রোগীর স্বজনদের হাতে চিকিৎসক লাঞ্চিত –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 
ডায়রিয়ার রোগীকে অক্সিজেন দিতে আপত্তি জানানোয় রোগীর স্বজনদের হাতে এক চিকিৎসক ও সহকারীরা লাঞ্চিত হয়েছেন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
লাঞ্চিত চিকিৎসক গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল বাকী। তিনি এলাকায় অত্যন্ত ন¤্র ও একজন আন্তরিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তাকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, সহকারী ও স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধনের প্রস্তুতি চলছে।
লাঞ্চিত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার উজানচর নবুওছিমদ্দিন পাড়ার ইয়াকুব মৃধার ছেলে মোসারফ হোসেনকে (২৮) তার স্বজনরা ডায়রিয়াজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আনেন। আমি তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করি। কিন্তু তার হাপানী ও এজমাজাতীয় আরো কিছু সমস্যা ছিল যা আমাদেরকে কেউ বলেনি। চিকিৎসাবস্থাতেই মোসারফ আরো দুর্বল হয়ে পড়লে এবং তার কিছু জরুরী পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়লে রাত ৮টার দিকে আমরা বাধ্য হয়ে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করি। হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি বিকল থাকায় স্বজনরা একটি ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার নিয়ে আসেন। এ সময় তারা রোগীর সাথে জরুরী বিভাগের অক্সিজেন সিলিন্ডারটি নিয়ে যাওয়ার জন্য জোড় করতে থাকেন। কিন্তু অক্সিজেনের প্রয়োজন না থাকায় আমি এবং আমার সহকারীরা তাতে বাধা দিলে তারা এলাকার প্রভাবশালী বলে আমাদের গালাগাল করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সাহিন নামের একজন কাঠের চেয়ার তুলে আমার মাথায় আঘাত করতে উদ্যত হয়। কিন্তু আমার সহকারীরা তাকে আটকানোয় আমি রক্ষা পাই। এ সময় তারা আমার সহকারীদের গায়ে হাত তোলে এবং জোর করে সিলিন্ডারটি নিয়েই যায়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, তারা সিলিন্ডারটি নিয়ে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালে একজন হার্টের রোগী আসেন। তবে তিনি তেমন গুরুতর অসুস্থ্য ছিলেন না। অন্যথায় তাকে অক্সিজেন দেয়ার প্রয়োজন পড়তো। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীদের লাঞ্চিত করা, বিনা প্রয়োজনে জোর করে হাসপাতালের অতিব জরুরী অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যাওয়া রীতিমতো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এ ঘটনায় হাসপাতালের সকলের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। থানায় মামলা এবং চিকিৎসক ও সহকারীরা মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু জানান, ঘটনা শুনে আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।

(Visited 66 times, 1 visits today)