চোখ হারালো শিশু সোনিয়া, রাজবাড়ী’র স্টুডিও সিঙ্গাপুরের মালিক ভুয়া ডাক্তার মাসুদ গ্রেপ্তার –


রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ভুয়া চিকিৎসকের পাল্লায় পড়ে সোনিয়া নামে ৩ বছর ৯ মাস বয়সী এক শিশুর চোখ হারাতে বসেছে। ওই ঘটনায় শিশুটি’র মা-এর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভুয়া চিকিৎককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ভুয়া চিকিৎসকের নাম মাসুদ মাহবুব। তিনি রাজবাড়ী জেলা শহরের ভবানীপুর গ্রামের হেরাজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে এবং জেলা শহরের পাবলিক হেলথ্ মোড় এলাকার “স্টিডিও সিঙ্গাপুর”-এর মালিক।
শিশু সোনিয়ার মা রুবি খাতুন বলেন, তার স্বামী রফিক সরদারের বাড়ি সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া গ্রামে। দেড় বছর আগে তার শিশু মেয়ে সোনিয়ার ডান চোখের সমস্যা দেখা দেয়। স্বজনদের পরামর্শে সোনিয়াকে রাজধানী ঢাকার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর মেয়ের চোখে টিউমার হওয়া এবং তা অপারেশনের মাধ্যমে ফেলে দেবার কথা জানানো হয়। গরীব মানুষ হয়ার অর্থের যোগান না থাকায় তারা সোনিয়াকে বাড়ী ফিরে আনে। এরই মাঝে তারা জানতে পারেন, “স্ট্রিডিও সিঙ্গাপুর”-এর মালিকও একজন ভালো হোমিও চিকিৎসক। যে কারণে তারা সোনিয়াকে ওই স্টিুুিডওতে নিয়ে আসেন। ওই সময় স্টডিও মালিক মাসুদ মাহবুব নিজেকে বড় মাপের একজন চিকিৎসক হিসেবে তাদের কাছে জাহির করেন। এক পর্যায়ে ১৮ মাসের মধ্যে সোনিয়ার চোখ ভালোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক হাজার টাকা ফি গ্রহণ করে কিছু হোমিও ওষুধ দেন তিনি সোনিয়াকে। ওই ওষুধ সেবনের পর পরই শিশুটির চোখ একেক অবস্থায় একেক রং ধারণ করে এবং প্রচন্ড যন্ত্রনার পাশাপাশি মেয়েটির চোখের কোনা বড় হয়ে চোখসহ মাংস পিন্ড বাইরে বের হতে থাকে। যে কারণে সোনিয়াকে পুনরায় নেয়া হয় ওই চিকিৎসকের কাছে। ৭ দিন পর পর আরো এক শত টাকা করে নিয়ে পুনরায় হোমিও ওষুধ দেয় মাসুদ। ওই পর্যায়েও মাসুদ রোগী সোনিয়ার চিকিৎসা সেবা বন্ধ করেনি। মেয়েটির অবস্থার ফের অবনতি হলে অনেকটা বাধ্য হয়ে সোনিয়াকে পরিবারের লোকজন রাজধানী ঢাকার সেই বেরকারী ক্লিনিকেকে নিয়ে যান। সেখানে নানা রকম পরীক্ষার পর কেমো থ্যারাপি দেয়া শুরু করে। আরো দুই বার কেমো খ্যারাপি দেয়াসহ চোখটি এখন তুলে ফেলে দেবার জন্য বলেছে, যা করতে তাদের লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হবে। এখন তারা অর্থের যোগান কোথায় পাবে তা বুঝতে পারছে না। তিনি আরো বলেই এই ভুয়া ডাক্তারের কারণে তাদের এখন এই বিপদেও মধ্যে পরতে হলো।
রাজবাড়ী থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাসুদ মাহবুব “স্ট্রিডিও সিঙ্গাপুর”-এর মালিক। সে কোন চিকিৎসক না। মূলত স্টুডিও ব্যবসা তার প্রদান ব্যবসা। অথচ চিকিৎসক হবার ভুয়া কথা বলে ওই শিশুর চিকিৎসা প্রদান করেছে। শিশুটির মায়ের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত রবিবার রাতে মাসুদ মাহবুবকে তার স্টুডিও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেয়েটির মা বাদী হয়ে মাসুদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
থানা হাজতে গ্রেপ্তার থাকা স্টুডিও মালিক মাসুদ মাহবুব বলেন, তিনি প্রায় ১৯ বছর ধরে স্টুডিও’র ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হোমিও চিকিৎসক হবার চেষ্টায় শুরু করেন। যার অংশ হিসেবে তিনি রাজবাড়ী জেলা শহরের হোমিও কলেজে ভর্তি হয়। বর্তমানে তিনি তৃতীয় সেমিষ্টারের ছাত্র। তিনি ঠান্ডা ও জ¦রের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। শিশু সোনিয়াকে এখন পর্যন্ত তিনি ঠান্ডা ও জ¦রের ওষুধই সেবন করিয়েছেন। সেই সাথে চোখের সমস্যার জন্য ভালো হাসপাতালে যাবার পরামর্শ দিয়েছেন। এখনো তার দাবী টিউমারটি কেটে ফেলে দিলেই সোনিয়ার চোখ ভালো হয়ে যাবে।

(Visited 2,320 times, 1 visits today)