মানুষ মানুষের জন্য : আসুন শিশু হাসিবুলকে বাঁচাতে এগিয়ে আসি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

হাসিবুল ব্যাপারীর বয়স ৭ বছর। মিষ্টি চেহারা। মুখে হাসির খেলা যেন তার নয়নকারা। তবে তার শরীরটা ভালো নেই। মাঝে মধ্যেই তলপেটের প্রচন্ড ব্যথায় কুকড়ে যায় সে। কেন এমন ব্যথা হয়, জিজ্ঞাসা করতেই সে বলে, আমারতো দুইটি কিডনিতেই সমস্যা। তাই এমন ব্যথা করে। তবে আমার স্কুলে যেতে, পড়াশোনা করতে ও বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করতে খুব ভালো লাগে। শরীর একটু ভালো থাকলে আমি নিয়মিত ভাবে স্কুলে যাই। আর শরীর খারাপ থাকলে বাড়ী সামনে বসে বসে বন্ধুদের স্কুলে যেতে দেখি।
হাসিবুল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের হতদরিদ্র শ্রমিক মজিবর ব্যাপারীর ছেলে। সে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের বরাট-ভাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।
হাসিবুলের মা রোজিনা বেগম বলেন, হাসিবুল তাদের একমাত্র সন্তান হলেও তাদের নেই কোন সম্পদ। তার বাবা রাজমিস্ত্রীর সহকারি হিসেবে কাজ করে কোন রকমে সংসার পরিচালনা করেন। ফলে বেশ কয়েক বছর ধরে সে কিডনি রোগে আক্রান্ত হলেও তার প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা তারা এখনো করাতে পারেননি। যে কারণে হাসিবুলকে নিয়ে তারা পরেছেন বিপাকে। প্রতিমাসে চিকিৎসার জন্য তাকে নিতে হয় রাজধানী ঢাকায়। প্রতিবার তাদের ব্যয় হয় কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। এতো টাকার সংস্থান করতে গিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। যে কারণে তিনিও জুট মিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ নিয়েছেন।
হাসিবুলের চাচি নাছিমা বেগম বলেন, হাসিবুলকে বাঁচাতে তার বাবা ও মা প্রচন্ড কষ্ট করছেন। তবে তারা যে টাকা রোজগার করেন, তা দিয়ে সংসার পরিচালনা করাই কষ্টের। ফলে অর্থাভাবে হাসিবুলের সুচিকিৎসা করা যাচ্ছে না।
বরাট ইউনিয়নের বরাট-ভাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দৈনিক কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার সহ-সভাপতি শম্পা প্রামাণিক বলেন, হাসিবুল যথেষ্ট মেধাবী একজন ছাত্র। তবে হাসিবুলের শরীরের যে অবস্থা তাতে তার উন্নত চিকিৎসা খুবই প্রয়োজন। যদিও তার বাবা মায়ের নেই সেই সামর্থ। তার শরীরের এ অবস্থা বিদ্যমান থাকলে সেরে উঠা কঠিন হবে হাসিবুলের। তাই সমাজের বিত্তবান মানুষের একটু সহযোগিতাই পারে হাসিবুলের প্রাণ রক্ষা করতে। আসুন আমরা সবাই এই ছোট্ট শিশুটির পাশে দাঁড়াই।

(Visited 94 times, 1 visits today)