রাজবাড়ী পরিবহণের মালিক ও তার সহধর্মীনি’র সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হবে প্রণতি –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

অর্থাভাবে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছিল না মেধাবী ছাত্রী প্রণতি জোয়াদ্দার। তার পাশে এসে দাঁড়ায় দৈনিক কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার সদস্যরা। শুভসংঘের সদস্যদের অনুপ্রেরণায় তাকে নিয়ে গত শুক্রবার দৈনিক কালের কণ্ঠের ১৮ পাতায় “প্রণতির ভর্তির পথে বাধা অর্থাভাব” শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর প্রণতি’র পাশে এসে দাঁড়ান রাজবাড়ী পরিবহণের মালিক ও বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী রনজিৎ সরকার টিটো এবং তার সহধর্মীনি শুক্লা সরকার। তারা প্রণতির ভর্তির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
যার অংশ হিসেবে আজ শনিবার বিকালে দৈনিক কালের কণ্ঠের রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি’র কার্যালয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার উদ্যোগে এক অর্থবিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দৈনিক কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ও রাজবাড়ী সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক সরোয়ার মোর্শেদ স্বপন। উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী পরিবহণের মালিক রনজিৎ সরকার টিটো এবং তার সহধর্মীনি শুক্লা সরকার, রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আহসান হাবিব ও শিপন আলম, জেলা শুভসংঘের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলার বরাট ভাকলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শম্পা প্রমাণিক, সদস্য ও জেলা শহরের সেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম, সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান, কাউছার আহম্মেদ রিপন, শিশু আয়ুষ সরকার ও অঙ্কুস সরকার, সাংবাদিক রুবেলুর রহমান, কাজী আনোয়ারুল ইসলাম টুটুল, এসএম হিরা প্রমুখ।
সে সময় প্রণতি জোয়াদ্দার বলেন, আজ সকাল পর্যন্তুও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবো কিনা তা নিয়ে ছিলো সংশয়। আর সে সংশয় দুর করে দিলো কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। তাদের সহযোগিতায় আমি ভর্তি হবার অর্থ হাতে পেয়েছি। এখন আর ভর্তি হতে সমস্যা থাকলো না। তিনি কালের কণ্ঠ শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
প্রণতি জোয়াদ্দার আরো জানায়, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের তারিনীনগর গ্রামের দরিদ্র কৃষক বাবা জ্যোতিস জোয়াদ্দার মারা গেছে ২০১৫ সালে। মা জোসনা জোয়াদ্দার তাকেসহ ভাই হরিদাস কুমার জোয়াদ্দার ও বোন পূর্ণিমা জোয়াদ্দারকে নিয়ে কোন রকমে সংসার পরিচালনা করছে। সে ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট। তার বড় ভাই-বোন দু’জনই মাস্টার্স শেষ করে চাকুরী না পেয়ে বাড়ীতে বসে আছে। দারিদ্রতার কারণে এসএসসি পাস করার পর তারও পড়াশোনা বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিলো। তবে রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতার কারণে সে এইচএসসি পাস করতে পেরেছে। এর পর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সে অংশ গ্রহণ করে। গত বুধবার সে জানতে পারে অর্থনীতিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তবে সে ভর্তির সুযোগ পেলেও এখন ভর্তি হতে পারছে না। কারণ ভর্তি ও আনুসাঙ্গীক বই-খাতা ও কাপর-চোপর কিনতে প্রায় ১৬ হাজার টাকা প্রয়োজন তার। এখন অত টাকা জোগার করার কোন সমর্থই নেই তার বিধবা মায়ের।
কালের কণ্ঠ শুভসংঘ রাজবাড়ী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাক আব্দুর রশিদ মন্ডল জানান, বাবার রেখে যাওয়া সামান্য জমি চাষাবাদ করে সংসার পরিচালনা করেন প্রণতির মা। যে কারণে সে এইচএসসিতে ভর্তি হতেও পারছিলো না। পরে তারা তাদের কলেজ এবং কলেজ হোষ্টেলে বিনা পয়সায় ভর্তি ও থাকার ব্যবস্থা করে দেন। যে কারণে সে এবার এইচএসসি পাস করতে সমর্থ হয় এবং কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তিরও সুযোগ পায়। তবে সে ওই বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে অর্থাভাবে। সে কারণে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ তার পাশে এসে দাঁড়ায়।

(Visited 775 times, 1 visits today)