রাজবাড়ীতে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানি বন্দী , ডিসি’র তদারকি-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

হু হু করে বাড়ছে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর অংশের পানি। ফলে গত কয়েক দিনের অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে রাজবাড়ী সদর, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ আজ শনিবার পর্যন্ত পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। সেই সাথে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের ফসলী জমি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানাগেছে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ সেন্টি মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৬৬ সেন্টি মিটার এবং জেলার পাংশার সেনগ্রাম গেজ স্টেশন পয়েন্টে ২৪ সেন্টি মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৫৫ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুর গেজ স্টেশন পয়েন্টে বিপদ সীমার ১ দশমিক ৪ সেন্টি মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।
জেলার কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন জানান, তার ইউনিয়নের মাহেন্দ্রপুর, লস্কারদিয়া নারায়নপুর, বিজয়নগর, মাধবপুর, চর রাজপুর, আলোকদিয়া, হরিনবাড়িয়া, বল্লবপুর, ভাগলপুর, গঙ্গানন্দপুর গ্রাম গুলোর প্রায় ২০ হাজারেরমত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছেন। তবে তাদের এখনো কোন সহযোগিতা করা সম্ভব হয়নি।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের নয়নসুখ এলাকার ২০৫টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পরেছে। গতকাল শনিবার এ সব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক।
বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়া গ্রাম গুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাবার সংকট। এদিকে জেলা প্রশাসন বলছে নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বাঁধের বাইরে থাকা কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করলেও মুল ভূ-খন্ডে এখনো পানি প্রবেশ করে নাই। তবে বন্যা মোকাবেলায় শুকনো খাবার, নগদ অর্থ ও পর্যাপ্ত পরিমান চাউল মজুদ রয়েছে এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
বরাটের নয়সুখ গ্রামে সরজমিনে গিয়ে জানাগেছে, গত তিন চার দিনের পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের নয়নসুখ ও গোয়ালন্দের ছোট ভাকলার অন্তার মোড়, দেবগ্রামের কাউয়াজানি ও দৌলতদিয়ার সাত্তার মেম্বর পাড়ায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বন্যার পানিতে ওইসব এলাকার প্রায় দুই শতাধিক বসবাড়ীতে পানি ডুকে পড়েছে এবং তলিয়ে গেছে নি¤œাঞ্চলের ফসলি জমি। কৃষকরা পানি বৃদ্ধির কারণে বুক পানিতে দাঁড়িয়ে পাট কাটতে দেখা গেছে। এছাড়া পানি বন্দী ওইসব পরিবারের অনেকে গবাদি পশু নিয়ে উচু স্থানে আশ্রয় নিলেও থাকা-খাওয়া এবং গবাদি পশুর খাবার নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এখন পর্যন্ত কোন ত্রান সামগ্রী বা সহযোগীতা পান নাই বন্যার পানি নিমজ্জিত পরিবার গুলো।
গত চার দিনে পদ্মার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এভাবে পানি বাড়তে থাকলে জেলার নি¤œাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি বন্দী বাসিন্দারা বলেন, তাদের বাড়ীতে পানি উঠায় স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারছেন না। অন্য বাড়ীতে গিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। এছাড়া খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাবার নিয়ে পড়েছেন সমস্যায়। পানিতে ধান ও পাট ডুবে গেছে। তাই অনেকে ডুবিয়ে পাট কাটছেন। এখন পর্যন্ত তারা কোন ধরনের সাহায্যে সহযোগিতা পান নাই।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, আজ বিকালে তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের নয়নসুখ এলাকার ২০৫টি পানিবন্দি পরিবারের সদস্যদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন। সেই সাথে গোয়ালন্দেও নদীভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। জেলা কালুখালীসহ অন্যান্য এলাকায় পানিবন্দিদের তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তালিকা প্রাপ্তির সাথে সাথে বরাদ্দ প্রদান করা হবে।

(Visited 382 times, 1 visits today)