দৌলতদিয়া ঘাটে এসি বাসের ভিআইপি সুবিধা বাতিল, থাকবেনা মৌসুমি বাস কাউন্টার, থাকছে সিসি ক্যামেরা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে যাত্রী দূর্ভোগ কমাতে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। যার অংশ হিসেবে দৌলতদিয়া ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। ঈদের আগে ৩ দিন ও পরে ৩দিন পন্যবাহি ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। পুরোদমে চলবে গরু কাঁচামালবাহি ট্রাক ও যাত্রীবাহি বাস। সেই সাথে এসি বাসে চলাচলকারী কথিত ভিআইপিদের জন্য থাকছেনা স্পেশাল কোন ব্যবস্থা। এখন থেকে সকল পরিবহণের মত সিরিয়ালে পার হতে হবে ওই সব এসি বাস। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নিয়ন্ত্রণহিন ভাবে স্থাপন করা মৌসুমি বাস কাউন্টার পদ্ধতীও বাতিল করার ঘোষনা দেয়া হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে “আসন্ন ঈদুল আযহা উদযাপন উপলক্ষে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এ সব ঘোষনা দেয়া হয়। সভায় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বাস মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ, পরিবহণ শ্রমিক নেতা, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, লঞ্চ মালিক, থ্রি-হুইলার মালিক সমিতি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসসহ দৌলতদিয়া ঘাট সংশ্লিষ্ঠরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাহউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ (সদর) ফজলুল করিম, সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) লাবিব আব্দুল্লাহ, বিআইডব্লিউটিএ আরিচা ঘাটের সহকারী পরিচালক মাসুদুল হক, বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আমিন, রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হাসান, ফরিদপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম ভুইয়া, মাগুরা বাস মালিক গ্রুপের সড়ক সম্পাদক মোঃ লিটন, লঞ্চ মালিক রশিদ মল্লিক প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সভায় পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পিপিএম-এর বলেন, যাত্রীদের দূর্ভোগ কমাতে দৌলতদিয়া ঘাটে নানা ধরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ঘাট এলাকায় অবৈধ বাস কাউন্টার বন্ধ করা হবে। যত্রতত্র বাস পার্কিং করা যাবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে নেয়া হবে আইনী ব্যবস্থা। প্রতিটি বাসে ভাড়ার চার্ড এবং দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বড় আকারে ওই চার্ড প্রদর্শন করা। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ২০টি ফেরি এবং ৩৪টি লঞ্চ নিরবিচ্ছান্ন ভাবে চলাচল করানো, ৬টি ঘাট সচল রাখা। নব্যতা সংকট হতে না দেয়া, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না তোলা, ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈদুতিক লাইট স্থাপন, টয়লেটের ব্যবস্থা করা, ফেরি আল লোডের পর তা সুষ্ঠ ভাবে গন্তেব্যে যাওয়া, প্রতিদিন ৪ হাজারেরও বেশি পরিমাণ যানবাহন পারাপার করা। ছিনতাইকারী, দলাল চক্র রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(Visited 1,557 times, 1 visits today)