চলছে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউপি নির্বাচন, অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বদ্ধ পরিকর-


আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

সারা দেশের আলোচিত-সমালোচিত গুরুত্বপূর্ণ গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর)। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। সাধারন ভোটারদের একটাই প্রশ্ন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে তো?’
এ রকম একটি পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগের দিন রোববার দফায় দফায় নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করেছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পিপিএমসহ র‌্যাব, বিজিবি, আনছারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৈঠকে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীদের অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে নির্বাচন পরিচালনার দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
রোববার বেলা ১২টায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্য ও আনছার সদস্যদের কঠোর ভাবে নির্বাচনী আচরনবিধি সমুন্নত রাখতে নির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। এরপর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে কর্তব্যরত প্রিজাইডিং অফিসার ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের দিক নির্দেশনা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলুর সভাপতিত্বে সভায় নির্বাচনী পরিবেশ ও আইন সমুন্নত রাখতে সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে জানিয়ে ভয়ভীতির উর্দ্ধে থেকে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সভায় পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ দু’টি নির্বাচন নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিরূপ ধারনা আছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নির্বাচন নিরপেক্ষ না হওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। যাদের মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা আছে আগামী ১৭ তারিখে তাদের এই ধারনা ভ্রান্ত বলে প্রমানিত করতে হবে।
এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী -১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী এ দু’টি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষের দাবি জানান। গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরষ্কার বিতরণ শেষে আলাপচারিতায় তিনি এ দাবি করেন। কাজী কেরামত আলী এমপি বলেন, ‘এখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসি সাহেব আছেন, আমি আপনাদের কাছে দাবি জানাচ্ছি যে, দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। এই নির্বাচন নিয়ে যেন কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে, এ ব্যাপারে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সময় প্রশাসনের উচ্চ মহল থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষপাত মুলক আচরন লক্ষ্য করা যায়। তাই আমি বলছি এখানে যেন এ ধরনের কোন অভিযোগ না ওঠে।’
জানা যায়, নদী ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ড সম্পুর্ন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতেকরে ওয়ার্ড বিন্যাস ও সীমানা জটিলতা দেখা দেয়। এ প্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের ৩ বছর পর গোয়ালন্দ উপজেলা দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন হয়েছিল ২৫ জুলাই। দীর্ঘ ৮ বছর পর ইউপি নির্বাচন, তাই নির্বাচনী এলাকায় সৃষ্টি হয়েছিল ব্যাপক প্রাণ চঞ্চলতা। কিন্তু আকষ্মিক বন্যার কারনে সেই প্রাণ চঞ্চলতায় ভাটা পড়ে। বন্যার পানিতে কয়েকটি ভোট কেন্দ্র ও আশপাশ এলাকা ডুবে যাওয়া নির্বাচনের মাত্র দুইদিন আগে গত ২৩ জুলাই নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন দু’টিতে ৫ জন চেয়ানম্যান এবং ৬০ জন সাধারন সদস্য (পুরুষ) ও ২০ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য (মহিলা) সদস্য প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। দৌলতদিয়ায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও দৌলতদিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম মন্ডল (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা আব্দুর রহমান মন্ডল (আনারস) প্রতীক নিয়ে এবং দেবগ্রাম ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ হাফিজুল ইসলাম (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আতর আলী সরদার (আনারস) ও আব্দুল মান্নান মোল্লা (ঘোড়া প্রতীক) নিয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। দৌলতদিয়া ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ২৮৩ জন এবং দেবগ্রাম ইউপিতে ১১ হাজার ১০০ জন।

(Visited 103 times, 1 visits today)