ভুয়া এজিএম সেজে রাজবাড়ীতে শিক্ষিকার টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক গ্রেপ্তার –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : হাউজ ঋণ করিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সোনালী ব্যাংকের ভুয়া এজিএম সেজে রাজবাড়ীর এক শিক্ষিকার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় ওই শিক্ষিকা বাদী হয়ে আজ শুক্রবার সকালে রাজবাড়ী থানায় একটি প্রতারনার মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার প্রধান আসামি খায়রুল ইসলাম (৫৫) কে পুলিশ গ্রেপ্তার এবং প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে দশ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। খায়রুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু উপজেলার শিতলী পশ্চিমপাড়া গ্রামের তাহাজ উদ্দিনের ছেলে।
পরিচয় প্রকাশ করতে না চাওয়া ওই শিক্ষিকা বলেন, তাদের বেতনের টাকা নিয়মিত ভাবে তারা রাজবাড়ীর সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে থাকেন। দুই সপ্তাহ আগে ব্যাটারী চালিত অটো রিকশার আমার পাশে যাত্রীর ওঠে আসামি খায়রুল। সে অটো রিকশায় উঠেই তার সাথে কথা বলতে শুরু করে এবং বলে সে রাজবাড়ীর সোনালী ব্যাংকে অল্প কিয়েকদিন হলো এজিএম হিসেবে যোগদান করেছেন। তার কথা বিশ^াস করে অটো রিকশা থেকে নেমে দু’জনে একটি দোকান থেকে চা পান করি। আর চা’পান করার সুযোগে খায়রুল ইসলাম তার মোবাইল নম্বরটি চেয়ে নেয় এবং বলে অফিসে আসবেন আমি আপনার সকল সহযোগিতা করে দেব। এর পর দিন বিকালে তাকে ফোন করে খায়রুল ইসলাম। তবে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে বলেন, আপনী ৩০ লাখ টাকা হাউজ ঋণ নিলে আমি ব্যবস্থা কওে দিতে পারবো। তিনি তখন তার প্রস্তাবে সারা দেন এবং ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেন। পর দিন সে আবারও ফোন দিয়ে ঋণের বিষয়ে কথা বলে। সেই সাথে বলে বাড়ীতে ভুলে আমি আমার ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ফেলে এসেছি, রাজবাড়ীতে আমার নেই কোন পরিচিত মানুষ। সে কারণে আপনী আমাকে কিছু টাকা হওলাত দিলে উপক্রত হবো। তিনি সরল বিশ^াসে তাকে রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজের সামনে থাকা ডাচ বাংলার এটিএম বুথের সামনে আসতে বলেন এবং তাকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। একই ভাবে নানা অজুহাতে মাত্র চার দিনে তার কাছ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা খায়রুল গ্রহণ করে। পরে তিনি ব্যাংকে খোজ নেন এবং জানতে পারেন নতুন কোন অফিসার যোগদান করেনি। ফলে তিনি সতর্ক হন এবং নতুন করে আরো ৫০ হাজার টাকা চাইতেই তিনি তাকে আসতে বলেন। সেই সাথে বিষয়টি তিনি রাজবাড়ী থানা পুলিশেকে অবহিত করেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজের সামনে থাকা ডাচ বাংলার এটিএম বুথের সামনে খায়রুল আসতেই তিনি তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
রাজবাড়ী থানার এসআই নাজমুল বলেন, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে খায়রুল স্বীকার করে সে একজন প্রতারক, সোনালী ব্যাংকের এজিএমের ভুয়া পরিচয় সে দিয়েছে। প্রতারনার উদ্দেশ্যে সে রাজবাড়ীতে আসে এবং জেলা শহরের বড়পুল এলাকার “গোল্ডেন আবাসিক হোটেলে” রাত্রি যাপন করে। দিনভর প্রতারনা করার চেষ্টায় থাকে মত্ব। যার অংশ হিসেবে সে এই শিক্ষিকার কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, প্রতারক খায়রুলের কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে গ্রহণ করা দশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। খায়রুল প্রতারক চক্রের মূলহোতা। তার সাথে আরো কয়েকজন রয়েছে। তাদেরও গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। তাকে গতকাল বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

(Visited 1,503 times, 3 visits today)