“৬০ বছর পর” রাজবাড়ীতে এলেন বেনুশ্রী দত্ত –

সুমন বিশ্বাস, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

১৯৫৮ সালের পর কেটে গেছে ছয় দশক। দীর্ঘ ৬০ বছরে আর একত্র হওয়া হয়নি তিন ভাই বোনের। জীবনের শেষ সময়ে এসে বুকের মধ্যে জমে থাকা ছেলে বেলার সেই মধুর স্মৃতিকে পুনঃরায় উজ্জীবিত করতে জন্মভুমিতে এসে ভাইদের সাথে মিলিত হয়েছেন এক বোন। দিয়েছেন ভাই ফোটাও। আর আবেগময় মুহুর্ত গুলো চোখের জলে করেছেন প্রকাশ। ওই বোন ভাইদের কপালে ভাই ফোঁটা দেবার জন্য ভারত থেকে এসেছেন রাজবাড়ীতে। তাই জেলা শহরের কলেজপাড়ার দত্ত বাড়ীতে বাইছে এখন খুশির বন্যা।
জানাগেছে, বেনুশ্রী দত্তের বয়স ৭৭ বছর। দুই ভায়ের একজন তারাপদ দত্ত, তার বয়স এখন ৮০, আরেক ভাই দূর্গাপদ দত্ত-এর বয়স এখন ৭৪। তিন ভাইবোনের দেখা ছয় দশক পর। ছোট বেলায় ভাই ফোঁটা এলেই ভাই বোনের সম্পর্কটা আরো মধুর হত। কিন্তু বোনের বিয়ে হয় ১৯৫৬ সালে পাশের জেলা ফরিদপুরে। ১৯৫৮ সালে স্বামীর পরিবারের পারি জমায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালিগঞ্জে। সেখানেই কেটে গেছে ৬০ বছর। এর মাঝে আসা হয়নি জন্মভুমিতে। দেয়া হয়নি ভাইদের ভাই ফোঁটা। দীর্ঘ ছয় দশক পর জন্মভুমিতে এসে ভাইদের কপালে ফোঁটা দেয়া এযেন বেনুশ্রী দত্তের জীবনসায়াহ্নে বিশেষ পাওয়া।
আবেগে আপ্লুত বেনুশ্রী দত্ত বলেন, গত ২৯ অক্টোবর ছিলো তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান “ভাইফোটা”। আর সে কারণেই গত ২২ অক্টোবর তিনি তার দুই ছেলে, এক মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে চলে আসেন রাজবাড়ীর জন্মভুমিতে। দীর্ঘ ৬০ বছর পর দুই ভাই তারাপদ দত্ত ও দুর্গাপদ দত্ত কাছে পেয়ে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেননি। তার সাথে ভাই-এরাও ফেলেছেন আনন্দ অশ্রু। ফিরে গিয়েছেন তিনি সেই কৌশর জীবনে। পরিবারের সদস্যরা তাই এবার অনেকটা ঘটা করে আয়োজন করে ভাইফোটা অনুষ্ঠানের। তিনিও ভাইদের কপালে ফোটা দিয়ে প্রাণ ভারে বিধাতার কাছে করেছেন প্রার্থনা। তিনি আরো বলেন, তার এবং ভাইদের বয়স হয়েছে, আর কখনো দেখা হবে কি না তা তিনি জানেন না। তবে মনে প্রাণে তিনি এখনো জন্মভূমিকে ভালো বাসেন। সুখে শান্তিতে থাক তার ভাইয়েরা।
ভাই দুর্গাপদ দত্ত বলেন, আপন বোনের কাছ থেকে দীর্ঘ ৬০ বছর তারা ভাইফোটা নিতে পারেননি। তিনি একবার ভারতে গিয়ে বোনের সাথে দেখা করেছেন। তবে তার ভাই তারাপদ দত্তের সাথে দেখা হলো ৬০ বছর পর। ভাই বোনদের এমন মিলনের অনুভুতি কখনো বলে ব্যক্ত করা যায়না। এটা অনুভব করতে হয়। যা এখন তারা করছেন।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বেনুশ্রীর ভাতিজা দীপঙ্কর দত্ত জানান, তার দাদা প্রমথ নাথ দত্ত মারা গেছেন ১৯৮৫ সালে আর দাদি হিরণময়ি দত্ত মারা গেছেন ১৯৯৬ সালে। দাদা ও দাদীর মৃত্যুর পর ফুপু বেনুশ্রীকে দেখতে তিনি ভারত গেছেন। তবে এবার তার বাবা, চাচা ও ফুপু একত্রি হওয়ায় তারা পেয়েছেন অনেক আনন্দ। ভাই ও বোনদের এই মিলন দৃশ্য দেখে না দেখলে বোঝানো দূঢ়হ। তার ফুপু আগামী ২ নভেম্বর পুনরায় ভারত ফিরে যাবেন।

(Visited 868 times, 1 visits today)