বিধবার স্থায়ী আমানত উধাও, চাপে পড়ে ১০ দিন পর টাকা হস্তান্তর –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

প্রতারণা ও তঞ্চুকতার মাধ্যমে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে রক্ষিত এক বিধবার নামীয় স্থায়ী আমানত থেকে উত্তোলনকৃত অর্ধলক্ষ টাকা অবশেষে গ্রাহককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতারণার ঘটনায় অভিযুক্ত ডাকঘরের ক্যাশিয়ার ও পিয়ন এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে শহরের ভবানীপুর এলাকার পরিবহন শ্রমিক হবিবর রহমান। রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ওই শ্রমিকের পরিবারকে ৪০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
হবিবর রহমানের স্ত্রী আকিরন নেছা জানান, তার বিবাহপোযুক্ত কন্যার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ২০১৬ সালের ২ মে তিনি ওই টাকা ৩ বছর মেয়াদী স্থায়ী আমানত হিসেবে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে গচ্ছিত রাখে। এদিকে স্থায়ী আমানতের মেয়াদ পূর্তির সাথে সাথে নিহত পরিবহন শ্রমিকের কন্যার বিয়ের কথাও পাকাপাকি হয়। বিয়ের খরচ যোগাতে তাদের গচ্ছিত আমানত উত্তোলনের প্রয়োজন হওয়ায় গত ২৬ আগষ্ট বিধবা আকিরন নেছা রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে স্বশরীরে হাজির হন। পরবর্তীতে ডাকঘরের হিসাব সহকারী মিথিলা কবীর খান’র পরামর্শ অনুযায়ী নিরক্ষর বিধাব মহিলা আরেক গ্রাহকের সহায়তায় ওই ফরম পূরন করে কাউন্টারে জমা দেন। শুরু হয় অপেক্ষার প্রহর। এরই মধ্যে টাকা প্রদানের জন্য ৩ দফায় তাগিদ দেওয়া হয়। কাউন্টার থেকে হিসাব সহকারী অপেক্ষা করতে বলেন। দুপুর দেড়টার সময় গ্রাহকরা একে একে চলে যেতে থাকলে বিধাবা আকিরন নেছা শেষবারের মত তার টাকা প্রদানের অনুরোধ জানান।
এসময় হিসাব সহকারী সাফ জানিয়ে দেন তার হিসাবে লাভ সহ ৫২ হাজার টাকা অনেক আগেই প্রদান করা হয়েছে। এনিয়ে মূহুর্তের মধ্যে ডাকঘর প্রাঙ্গনে হৈচৈ শুরু হয়। সে সময় সেখানে রাজবাড়ীর প্রবীন সাংবাদিক এম দেলোয়ার হোসেন, জেলা বার এসোসিয়েশনের আইনজীবী কেরামত আলী ও স্থানীয় বাসিন্দা আতর আলীসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
রাজবাড়ী পোস্ট মাষ্টার বিএম নাজমুল হুদা জানান, হৈচৈ শুনে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে সকলকে শান্ত করেন। এরপর ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে স্পষ্টতই দেখা যায় হিসাব সহকারী মিথিলা উত্তোলনকৃত টাকা কাউন্টার গ্লাসের সামনে অপেক্ষমান গ্রাহককে না দিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ডাক পিয়ন রাজ্জাকের হাতে তুলে দেন। পিয়ন রাজ্জাক কাল বিলম্ব ও কোন গননা ছাড়াই দ্রুত সেই টাকা অপরিচিত এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন।
এরই মধ্যে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের ভীড় বাড়লে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তাদের কথামত রাজবাড়ী জজ কোর্টের পিপি এ্যাড. মোঃ উজির আলী সেখ ও ভূক্তভোগী গ্রাহক সহ অনেকেই গত ২ সেপ্টেম্বর প্রধান ডাকঘরে গেলে টাকা ফেরত না দিয়ে তাদের সকলকেই ফিরেয়ে দেওয়া হয়। উপায়ন্ত না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্ততি নিলে ডাকঘর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা গ্রাহককে বিকেলে ডাকঘরে ডেকে এনে তার হিসাবের সমুদয় টাকা বুঝিয়ে দেন।

(Visited 618 times, 1 visits today)