রাজবাড়ীতে পদ্মার পানি বৃদ্ধি সাথে বাড়ছে ভাঙ্গন –

রুবেলুর রহমান, ইমরান হোসেন মনিম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর ৮৫ কিলোমিটার অংশের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাাকা।
নদীর পানির ঢেউয়ের কারণে প্রতিদিনই একটু একটু করে ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন কৃষকরা এবং কমে যাচ্ছে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের কৃষি জমি।
নদী ভাঙ্গন সমস্যা রাজবাড়ীর প্রধান সমস্যার একটি। প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনে ছোট হয়ে আসছে জেলার মানচিত্র। এ বছর নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া-শাহ মীরপুর, সদরের মিজানপুর, বরাট, গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের কৃষি জমি ভাঙ্গতে শুরু করেছে। কিন্তু ভাঙ্গন রোধে কর্তৃপক্ষের নাই কোন পদক্ষেপ। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।
এদিকে স্থায়ী ভাবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ও বরাটের রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধের সাড়ে ৪ কিলোমিটার (ফেজ-২) এর কাজ চলমান এবং গত বর্ষা মৌসুমের (ফেজ-১) এর ভাঙ্গন কবলিত স্থানের সংস্কার কাজ পক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গন রোধে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জরুরী প্রতিরোধমূলক বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়াজানি গ্রামের বাসীন্দারা বলেন, তাদের এলাকার অনেকের বাড়ী একাধিক বার নদীতে ভেঙ্গেছে। কারও বাড়ী ৯ বার, ৪ বার, ২ বার করে। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন তারা নিঃস্ব ও ক্লান্ত কোন রকম বেঁচে আছেন, আবারো যদি ভাঙ্গে তবে তাদের আর মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। তারপরও এবার তাদের ফসলি জমি ভাঙ্গতে শুরু করেছে। যেখানে করল্লা, পটল, শষা, বেগুন, ঝিঙ্গা, টমেটো, বাদাম, ঢেড়ষসহ ইত্যাদি ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করতেন। এখন সেটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর ভাঙ্গছে কিন্তু ভাঙ্গন রোধে কেউ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে আস্তে আস্তে বেড়ি বাঁধ পেয়ে যাবে নদী। তখন আর রক্ষা করতে পারবে না। তাই এখনই ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারকে তারা অনুরোধ জানান।
ছোটভাকলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারমান মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, নদী ভাঙ্গনে তার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ কৃষি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ইতিমধ্যে শত শত বসতবাড়ী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এভাবে ভাঙ্গলে আগামীতে ছোটভাকলা ইউনিয়ন বলে আর কিছু থাকবে না। আগে নদীর পাড়ে বিষ মুক্ত হরেক রকমের সবজি ও ফসল উৎপাদন হতো। কিন্তু নদী ভাঙ্গনের কারণে আগের মত আর সবজি পাওয়া যায় না। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না করা হলে বেঁড়ি বাঁধ অচিড়েই হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখন থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্তত্য বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানো শুরু করা দরকার।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ এসএম নুরুন্নবী বলেন, জেলার পাংশার হাবাসপুর থেকে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে পদ্মার ভাঙ্গন রয়েছে। এর মধ্যে পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া-শাহ মীরপুর, সদরের মিজানপুর ও গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ও দেবগ্রামের বিভিন্নস্থান ভাঙ্গন কবলিত। এই ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধের জন্য রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ডিপিবি প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। যা অনুমোদন হলে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করতে পারবেন। প্রাথমিক ভাবে রাজবাড়ী শহর রক্ষাকারী বাঁধ (ফেজ-১) এর ক্ষতিগ্রস্থ স্থান, দৌলতদিয়া ঘাটসহ জেলার ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বিভিন্নস্থানে অস্থায়ী জরুরী মেরামত কাজের অংশ হিসেবে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছেন। এছাড়া স্থায়ী ভাবে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধের (ফেজ-২) এর কাজ চলমান রয়েছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, নতুন কর্মস্থলে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পরেই তিনি রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং চলমান স্থায়ী শহর রক্ষাকারী বাঁধের কাজও দেখেছেন। জরুরী ভিত্তিতে যেখানে কাজের প্রয়োজন সে বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, জেলার ২৫ কিলোমিটার ভাঙ্গন কবলিত। এর মধ্যে ৮ কিলোমটিার এলাকায় স্থায়ী কাজ চলমান রয়েছে এবং বাঁকী ১৭ কিলোমিটার কাজের জন্য ডিপিবি প্রনোয়নের কাজ চলমান আছে। নদী ভাঙ্গন জেলার প্রধান সমস্যা হওয়ায় জরুরী ভিত্তিতে সমাধান হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাই তিনিও আশাবাদী বাঁকী অংশের কাজও দ্রুত শুরু হবে।

(Visited 74 times, 1 visits today)