম্যানেজিং কমিটি প্যারা শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে। তবে শিক্ষক পূরণ হয়ে গেছে, সে কারণে বিধি অনুযায়ী প্যারা শিক্ষক আর রাখা যাবে না। তিনি এ বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর ৫ জন শিক্ষককের পদই পূরণ হয়। তার পরও মানিক বিশ্বাস প্যারা শিক্ষক হাসি খাতুনকে বিদ্যালয়ে রাখেছেন এবং গতকাল বুধবারও হাসি খাতুন ক্লাস নিয়েছে।
ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাবেক সভাপতি কাঠ ব্যবসায়ী আলেক মিয়া জানান, বর্তমানে তার বাবা আজিজ মিয়া এ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এক বছর আগে তিনি যখন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, সে সময় মানিক বিশ্বাস তাকে জানান, তিনি যেহেতু শিক্ষক নেতা, তাই নানা কাজে বিভিন্ন সময় ব্যস্ত থাকতে হয়, সে কারণে বিদ্যালয়ে একজন প্যারা শিক্ষক নিযুক্ত করা হলে, ওই শিক্ষক ক্লাস নিতে পারতো। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অফিসারদের সাথে কথাও বলেছেন বলে তাকে মানিক জানায়। সে সময় তিনি মানিককে বলেছেন, যদি শিক্ষা অফিসাররা সম্মত থাকে, তাহলে প্যারা শিক্ষক নেয়া যেতে পারে। তবে ওই প্যারা শিক্ষককের বেতন মানিককে দিতে হবে। মানিক তাতে রাজি হয় এবং এর পরই হাসি খাতুনকে তারা রেজুলেশনের মাধ্যমে প্যারা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেন।
শিক্ষক নেতা মানিক বিশ্বাস জানান, সংগঠন নিয়ে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি তিনি ক্লাসও নেন। তিনি আরো বলেন, শ্লিপের টাকা থেকে প্যারা শিক্ষক হাসি খাতুনের বেতন দেয়া হয়নি। তিনি ব্যক্তিগত ভাবে হাসি খাতুনের বেতনের টাকার সিংহভাগ দেন বলেও স্বীকার করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম জানান, প্যারা শিক্ষক হাসি খাতুনকে বাদ দেবার জন্য বলা হয়েছে। মানিক বিশ্বাসের ক্লাস না নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দু’দিন ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন, ওই সময় তিনি মানিক বিশ্বাসকে স্কুলে পেয়েছেন।

(Visited 693 times, 1 visits today)