চলন্ত মাইক্রোবাসে সোনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা,কালুখালীর আরেক আসামি আনিছুর গ্রেপ্তার –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ফরিদপুরের সিএ্যান্ডবি ঘাট এলাকা থেকে আকলিমা বেগম ওরফে সোনিয়া (৩০) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগে গত সোমবার রাতে মোঃ আনিছুর রহমান (২২) আরো একজনকে র‌্যাব-৮ সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। আনিছুর রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মোহনপুরের মৃত আব্দুল কুদ্দুস শেখের ছেলে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে মোঃ রাসেল দেওয়ান (১৫) নামে এক কিশোরকে র‌্যাব-৮ সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। রাসেল রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের মোঃ তাইজুল দেওয়ানের ছেলে।
র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক মেজর শেখ নাজমুল আরেফিন পরাগ জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে পুলিশ ফরিদপুর কোতয়ালী থানাধীন স্বজনী রায়ের ডাঙ্গী গ্রামের জনৈক নান্নু চেয়ারম্যানের লেক সংলগ্ন সিএ্যন্ডবি ঘাট হতে আকলিমা বেগম ওরফে সোনিয়া নামে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করে। সেই সাথে এ বিষয়ে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে একটা ক্লুলেস হত্যা মামলা দায়ের হয়। ওই মামলা দায়েরের পর হতে ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্প এই ক্ললেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্প গোয়েন্দ তথ্যের ভিত্তিতে ওই হত্যা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত একজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় এবং গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে র‌্যাব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানাধীন চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে অভিযুক্ত মোঃ রাসেল দেওয়ান কে আটক করে। এই সময় অভিযুক্তের নিকট থেকে একটা মোবাইল ফোন ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি মাক্রোবাস উদ্ধার করা হয়। রাসেলকে গ্রেফতারের পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর তাকে বিজ্ঞ আদালতে তোলা হয়। সে সোনিয়া হত্যান্ডের বিস্তারিত বর্ননা দিয়ে সিআরপিসি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে। রাসেলের জবানবন্দীতে উক্ত হত্যাকান্ডে মোঃ আনিস শেখ (২৩) ও মোঃ ছালাম (৩৫) জড়িত আছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

এর পর থেকে ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্প পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যহত রাখে এবং জানতে পারে যে আসামী মোঃ আনিস শেখ (২৩) ঘটনার পর থেকে রাজশাহী ও পাবনা এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। আজ ১ অক্টোবর মঙ্গলবার ভোর রাতে ফরিদপুর র‌্যাব ক্যাম্প গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে যে, আসামী আনিস শেখ ফরিদপুর নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের প্রেক্ষিতে ভোরে ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন নিউমার্কেট এলাকা হতে মোঃ আনিছুর রহমান আটক করে।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ভিকটিম আকলিমা বেগম ওরফে সোনিয়া হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলো বলে স্বীকার করে এবং জানায় যে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকালে সে ও আসামী ছালাম আকলিমা বেগম ওরফে সোনীয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ছালাম তার দোকান থেকে লোহার রড নিয়ে এবং একটা মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আসামীগন ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা করে। মোবাইল ফোনে আকলিমার সাথে যোগাযোগ করে মোঃ আনিস শেখ শিবরামপুর থেকে আকলিমাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় এবং আকলিমাকে গাড়িতে তোলার পূর্বেই ছালাম মাইক্রোবাসের পেছনের ছিট ও ডালার ফাকে লুকিয়ে পরে। পরে আনিস চলন্ত গাড়িতে আকলিমাকে ধর্ষন করে। ধর্ষনের পরে ছালাম লুকানো স্থান থেকে বের হয়ে এসে আকলিমাকে লোহার রড দিয়ে মারপিট করে, তখন আনিসও ছালামের সাথে আকলিমাকে কিল, ঘুষি, লথি ও লোহার রড দিয়ে মারপিট করে হত্যাকরে। পরে আসামীগন আকলিমার লাশ নিয়ে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে ঘুরে ফরিদপুর সিএ্যান্ডবি ঘাটের নিকটে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে মাইক্রো চালিয়ে মধুখালী ও বালিয়াকান্দি দিয়ে কালুখালী পৌছায়। আনিস, ছালাম ও রাসেল কালুখালী তেল পাম্প থেকে গাড়িতে তেল নিয়ে গাড়ি আনিসের বাড়ির সামনে নদীর ধারে রেখে নদীর পানি দিয়ে সম্পূর্ণ গাড়ি খুব ভালোভাবে ধুয়ে এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে অনুমান রাত ২ টার দিকে গাড়ি মালিকের কাছে বুঝে দিয়ে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। গ্রেফতারের সময় আসামী আনিসের নিকট থেকে একটা মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

(Visited 2,195 times, 1 visits today)