অতিরিক্ত ডিআইজি’র বাবা এন্তাজ উদ্দিন খানের ইন্তেকাল –


সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের বাসিন্ধা ও সমাজসেবক আলহাজ্ব এন্তাজ উদ্দিন খান (৯২) ইন্তেকাল করেছেন। ( ইন্না লিল্লাহী—- রাজেউন)।
আজ শুক্রবার সকাল ৬.১৫ মিনিটে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। বাদ আছর বহরপুর মৃধার বটতলা ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে স্ত্রী- জাহানারা বেগম, বড় ছেলে ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল হোসেন খান, মেজো ছেলে মোঃ আলী মনছুর খান (১ম শ্রেণির ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী), তৃতীয়পুত্র মোঃ কাইয়ুমুজ্জামান খান (অতিরিক্ত ডি.আই.জি. বাংলাদেশ পুলিশ), চতুর্থ পুত্র মোঃ ফারুকুজ্জামান খান (অধ্যাপক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়), ছোট ছেলে ডাঃ নুরুজ্জামান খান (সহযোগী অধ্যাপক শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল) তার নাতিন জামাতা মোঃ জিয়াউর রহমান (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার), এছাড়াও তার ৭ জন নাতি এবং ৭ জন নাতনীসহ অসংখ্যগুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
আলহাজ্ব এন্তাজ উদ্দিন খান রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামে ১৯২৩ সালের ২৫ এপ্রিল খান পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। গ্রামের পাঠশালায় প্রাথমিক পাঠ শেষে তিনি রাজবাড়ী আর.এস.কে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়ন কালীন সময়ে তার পিতা আব্দুল মোমেন খান এর মৃত্য হলে মা আজিরন নেছার কথামত তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। ছাত্রাবস্থাতেই এন্তাজ উদ্দিন খান ন্যাশনাল স্টুডেন্ডস ফেডারেশন এর সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে মুসলিমলীগ এ যোগদান করেন এবং মরহুম আহম্মদ আলী মৃধা সাহেবের রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান আমলে তিনি একাধিকবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন এবং এলাকার যোগাযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ নানাবিধ সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তিনি সরাসরি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত না থাকলেও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ডাঃ এস.এ মালেক এবং তার পরিবার পরিজনবর্গ স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার বাড়ীতেই আশ্রয় গ্রহন করেছিলেন। তার বড় ছেলে মোঃ আবুল হোসেন খান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার পর তার পরিবার পাকবাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দালালদের হয়রানির শিকার হন।
এন্তাজ উদ্দিন খান ১৯৬৫ সালে বহরপুর এ.ই স্কুলের সেক্রেটারীর দায়িত্বভার গ্রহণ করার মাধ্যমে বহরপুর স্কুলটিকে নিশ্চিত বিলীন হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেন। বিদ্যালয়টি তার প্রচেষ্টায় একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বহরপুর হাট জামে মসজিদটিও তিনি নির্মাণ করেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বহরপুর ঈদগাহ, শহীদনগর ইসলামিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসা এবং শহীদনগর গোরস্থান এলাকার বৃহৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপলাভ করেছে।
এন্তাজ উদ্দিন খান ছিলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি, নিজে কখনও ভোগবিলাসী ছিলেন না তার অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তিনি তার উত্তরাধিকারীদের মানব সেবার উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছেন এবং তাদের জন্য রেখে গেছেন যথেষ্ট পরিমাণ ধন সম্পদ।

(Visited 206 times, 1 visits today)