বিদ্যুতের লাইন টানানোর উছিলায় প্রাণ গেলো ১৫টি তাজা গাছের !

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

বিদ্যুতের লাইন টানানোর উছিলায় রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ হাট-মৃগীর সড়কের পাশে থাকা ২০ বছরের পুরনো ১৫টি তাজা মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যদিও কালুখালী উপজেলা নির্বাহি অফিসার গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেছেন। তবে তার আগেই সব কটি গাছের পুরো ডাল পালা কাটা শেষ করে ফেলেন গাছ খাদকরা।
বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ হাসান শেখ জানান, ২০ বছর আগে তৎকালিন চেয়ারম্যান মুরহুম লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় সমিতির মাধ্যমে ওই গাছ গুলো রোপন করা হয়। গাছ গুলো এখন বেশ মোটা আকারের হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য দশ লক্ষাধিক টাকা। তিনি আরো বলেন, তাকে কিছু না জানিয়ে এবং ইউনিয়নের পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া হঠাৎ করেই স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ওসমান ব্যাপারী ও তার লোকজন ১৫টি তাজা মেহগনি গাছের পুরো ডালপালা কেটে ফেলে। গতকাল সকাল থেকে গাছ গুলোর গোড়া খুড়ে তা মাটিতে ফেলতে দেখেন। তিনি শুনেছেন ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা বেগমের নির্দেশে বাংলাদেশ হাট গোরস্থান পরিচালনা কমিটি গাছ গুলো বিক্রি করেছে। সে অনুযায়ী তারা গাছ গুলো কাটছে। গতকাল দুপুরে কালুখালী উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও থানা পুলিশের সদস্যরা এই সব গাছ কাটা বন্ধ করার পাশাপাশি গাছ কাটার সাথে জড়িতদের তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছেন।
গোরস্থান কমিটির সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোবাহান মোল্লা জানান, সাম্প্রতি এই সড়কের পাশ দিয়ে বিদ্যুতের লাইনের খুটি স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। সে কারণে গাছ কেটে বিদ্যুত লাইন স্থাপনকারী শ্রমিরা নিয়ে যাচ্ছে। সে কারণে বাংলাদেশ হাট গোরস্থান পরিচালনা কমিটি সদস্যরা ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে প্রায় আধা কিলো মিটার এলাকায় থাকা গাছ গুলো কেটে নেয়ার আবেদন করে। যার প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা বেগম তাদেরকে এই গাছ কেটে নেয়ার অনুমতিদেন। বিষয়টি কালুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও জানেন।
গাছের ক্রেতা ওসমান ব্যাপারী জানান, তিনি গাছ গুলো বাংলাদেশ হাট গোরস্থান পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে ৩লাখ ৮০ হাজার টাকা কিনেছেন। ইতোমধ্যে পুরো টাকা তিনি গোরস্থান কমিটিকে প্রদান করেছেন। তবে সরকারী রাস্তার গাছ গোরস্থান কমিটি বিক্রি করতে পারে কিনা সে প্রশ্নের কোন উত্তর তিনি দিতে পারেন নি।
ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা বেগম জানান, বাংলাদেশ হাট গোরস্থান পরিচালনা কমিটিকে তিনি অনাপত্তি পত্র দিয়েছেন। সেই সাথে বলেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান যদি অনুমতি প্রদান করেন তাহলে গাছ কাটা যাবে, আর তা না হলে কাটা যাবে না। তিনি রাজধানী ঢাকায় একটি প্রশিক্ষণে রয়েছেন, এরই মাঝে গোরস্থানের লোকজন গাছ বিক্রি করে দিয়েছে এবং তা কেটেও ফেলা হয়েছে। সরকারী গাছ এভাবে কাটার সুযোগ নেই।
কালুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান টিটো জানান, বিদ্যুতের লাইন টানানোর জন্য শ্রমিকরা গাছ কেটে ফেলছে, যে কারণে তিনি বলেছেন, যার যার বাড়ীর সামনের গাছ সে সে কেটে নিয়ে যাক।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহি অফিসার শেখ নুরুল আলম জানান, জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম তাকে জানিয়েছেন কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ হাট-মৃগীর সড়কের পাশে থাকা ২০ বছরের পুরনো ১৫টি তাজা মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। সে কারণে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং গাছ কাটার সত্যতা পান। মলত সরকারী রাস্তার পাশের গাছ কাটার একটা প্রক্রিয়া রয়েছে। এই গাছ কাটায় তার কোন প্রক্রিয়াই অবলম্বন করা হয়নি। সে কারণে তিনি গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং গাছ কাটার সাথে জড়িতদের তার কার্যালয়ে আসতে বলেছেন। এই গাছ কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(Visited 129 times, 1 visits today)