জমি লিখে না দেয়ায় ছেলে ও পুত্রবধু’র পিটুনিতে রক্তাক্ত জখম হলো মা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

বসত বাড়ীর জমি লিখে না দেয়ায় ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে তার ছেলে ও পুত্রবধু। মারাতœক আহত ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার প্রয়োজনীয়তাও ভাবায়নি তাদের। পরে স্থানীয়রা ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। যদিও চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পর বাড়ীতে ফিরে না গিয়ে ওই বৃদ্ধা অভিযোগ দায়ের করেছেন থানা পুলিশের কাছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহিদওহাবপুর ইউনিয়নের রুপপুর গ্রামের ঐতিয্যবাহি সেনবাড়ীতে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে আসা বৃদ্ধা আঞ্জু রানী সেন বলেন, তার স্বামী মুকুল সেন ছিলেন শহিদওহাবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি। মুকুল সেন ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মারা যান। তার মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানকে রেখে যান। যদিও এক মেয়েকে তিনি প্রতিবেশি দেশ ভারত এবং অপর মেয়ে ও ছেলেকে তিনি বাংলাদেশেই বিয়ে দেন। মৃত্যু আগে প্রচুর সম্পত্তির মধ্যে শুধুমধ্যে তিনি শুধুমাত্র ২৯ শতাংশের বসতবাড়ীটি তার নামে (আঞ্জু রানী) লিখে দিয়ে যান। আর এতেই বাঁধে বিপত্তি। ওই জমি লিখে নেবার জন্য ছেলে মানবেন্দ্র সেন এবং মানবেন্দ্রের স্ত্রী স্বপ্না সেন তার উপর নির্যাতন শুরু করে। কারণে অকারণে মারপিট, খেতে না দেয়াসহ নানা রকম অত্যাচার। আর এই অত্যাচার থেকে বাঁচতে কখনো ঢাকায় বসবাস করা রড় মেয়ের কাছে অথবা নিকট স্বনদের বাড়ীতে গিয়ে দিনের পর দিন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে নিজবাড়ী থেকে দুরে থাকতে মন মানে না তার। কয়েকদিন আগে তিনি ফিরে আসেন নিব বাড়ীতে। তবে বাড়ীতে আসার পর পরই ফের শুরু হয় অত্যাচার। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বাড়ীর উঠনে বসে ছিলেন। সে সময় মানবেন্দ্র ও তার স্ত্রী স্বপ্না সেন তার কাছে আসে এবং পুনরায় বাড়ীর জমি লিখে দেবার কথা বলে। এতে তিনি রাজি না হলে মানবেন্দ্র ও স্বপ্না সেন তাকে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের মারপিটের আঘাতে তার বাম পাশের কাপালের বেশ খানিকটা কেটে যায়। তিনি ছটফট করা শুরু করলে স্বপ্না বাড়ীর রান্না ঘর থেকে বটি আনতে যায় তাকে হত্যা করবে বলে। ওই সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে। তারা তাকে উদ্ধার করে। তবে মানবেন্দ্র ও স্বপ্না সেন তাকে চিকিৎসা সেবা দেবার প্রয়োজনীয়তাও দেখায়নি। পরবর্তীতে স্থানীয়রা প্রায় ১০ কিলো মিটার জেলা শহরের বড়পুল এলাকায় থাকা তার ভাগ্নিজামাই তুহিন দাস বর্ষণের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। পরে বর্ষণ তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। তার ক্ষত স্থানে তিনটি সেলাই প্রদান করা হয়েছে। ফলে তিনি মনে করেন বাড়ীতে ফিরে গেলে মানবেন্দ্র ও স্বপ্না সেন তাকে হত্যা করবে। তাই তিনি তাদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
রাজবাড়ী থানার এসআই স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, মানবেন্দ্র ও স্বপ্না সেনকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে।

(Visited 259 times, 1 visits today)