দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম দুটি ইউপি নির্বাচনে প্রচারনায় ব্যাস্ত প্রার্থীরা –

ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও নদী ভাঙ্গন কবলিত দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছ। চলতি মাসের ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা এখন প্রচার প্রচারনায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন ।
প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত এ দুটি ইউনিয়নের ৫ জন চেয়ানম্যান এবং ৮০ জন ওয়ার্ড (পুরুষ মেম্বর) ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড (মহিলা মেম্বর) সদস্যরা ভোটাদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি।
নদী ভাঙ্গনের ফলে সীমানা জটিলতায় দীর্ঘ ৮ বছর পর ও নির্ধারিত সময়ের ৩ বছর পর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম দুটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারন জনগন ও ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সর্বত্রই এখন একই আলোচনা চলছে। সবার মনে একই জল্পনা কল্পনা কে হবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়ার নতুন অভিভাবক চেয়ারম্যান।
দৌলতদিয়া ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও দৌলতদিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম মন্ডল (নৌকা), সতন্ত্র আব্দুর রহমান মন্ডল (আনারস) প্রতীক নিয়ে এবং দেবগ্রাম ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সতন্ত্র সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আতর আলী সরদার (আনারস) ও ঘোড়া প্রতীক নিয়ে আব্দুর রহমান মোল্লা প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।
নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা ভাঙ্গন কবলিত এ দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা চান নদী ভাঙ্গন রোধে যিনি কাজ করবেন এবং অসহায় জনগনের পাশে সুখে দুখে সব সময় থাকবেন তাকেই এ অঞ্চলের ভোটাররা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তবে সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানাগেছে, দৌলতদিয়া ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ২৮৩ জন এবং দেবগ্রাম ইউনিয়নে ১১ হাজার ১০০ জন।
গোয়ালন্দ ৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলার মধ্যে ২০১৬ সালে ২৩ এপ্রিল ছোটভাকলা ও উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় অন্য দুই ইউনিয়ন দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম নির্বাচন সীমানা জটিলতার কারনে অনুষ্ঠিত হয়নি। কিন্তু পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারণে দুই ইউপির বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের সীমানা জটিলতা দেখা দেয়। সীমানা জটিলতা সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে সীমানা জটিলতার সমস্যা সমাধান হওয়ায় ২৫ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ভোটাররা বলেন, দীর্ঘ দিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গোয়ালন্দ উপজেলার দুটি ইউপিতে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা নতুন করে তাদের পছন্দের প্রাার্থীকে বিজয়ী করতে চান এবং বিজয়ী প্রার্থী নদী ভাঙ্গন রোধ করাসহ তাদের সুখে দুখে পাশে থাকবে এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকরা রাখবে বলে মনে করেন ।
দেবগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান সতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আতর আলী সরদার বলেন, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে নদী ভাঙ্গনে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তাই জনগন তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তবে তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করলেও দলের মনোনয়ন পাননি। কিন্তু দলমত নির্বিশেষে সবাই তার সাথে আছে এবং তাকে বিজয়ী করতে কাজ করছেন। ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী।
দৌলতদিয়ার নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, তিনি দীর্ঘ দিন গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং সফলতার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। দলমত নির্বিশেষে সবার সুখে দুখে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং উন্নয়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া নদী ভাঙ্গন সমস্যা এ ইউপির অন্যতম সমস্যা। তাই দক্ষিণ পশ্চিমঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাট ও ভাঙ্গন কবলিত এলাকার ভাঙ্গন রোধেও ভূমিকা রেখেছেন। অতিত কর্মকান্ডের সফলতাই ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচনে তাকেই বিজয়ী করবে। তিনি বিজয়ী হয়ে দৌলতদিয়ার নদী ভাঙ্গন, ঘাট সমস্যা সমাধান, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রনে কাজ করবেন এবং অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্ত করবেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ নিজামউদ্দিন বলেন, নদী ভাঙ্গনের সীমানা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের ৩ বছর পর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউপিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২৫ জুলাই। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহায়তায় ২৫ জুলাইয়ের নির্বাচন অবাদ সুষ্ঠ ও নিরেপক্ষ হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বলে জানান তিনি।

(Visited 156 times, 1 visits today)