ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রাজবাড়ীর সালমা ও স্বর্ণালী কখনো জাননি ঢাকা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বড়তে শুরু করেছে। তবে আতংকের ব্যাপার হলো রাজধানী ঢাকায় না গিয়েও এ জেলার বাসিন্দারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১২ জন রোগীর মধ্যে সালমা বেগম ও স্বর্ণালী বেগম নামে দুই নারীকে পাওয়া গেছে, তারা কখনো যাননি রাজধানী ঢাকায়। তারপরও তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাদের বক্তব্য ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে সচেতনতাই পারে ডেঙ্গু থেকে মুক্তি দিতে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তৃতীয় তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থাপিত ডেঙ্গু কর্ণারে গিয়ে দেখাযায়, সেখানে ৫ জন মহিলা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের মৃত আজম মোল্লার স্ত্রী সালম বেগম (৩৫)ও রয়েছেন। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার তিনি জ¦রে আক্রান্ত হন। যে কারণে বৃহস্পতিবার তিনি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। ওই সময় চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ভর্তি হবার পরামর্শ দেন। সে সাথে রক্ত পরীক্ষার নির্দেশনা দেন। গত শনিবার বিকালে ওই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখা গেছে তার ডেঙ্গু হয়েছে।
তিনি বলেন, তার স্বামী তিন বছর আগে মারা গেছে। এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়–য়া একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করেন। তিনি কখনো রাজধানী ঢাকায় যাননি এবং ঢাকা থেকে তার কোন আতœীয়-স্বজনও ফেরেনি। সেই সাথে তিনি মশারী টানিয়েই ঘুমান। তাহলে কিভাবে এমন হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
তার পাশে থাকা আতœীয় জুলেখা বেগম বলেন, তারা এখন আতংকিত। কারণ এভাবে যদি গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু বিস্তার পায় তাহলে তারা কেমনে ভালো থাকবে। বাবা, মা, স্বামী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবে।
সালমা বেগমের পাশের সিটে অবস্থান করা সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের চর কাশিমা গ্রামের দুবাই প্রবাসি রিয়াজুল মোল্লার স্ত্রী স্বর্ণালী বেগম (২১) বলেন, তিনিও রাজধানী ঢাকায় কখনো জাননি। গত রবিবার থেকে তার জ¦র শুরু হয়। ক্রমেই জ¦র নিয়ন্ত্রেণের বাইরে চলে যেতে থাকে। ফলে তিনি গত বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালে চিকিৎসক দেখান এবং রক্ত পরীক্ষা করান। ওই দিনই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট ডেঙ্গু সনাক্ত হয়। তিনিও বুঝতে পারছেন না কিভাবে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেন। তার আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ঢাকা থেকে তার দেবার, দেবরের স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়ীতে বেড়াতে আসে। তবে তারা সকলেই সুস্থ্য রয়েছে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডাঃ দীপক কুমার বিশ^াস বলেন, এ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত যে সব রোগি এসেছেন তার সিংহভাগই ঢাকা থেকে আসা রোগি। তবে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে ওই সব রোগীদের যে সব মশা কামড় দিচ্ছে। আর ওই মশা যদি অন্য কাউকে কামড় দেয়, তাহলে ডেঙ্গু স্থানীয় ভাবেও ছড়াবে। রাজবাড়ী হাসপাতালে আগত ওই দুই রোগি হয়তো তেমনি ঘটনার স্বীকার হয়েছেন। যে কারণে তারা আক্রান্ত হয়েছেন।
রাজবাসীর সিভিল সার্জন ডাঃ মাহফুজুর রহমান সরকার জনান, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৮জন ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল রবিবার বিকাল পর্যন্ত রাজবাড়ীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬ জন। তিনি আরো বলেন, ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে এসেছেন। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কাউকে মশা কামড় দিলে এবং সে অবস্থায় সে মশা যদি স্বাভাবিক মানুষকে কামড় দেয় তাহলে ডেঙ্গু ছড়াবে। তাই আতংকিত না হয়ে সচেতন হই। সচেতনতাাই পারে ডেঙ্গু থেকে মানুষকে রক্ষা করতে। সকলে নিজ নিজ জায়গা থেকে মশা মারার কার্যক্রম শুরু করি। নিজে ও সমাজের অন্যান্যদেরকে রক্ষায় এগিয়ে আসি।

(Visited 423 times, 1 visits today)