মৌসুমি জেলেরা বেপরোয়া- রাজবাড়ীর পদ্মায় ‘মা’ ইলিশ শিকার থামছে না –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

প্রজনন মৌসুমে রাজবাড়ীর পদ্মা নদী থেকে মা ইলিশ মাছ শিকারে সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছেন না মৌসুমি জেলেরা। পদ্মা নদীতে প্রচুর পরিমানে মা ইলিশের আগমন ঘটায় ওই সব জেলেরা প্রতিনিয়ত জেল-জরিমানার ঝুকি নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এ নদীর রাজবাড়ী জেলার ৮৫ কিলো মিটার দীর্ঘ এলাকায়। ফলে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম আরো বেগমান করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
গতকাল শনিবার সকালে পদ্মা নদীর সদর উপজেলার মহাদেবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশি কিছু ছোট ট্রালার যোগে জেলে ও মৌসুমি জেলেরা মাছ শিকার করে ফিরে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন, বিগত কয়েক বছরের চাইতে এবার পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছের আগম বেশি ঘটেছে। একবার জাল ফেলার সুযোগ পেলেই ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ তারা ধরতে পারছেন। তাছাড়া এবার ইলিশ মাছের আকারও অনেক বেশি বড়। ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ এবার পাওয়া যাচ্ছে বেশি। তারা আরো বলেন, প্রশাসন চেষ্টা করছে। তবে নদীতে মাছ বেশি আসায় তাদের কথা শুনছেন না কেউ। সারা বছর সাধারণত জেলেরাই এ নদীতে মাছ শিকার করে। তবে এই সব জেলেদের সাথে এখন যুক্ত হয়েছে মৌসুমি জেলেরা। তারা এবং তাদের নিযুক্ত লোকেরা প্রশাসনের ট্রলার ও স্প্রিড বোর্ড চলাচলের প্রতি নজর রাখেন। প্রশাসনের ট্রলার দেখলে তারা তীরে ফিরে আসেন এবং ওই ট্রলার চলে গেলে তারা পুনরায় নদীতে জাল ফেলেন। দিনের চাইতে রাতে বেশি মাছ শিকার করা হচ্ছে। তাদের শিকার করা মাছ একটু কম দামে নানা কৌশলে তারা বিক্রি করছেন।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানাগেছে, মা মাছ রক্ষার জন্য তারা বেশ কিছু দিন ধরেই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত ৯ অক্টোবর থেকে নদীতে ইলিশ মাছ শিকার করা নিষেধ করা হয়। যা চলবে টানা (২২দিন) ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। তারা নিষেধাজ্ঞা শুরু আগেই রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা ও কালুখালী উপজেলার৪ হাজার ৬শ ৪০ জন জেলে সনাক্ত করে জনপ্রতি ২০ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ চাউল বিতরণ করেছেন। গতকাল শনিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত নিষধাজ্ঞার ১১ তম দিন পর্যন্ত ২২৮ জন জেলেকে নদীতে মাছ শিকার করা অবস্থায় আটক করা হয়। এর মধ্যে ২১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড এবং ১৩ জনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়, ৪টি ট্রলার জব্দ করে ৬৫ হাজার টাকা নিলামে বিক্রিও করা হয়েছে। সেই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ৯লাখ ২৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ১ হাজার ৯শত ৭৮ কেজি ইলিশ মাছ। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার সদর উপজেলার গোদার বাজার ,পাংশা, কালুখালী ,পাবনা অংশের নাজিরগঞ্জ ,গোয়ালন্দ ও দৌলতদিয়ায় অভিযান চালিয়ে ৬৮ জন জেলেকে পদ্মা নদীর বিভিন্নস্থান থেকে আটক করা হয়। এ সময় ৩১০ কেজি মাছ ইলিশ মাছ ও ৩ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পড়ে জব্দকৃত মাছ জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ এবং জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
জেলা মৎস্য অফিসার মজিনুর রহমান জানান, নদীর তীর বর্তি জেলার ৪টি উপজেলা ৮৫ কিলো মিটার এলাকায় মাত্র ১০টি ট্রলার ও স্প্রিড বোর্ড দিয়ে ইলিশ রক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। যে কারণে তারা টহল দিতে একপাশে গেলে অসাধু জেলেরা অপর পাশে ফেলেন জাল। তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা ইলিশ রক্ষার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনিও স্বীকার করেন, পদ্মায় এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় বিপুল পরিমান ইলিশের সমারহ ঘটেছে। যে কারণে জেলেদেও পাশাপাশি মৌসুমি জেলেরা জেল-জরিমানার তোয়াক্কা না করে নামছেন পদ্মায়। ফলে জনবল ও নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

(Visited 217 times, 1 visits today)