বিদ্যুৎ লাইন ও খুটি স্থাপনে জোড় করে টাকা আদায়, উত্তোলনকারী আটক –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীতে বিদ্যুৎ লাইন ও খুটি স্থাপনের নামে দরিদ্র বাসিন্দাদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলন করা অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগিদের ওই অভিযোগে প্রেক্ষিতে এবং রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম-এর হস্তক্ষেপে সদর থানা পুলিশ গত শুক্রবার রাতে টাকা উত্তোলনকারী আবু বক্কার সিদ্দিক ওরফে সিদ্দিক ফকির কে আটক করে। সেই সাথে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আজ শনিবার বিকালে ২১ জন ভুক্তোভোগিদের কাছ থেকে নেয়া প্রায় ৩০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে সিদ্দিক ফকিরের স্বজনরা।
সরজমিনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের গোপিনাথদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কামালদিয়া ব্রীজ থেকে মহম্মদপুর কাঁচা রাস্তার পাশ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন ও খুটি স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে।
সে সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গোপিনাথদিয়া গ্রামের মৃত ফোকন ফকিরের ছেলে আবু বক্কার সিদ্দিক ওরফে সিদ্দিক ফকির (৫০) একজন প্রভাবশালী মানুষ। তার বাড়ীতে বিভিন্ন সময় অপরিচিত সন্ত্রাসীরা আসা-যাওয়া করে। যে কারণে তাকে দেখে এলাকার মানুষ ভয় পায়। সে গত এক মাস ধরে তার কয়েকজন সহযোগিকে নিয়ে তাদের এলাকায় বিদ্যুতের খুটি ও তার স্থাপনের চলমান কাজকে দেখিয়ে প্রতিটি বাড়ী থেকে বিভিন্ন অংকের অর্থ উত্তোলন করেছেন।
ভুক্তভোগি জাহাঙ্গীর মোল্লার কাছ থেকে এক হাজার টাকা, শাহিদা বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, ফারুকের কাছ থেকে পাঁচ শত টাকা, পারভীন বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে দুই হাজার পাঁচ শত টাকা, সফিয়া বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, মাজেদা বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, সীমা বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, কুরমানের কাছ থেকে পাঁচ শত টাকা, কলি বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, পারভীন বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, মর্জিনা বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, মান্নানের কাছ থেকে এক হাজার টাকা, হোচেনের কাছ থেকে পাঁচ শত টাকা, হালমা বেগমের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা, রজিনা বেগমের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা, রেজিয়া বেগমের কাছ থেকে দুই হাজার পাঁচ শত টাকা, সিদ্দিকের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা, মোঃ আরমানের কাছ থেকে পাঁচ শত টাকা নেয়া সহ অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরো টাকা জোড়পূর্বক আদায় করেছে।
রাজবাড়ী ওয়েস্ট পাওয়ার জোন কোম্পানী লিমিটেড (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জানান, গ্রামাবাসির কাছ থেকে বিদ্যুৎ অফিসের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়েছে। যারা অর্থ প্রদান করেছে তাদের ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ প্রদান করেন।
অপরদিকে, জেলার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাজবাড়ী বার্তার করা রিপোর্টের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারেন জেলার কৃতিসন্তান ফ্রান্স প্রবাসি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম। তিনি ওই রিপোর্টও প্রকাশের পর পরই তৎপর হন এবং বিষয়টি রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএমকে অবহিত করেন এবং দালাল আবু বক্কার সিদ্দিক ওরফে সিদ্দিক ফকিরকে আটক পূর্বক ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরৎ দেবার অনুরোধ জানান।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম-এর নির্দেশনায় সদর থানা পুলিশ গত শুক্রবার রাতে টাকা উত্তোলনকারী আবু বক্কার সিদ্দিক ওরফে সিদ্দিক ফকির কে আটক করেছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গতকাল বিকালে আবু বক্কার সিদ্দিক ওরফে সিদ্দিক ফকিরের পরিবারের সদস্যা ভুক্তোভোগিদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছেন।
এদিকে, টাকা ফেরৎ পেয়ে ভুক্তোভুগিরা রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয় হস্তক্ষেপ না করলে তারা এই টাকা ফেরৎতো পেতেনই না বরং আরো টাকা তাদের দিতে হতো।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম দালাল ও দূর্ণীতিবাজদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা এ ধরণের অনৈতিক কারবার এখনো করছেন তারা তা বাদ দেবেন। নতুবা অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(Visited 443 times, 2 visits today)