বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা- রাজবাড়ীর আসামি সকাল “মুরগী জবাই করতেও ভয় পেতো ” –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানী ঢাকার চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার অন্যতম আসামি হলো রাজবাড়ীর মেধাবী ছাত্র ইফতি মোশারফ হোসেন সকাল। সে জেলা শহরের লক্ষিকোল এলাকার মোশারফ হোসেনের ছেলে। ইফতি বুয়েটের তৃতীয় বর্ষের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ-এর শিক্ষার্থী। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক । সকাল বর্তমানে ওই মামলার ৫ নং আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে সে কারাগারে রয়েছে।
গত বুধবার দুপুরে ইফতি’র বাড়ীতে গিয়ে দেখাযায়, শুনশান নিরবতা। দেওয়াল পাকা টিনশেড বসত ঘরের দরোজায় লাগানো রয়েছে। দরোজা ও জানালা গুলো বেশ পুরনো হওয়ায় তার কিছু অংশ খেয়েছে ঘুনে। ওই সময় এগিয়ে আসেন ইফতির চাচা আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ইফতির বাবা ও মা বাড়ীতে নেই। তারা রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন।
তিনি আরো বলেন, ইফতিরা দুই ভাই। ইফতি বড় এবং তার ছোট ভাই স্বপনিল রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। ইফতির বাবাও মেধাবী ছাত্র ছিলো। অল্প নম্বরের কারণে তিনি মেডিকেলে ভর্তিও সুযোগ পাননি। যে কারণে ইফতির বাবা বাড়ীতে ফিরে আসেন এবং জেলা শহরের গোদার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেষ্ট টিচার হিসেবে শিক্ষকতার পাশাপাশি ওই স্কুলে ও নিজের বাড়ীতে একাধিক ব্যাচ করে শিশু শিক্ষার্থীদের কোচিং করার। আর ওই কোচিং থেকে তার যে আয় হয় তা দিয়ে তিনি ইফতি ও স্বপনিলের লেখাপড়া করানোর পাশাপাশি তিনি সংসার পরিচালনা করে। ইফতি পঞ্চম শ্রেণী, অষ্টম শ্রেণী, এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ক্লাস রোল কখনোই ১ ও ২ এর বাইরে যেত না। বাড়ীতে যত সময় থাকতো পড়া-পড়া ও পড়া নিয়েই থাকতো। রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে সে। ফলে বাড়ীতে আসলে সে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে যেত আরো কিছু শেখার জন্য। এসএসসি পাস করার পর ঢাকার নটরডেম কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় ইফতি। এইচএসসি পাস করার পর মেডিকেল ও বুয়েটে উভয় স্থানে সে ভর্তি হবার সুযোগ পায়। কাটা ছেড়া করতে হবে ভেবে সে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়নি। “মূলত ইফতি মুরগী জবাই করতেও ভয় পায়।”
তিনি আরো বলেন, যে ছেলে মুরগী জবাইয়ের রক্ত দেখলে আঁতকে উঠতো সে এমন ঘটনায় জড়িয়ে পরবে তা তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা ভাবতেও পারছেন না।
ইফতির চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম সজল বলেন, ইফতি খুব বিনয়ী ছেলে। সে এলাকায় কখনো কোন রাজনীতি বা দলাদলির সাথে থাকতো। বিগত ঈদের ছুটিতে সে বাড়ীতে এসেছিলো। এর পর সে আর আসেনি। বাড়ীতে আসলেও সে অনেক ছেলে মেয়েদের পড়াতো। অত্যান্ত মেধাবী হওয়ায় অনেকেই তার বাড়ী আসার খবরে আসতো। তিনি আরো বলেন, তাদের পাশাপাশি এলাকার সবাই তাকে শান্ত একজন ছেলে হিসেবে জানে।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, ইফতির নামে থানায় অথবা এলাকায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

(Visited 4,373 times, 42 visits today)