রাজবাড়ীতে নৌকা মার্কার প্রার্থীসহ বহিস্কারের তালিকায় ৫ আ:লীগ নেতা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী দুই শতাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তালিকা প্রনয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। আগামী ২০ জুলাইয়ের পর ধাপে ধাপে এসব বিদ্রোহী প্রার্থী বরাবর সাময়িক বহিষ্কারাদেশের চিঠি প্রেরণ করবে দলটি।
একই সঙ্গে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে পাঠানো হচ্ছে ‘শোকজ’ নোটিশ। এছাড়া সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শতাধিক নেতা উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন।
তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেয়া হবে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই মূলত এই কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০ জুলাই আমাদের সম্পাদকমন্ডলীর সভা আছে।
সেই সভায় অভিযুক্ত নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজ নোটিশ দেয়ার দিনক্ষণ নির্ধারিত হবে। সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন তাদের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের। এসব বিদ্রোহীর শাস্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংগঠন নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন- গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজের সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কাজ করেছেন, তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়। শোকজের জবাব যথার্থ না হলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন অভিযুক্তরা।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে কয়েকটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা অভিযুক্তদের খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেছেন। শুক্রবার দলের যৌথসভায় এই তালিকা দলীয় সভাপতির কাছে জমাও দিয়েছেন তারা। বাকি বিভাগগুলো আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করে জমা দেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ ও জুনে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮ বিভাগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক। এদের মধ্যে খুলনায় ৪১, রাজশাহীতে ২০, সিলেটে ৩২, রংপুরে ২৬, বরিশালে ১৭, ময়মনসিংহে ২০, ঢাকায় ৪৫-এর অধিক এবং চট্টগ্রামে ১৭-এর অধিক ছিল।
এছাড়া ৮ বিভাগে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শতাধিক নেতা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করেন।
এ তালিকায় রয়েছেন, রাজবাড়ীর সদরে জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এসএম নওয়াব আলী, পাংশায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হাসান ওদুদ, বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হাকিম সাধন। সুত্রঃ দৈনিক যুগান্তর।
তবে এ তালিকা যাদের নাম এসেছে এদের মধ্যে বালিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। পাংশা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুল মোর্শেদ আরজ তিনিও নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করে পরাজিত হন। উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও এখানে দুজন প্রার্থীকে এ তালিকা রাখা রয়েছে।

(Visited 1,984 times, 1 visits today)