প্রেম করে বিয়ে অতঃপর আত্মহত্যার চেষ্টা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেম। প্রেমের পর বিয়ে। বিয়ের পর আড়াই মাস যেতে না যেতেই বিচ্ছেদ। এরপর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থীর (মৌসুমী আক্তার) সঙ্গে কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের ব্রি-গোপালপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদারের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল মেয়েটি ছেলের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। ওই দিন উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় ১৫ দিন পরে মেয়েটিকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ফিরোজ মেয়েটির পরিবারের কাছে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করে। গত শনিবার দুপুরে উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বৈঠক হয়। বৈঠক সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান পিয়াল, জেলা পরিষদের সদস্য মো. আলাউদ্দিন, চন্দনী ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম সিরাজুল আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মেয়েটি স্বামীর সঙ্গে ঘর-সংসার করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু বৈঠক শেষে ফিরোজকে দুইলাখ টাকার বিনিময়ে আপোষরফা করা হয়। মেয়েটিকে তাঁর মামার (জিলাল সরদার) সাথে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিকেলে মেয়েটি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
মেয়েটির মামি (মরিয়ম আক্তার) বলেন, আমাদের ভাগনীর এখন সুস্থ আছে। তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। ওই অল্প বয়স। সে ঠিকমতো বুঝতে না পেরে ওই ছেলের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে ছিলো।
চন্দনী ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম সিরাজুল আলম চৌধুরী বলেন, ঠিক ওভাবে সালিশ হয় নি। ভাইস চেয়ারম্যান আমার এখানে উভয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসতে চেয়েছিলো। উভয়পক্ষের লোকজন একসাথে কথা হয়। ওই ছেলে ও মেয়েকে আলাদা কক্ষে একসঙ্গেও কথা বলানো হয়। একপর্যায়ে সবার সম্মতিতে আলাদা থাকার বিষয়ে সমঝোতা হয়। মেয়েটিকে ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা দিতে বলা হয়।

(Visited 260 times, 1 visits today)