ওরশ যাত্রীদের পৃথক ভাবে বিদায় জানালেন রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়ার উদ্যোগে দুই হাজার ৩ শত ২৩ জন ওরশ যাত্রী নিয়ে দেশের এক মাত্র স্পেশাল ট্রেন আজ শনিবার রাত ১০টা ১১ মিনিটে রাজবাড়ী রেল ষ্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে। তবে এবারের ট্রেন যাত্রাটা খানিকটা ব্যতিক্রমী। ১১৯ বছর পর এবারই প্রথম ভারত থেকে আসা ট্রেনে করে যেতে হয়েছে ওরশ যাত্রীদের।
অপরদিকে, এবার রাজবাড়ী রেলষ্টেশনের ২নং প্লাট ফর্মে দাঁড়িয়ে থেকে দোয়া মোনাজাতে অংশ নেয়ার পর হাত নেড়ে পৃথক ওরশ যাত্রীদের বিদায় জানিয়েছেন, সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলী। তিনি রাজবাড়ী রেলষ্টেশন মাষ্টারের রুমে ওরশ যাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন নি।
ট্রেনটি যাবার পর কাজী কেরামত আলী রাজবাড়ী বার্তা ডট কম কে বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ট্রেনে ওরশ যাত্রীদের তাদের দেশে নিবে বলে জানায়। এতে খানিকটা জটিলতা হলেও সর্বশেষ আজ বিকাল ৪ টার দিকে ট্রেনটি রাজবাড়ী রেলষ্টেশনে আসে। যদিও ট্রেনটি খানিকটা চাপা এবং সিট কন্ডিশনও খুব একটা ভালো নয়। তারপরও সকল অনিশ্চিয়তা শেষে ভালো ভাবে ট্রেনটি ছেড়ে গেছে, এ জন্য তিনি শুকরিয়া জানান এবং ভারত সরকারকে অভিনন্দন জানান।


জানাগেছে, আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া রাজবাড়ীর সভাপতি কাজী ইরাদত আলী’র নেতৃত্বে এ ট্রেনটি ছেড়ে গেছে। এ ট্রেন সম্পর্কে তিনি জানান, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী ভারতের পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুরে হয়রত আলী আব্দুল কাদের সামশুল কাদের সৈয়দ শাহ্ মোরশেদ আলী আল্ কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী আল্ বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ) মশহুর -এর ১১৯ তম বার্ষিক ওরশ শরীফ উদ্যাপিত হবে। ওই ওরশ শরীফে যোগ দিতে প্রতি বছরের মত এবারও আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া রাজবাড়ীর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ে বিভাগের ব্যবস্থাপনায় রাজবাড়ী রেল ষ্টেশন থেকে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে ওরশ স্পেশাল ট্রেনটি ছেড়ে গেছে। এ জন্য রেলওয়ে বিভাগের পক্ষ থেকে ২৪ টি বগি সম্বলিত একটি ষ্পেশাল ট্রেন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওই ট্রেনে রাজবাড়ী জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পাসপোর্টধারী ২ হাজার ৩ শত ২৩ জন ওরশ যাত্রী সেখানে যাবেন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ২ শত ২০ জন, নারী ৯ শত ৩৩ জন ও শিশু ১ শত ১০ জন। ট্রেনটি আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী রাতে ওরশ শেষে রাজবাড়ী রেল ষ্টেশনে ফিরে আসবে। এ জন্য ওরশ যাত্রীদের ভিসা, ভ্রমণ কর, ট্রেন যাতায়াত ভাড়া ও অন্যান্য খরচসহ তিন হাজার ৩ শত ৫০ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথভাবে ১৯০২ সাল থেকে ওরশ যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ওরশ স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করে আসছে।

ফেসবুক থেকে এ ভিডিওটি দেখা না গেলে TV Rajbari লিখে ইউটিউবে সার্জ দিলেও দেখা যাবে।

(Visited 640 times, 1 visits today)