বৈরী আবহাওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে সীমাহীন দুর্ভোগ, যানবাহণের সাড়ি-

আজু সিকদার, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

দিনভর , ফেরি সংকট ও ঘাট সমস্যার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্টরা। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পশুবাহী ট্রাকের চালক ও ব্যাপারীরাও। দীর্ঘ সময় বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়ছে কোরবানীর অনেক গরু।
ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে বুধবার সারারাত শেষে বৃহস্পতিবার দিনভর মহাসড়কে অসংখ্য যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়। সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানবাহনের সারি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে গোয়ালন্দ রেল গেট পর্যন্ত অন্তত ৬ কিমি জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এর মধ্যে কোথাও কোথাও ২/৩ লাইনেও যানবাহন আটকা পড়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। তবে সেনাবাহিনীর গাড়ী, এসি বাসসহ সকল ধরণের যানবাহনকে শৃঙ্খলার সাথে ঘাটের দিকে যেতে দেখা যায়। ঘাটের উপর চাপ কমাতে পুলিশ মহাসড়কে আটকে থাকা কয়েকশ অপচনশীল ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলোকে যমুনা সেতু দিয়ে পাড় হয়ে যাওয়ার জন্য ফেরত পাঠাতে দেখা যায়। এছাড়া যাত্রীবাহী বাস, গরুবাহী ট্রাক ও জরুরী যানবাহন ছাড়া অন্যান্য যানবাহনগুলোকে ঘাটে নতুন করে ঢুকতে না দিয়ে গোয়ালন্দ মোড় থেকে ঘুরিয়ে যমুনা সেতুর লাইনে পাঠানো হচ্ছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, আমরা যাত্রী ও কোরবানীর পশুগুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নদী পার করছি। ঈদের বাড়তি যানবাহনের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ঘাটের উপর চাপ কমাতে আগে থেকেই ঘাটে আটকে থাকা অপচনশীল পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে যমুনা সেতু দিয়ে ঘুরিয়ে দিচ্ছি। নতুন করে এ জাতীয় কোন যানবাহনকে আর ঘাটে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। দালালদের তৎপরতা বন্ধ করতে ফেরির টিকিট কাউন্টারে পরিচয় পত্র দেখিয়ে চালক বা সহকারীরা ফেরির টিকিট সংগ্রহ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ঘাটে নিয়োজিত আছেন বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমান আদালত।
সরেজমিন দেখা যায়, বুধবার সারারাত যানজট শেষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল। ফোরলেন সড়কের পশ্চিম লেন দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, কাঁচামালবাহী ট্রাক ও অন্যান্য জরুরী যানবাহন পার করা হচ্ছে। এসি বাসগুলোকেও এ লাইন দিয়ে সিরিয়ালে ঘাটের উদ্দেশ্যে যেতে দেখা যায়। এতদিন এসি বাসগুলোগুলোকে ভিআইপি মর্যাদা দিয়ে সরাসরি ফেরিতে ওঠার সুযোগ করে দেয়া হতো।
চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৯টি গরু নিয়ে আসা ট্রাক চালক আশরাফুল ইসলাম ও ব্যাপারী আতিয়ার রহমান জানান, তারা বুধবার দিনগত রাত ৩টায় এসে ঘাট থেকে অন্তত ৭ কিমি দুরে সিরিয়ালে আটকে পড়েন। বৃহস্পতিবার বেলা ২টা নাগাদ দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে এখনো প্রায় ২কিমি দুর আছি।
ঢাকা থেকে লঞ্চ যোগে আসা গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর থানার রেবা খাতুন, খোকন সর্দার, বিল্লাল সরদারসহ কয়েকজন জানান, তারা সৌখিন পরিবহনে ঢাকা থেকে এসেছেন। লঞ্চে নদী পার হয়ে দৌলতদিয়ায় এসে জানতে পারলাম এপার থেকে আমাদের বহনকারী সৌখিন পরিবহনের বাসটি সিরিয়ারে আটকে আছে।
সৌখিন পরিবহনের সুপারভাইজার জামাল হোসেন বলেন, লঞ্চ পারাপারের যাত্রীদের বহন করতে কাটা লাইনের বাসগুলোকে সরাসরি টার্মিনালে আসার সুযোগ দিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি কমতো। আমি প্রায় ৩ঘন্টা সিরিয়ালে আটকে থাকার পর টার্মিলালে আসার সুয়োগ পেয়েছি।
এ্যাম্বুলেন্স চালক আশরাফ হোসেন ও মিঠু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমরা গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে এসেছি। অথচ কাউন্টার থেকে ফেরির টিকেট দিতে টালবাহানা করে। বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আমরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. রবিউল ইসলাম জানান, কোন যানবাহন থেকে কেউ যেন অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে না পারে সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেরির টিকিটের মূল্য তালিকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এ ব্যাপারে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে এবারই প্রথম মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া পরিবহন সংশ্লিষ্টদের রেখে অপর অবৈধ কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
বিআইডব্লিটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রণি জানান, প্রাকৃতিক বৈরীতার কারণে ফেরি চলচলের সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া সকালের দিকে কয়েক ঘন্টা শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এ কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটের উপর অত্যাধিক চাপ পড়েছে। রুটে ১৯টি ফেরির মধ্যে ১৮টি চলছে। বিকল ফেরিটি দ্রতই ঠিক হয়ে যাবে আশা করছি।

(Visited 122 times, 1 visits today)