দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তে কমেছে যানবাহণের সাড়ি, খালি যাচ্ছে ফেরী-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদে ঘর মুখো মানুষের রয়েছে উপচে পড়া চাপ। রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা থেকে লাখে মানুষ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে লঞ্চ ও ফেরিতে পার হয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার সকালের দিকে দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহণের লাইন বেশ কয়েক কিলো মিটার থাকলেও বিকালের দিকে তা কমতে থাকে। এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে অনেক খালি ফেরি পাটুরিয়া উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
আজ বিকালে চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা গরুবাহি ট্রাক চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, খানিকটা শঙ্কা নিয়ে গতকাল সকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তবে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে তার সে শঙ্কা দুর হয়েছে। বিকালের দিকে খুব একটা গাড়িই ছিলো না দৌলতদিয়া প্রান্তে। ফলে নিবিঘেœ তিনি ফেরিতে উঠতে পারেন।
রাজবাড়ীর ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর আসাদ জানান, নদীর পার হয়ে আসা যাত্রীদের নেবার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আগত পরিবহণের চাপ থাকলেও তা ছিলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। ফলে সন্ধ্যা নাগদ দৌলতদিয়া প্রান্তে গরুবাহি ট্রাক ও যাত্রীবাহি বাস গুলো সরসরি ফেরিতে গিয়ে উঠেছে।
বিআইডাব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রণি কতৃপক্ষ জানান, পাটুরিয়া প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। তাছাড়া যাত্রীরা ফেরী ও লঞ্চে পার হয়ে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে গন্তেব্য যাচ্ছে। দৌলতদিয়া প্রান্তে তেমন কোন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছেনা। দৌলতিয়া- পাটুরিয়া রুটে গতকালও ১৯ টি ফেরী চলাচল করেছে। সন্ধ্যার দিকে ফেরী গুলো প্রায় খালি অবস্থায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম জানান, দালালদের তৎপরতা বন্ধ করতে ফেরির টিকিট কাউন্টারে পরিচয় পত্র দেখিয়ে চালক বা সহকারীরা ফেরির টিকিট সংগ্রহ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ঘাটে নিয়োজিত আছেন বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমান আদালত।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় ছিলো অনেক ভালো। যে কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে তেমন কোন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তাদের পদক্ষেপের কারণে আজ বিকাল নাগদ ঘাট এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। এ অবস্থ্য বিদ্যমান থাকবে বলেও তিনি মনে করেন।

(Visited 64 times, 1 visits today)