সামাজিক অবক্ষয় : রাজবাড়ীর স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা বেপরোয়া –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে রাজবাড়ীতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা এখন বেপরোয়া। ওই সব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই বাড়ী থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাবার কথা বলে বের হলেও যাচ্ছে না তারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান গুলোতে। অনেককেই দিনের বেলা পাওয়া যাচ্ছে জেলা শহরের পদ্মা নদীর পার, পরিত্যক্ত ইটভাটা, পার্ক, বাগান, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন নির্জন এলাকায় জুটি বদ্ধ ভাবে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় রাজবাড়ী থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে জেলা শহরের ৩নং বেড়াডাঙ্গা এলাকার শিশু পার্কের মধ্য থেকে পুলিশ ৮জন ছাত্রী এবং ৭ জন যুবককে আটক করে। আটক যুবকদের কয়েকজন ছাত্র হলেও বেশির ভাগ, রাজমিস্ত্র, ওয়েলডিং মিন্ত্রী, অটোরিকশা চালক ও বখাটে।
জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, জেলা শহরের রাজবাড়ী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, শেরে বাংলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয়, কাজী হেদায়েত হোসেন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, অংকুর স্কুল এ্যান্ড কলেজ, ডাঃ আবুল হোসেন কলেজ, রাজবাড়ী সরকারী কলেজ, রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজ, শ্রীপুর লজ্জাতুন নেছ্ ামাদ্রাসা রয়েছে। এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ঠিক মত যায় না। তাদের জেলা শহরের পদ্মা নদীর পার, পরিত্যক্ত ইটভাটা, পার্ক, বাগান, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন নির্জন এলাকায় জুটি বদ্ধ ভাবে দেখা যায়। বিষয়টি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট হয়ে পরেছে। যদিও ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাক্রমে গণসচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে সভা সমাবেশ করা হয়। তবুও থামছে না ওই সব ছাত্র-ছাত্রীদের অপতৎপড়তা। অপর দিকে, কোন কোন অভিভাবক আগে পিছে কিছু না ভেবে অনেক দামী দামী মোটরসাইকেল স্কুল ও কলেজ পড়–য়া ছেলেদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। আর ওই সব ছেলেরা বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছে সে সব মটরসাইকেল। এতে হতাহতের মত ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়াটা জরুরী। তা না হলে জেলা শহরে শিক্ষার পরিবেশে ঘটবে বিপর্যয়।
জেলা শহরের গোদার বাজার এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, পদ্মা নদীর পারে হাজারো মানুষ আসে। তবে পরিবারের সদস্যদের সাথে আসা আর জুটি বেঁধে আসার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। স্কুল ও কলেজ ড্রেস পড়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যারা আসে তারা সকলেই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখনে আসে। তারা স্থানীয় কিছু ছেলের সহযোগিতায় ঘন্টার পর ঘন্টা নদী তীরে এবং পাশে থাকা ইটভাটার মধ্যে সময় কাটায়। কাউকে কাউকে আপত্তিকর অবস্থায়ও দেখা যায়। অথচ তারা কিছু বলতে পারেন না, সাহসও পান না।
রাজবাড়ী থানার এসআই আবু জয়েদ বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বিভিন্ন স্থনে তিনি অভিযান চালিয়েছেন। বেশির ভাগ স্থানেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও বখাটেরা পালিয়ে যায়। তবে জেলা শহরের ৩নং বেড়াডাঙ্গা এলাকার শিশু পার্কের মধ্য থেকে পুলিশ ৮জন ছাত্রী এবং ৭ জন যুবককে আটক করতে সমর্থ হন।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, জেলা শহরে আর এ অবস্থা চলতে দেয়া হবে না। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা থাকবে তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে। অথচ তারা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছেলে মেয়ে জুটি করে নির্জন স্থনে যাচ্ছে এবং তারা আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। যে ৮ জন ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে, তারা রাজবাড়ী সরকারী আদর্শ মহিলা কলেজ, ডাঃ আবুল হোসেন কলেজ ও শ্রীপুর লজ্জাতুন নেছ্ ামাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তাছাড়া যে ৭ জন যুবক আটক হয়েছে, তারা রাজমিস্ত্র, ওয়েলডিং মিন্ত্রী, অটোরিকশা চালক ও বখাটে।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল করিম বলেন, কিছু দিন আগে তিনি জেলা শহরের গোদার বাজার এলাকার পদ্মা নদীর পাড়ে গিয়েছিলেন। তার গাড়ি দেখে বেশ কয়েক জন স্কুল ড্রেস পড়া ছাত্র-ছাত্রী দৌড়ে পালিয়ে যায়। যে কারণে আটককৃতদের অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের থানায় ডেকে আনা হয়েছে এবং তাদের জিম্মায় আটককৃতদের প্রদান করা হয়েছে।

(Visited 987 times, 1 visits today)