১০৩ টাকায় চাকুরী, বিনা পয়সায় পুলিশ ভেরিভিকেশন, বালিয়াকান্দিতে সদ্য নিয়োগকৃত কনষ্টেবল পেল ফুল ও মিষ্টি –

সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

নানা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে রাজবাড়ীতে ৮২ জন পুলিশ কনষ্টেবলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে । নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের দাবী সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হয়েছে। নিয়োগ পেতে ব্যাংক চালানসহ ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০৩ টাকা। আর বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদার নির্দেশে কোন প্রকার উপঢৌকন বা অর্থের বিনিময় ছাড়াই পুলিশ ভেরিভিকেশন হয়েছে বালিয়াকান্দি উপজেলার ১৬ জন নতুন সদস্য।
আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে সদ্য নিয়োগকৃত ১৬জন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের হাতে ফুল ও মিষ্টি তুলে দিলেন অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা। এসময় থানার এস,আই দিপন কুমার মন্ডল, এস,আই অঙ্কুর কুমার ভট্রাচার্য্য, এস,আই নুর মোহাম্মদ, এস,আই বদিয়ার রহমান, এস,আই হাবিবুর রহমানসহ থানা পুলিশের সদস্যরা।
সদস্য নিয়োগ প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা বলেন, গত ২২ জুন রাজবাড়ী পুলিশ লাইনে পুলিশ কনষ্টেবল পদে নিয়োগ পেতে লাইনে দাঁড়ান। শাররীক যোগ্যতায় টিকে যাবার পর তাদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। ওই পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের মধ্যে সর্বচ্চ নম্বর পেয়ে তারা চাকুরীর যোগ্যতা অর্জন করেন। এর পর মৌখিক পরীক্ষা দেন এবং সেখানেও উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগপত্র হাতে পান। তারা এই নিয়োগ পেতে মাত্র ১০৩ টাকা ব্যয় হয়েছে। পুলিশ ভেরিভিকেশনেও কোন প্রকার টাকা লাগেনি। আমাদের সবাইকে ডেকে নিয়ে হাতে ফুল ও মিষ্টি তুলে দিয়েছেন। তাই তারা এখন বাংলাদেশ পুলিশের একজন সৎ সাহসী পুলিশ সদস্য হবার শপথ নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা বলেন, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম,পিপিএম স্যার পুলিশ কনষ্টেবল পদে সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। দূর্ণীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এই নিয়োগ তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সে কারণে কোন নতুন সদস্যের কাছ থেকে ভেরিভিকেশনে অর্থ যাতে কেউ না নেয় তার জন্য আগে থেকেই নির্দেশ প্রদান করা হয়। আর নতুন সদস্যদেরকে উৎসাহ যোগাতে ও সততার সাথে কাজ করতে তাদের হাতে ফুল ও মিষ্টি তুলে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে কথা হয় রাজবাড়ীর পুলিশ রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম,পিপিএম-এর সাথে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আইজিপি স্যারের নির্দেশনা ছিলো, পুলিশ কনষ্টেবল পদে কারও তদবীর শোনা হবে না। সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। যে কারণে তিনি সর্বচ্চ সতর্কতার মধ্য দিয়ে ২২ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত রাজবাড়ীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছেন। এই তিন দিন তার ব্যক্তি গত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রেখেছেন। সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া কাউকে নিয়োগ স্থলে প্রবেশ করতেও দেয়া হয়নি। নিতে দেয়া হয়নি কোন মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে অংশ নেয় ১,৯৫৪ জন। শাররীক যোগ্যতা ও মাপকাঠিতে প্রাথমিক বাছাইতে টেকে ৬৯৫ জন। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যবেক্ষক ও নিয়োগ পরীক্ষার সাথে জড়িতদের ব্যবস্থাপনায় জেলা শহরের ডাঃ আবুল হোসেন কলেজে হয় লিখিত পরীক্ষা। ৪০ নম্বরের ওই পরীক্ষায় ৪৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেন ২০৮ জন। পরবর্তীতে নিয়োগ বোর্ডে তাদের মৌখিক পরীক্ষায় ৮২ জনকে চুড়ান্ত নাম ঘোষনা করা হয়। তিনি মনে করেন, দূর্ণীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন থেকেই করতে হবে। এই নিয়োগ তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

(Visited 203 times, 1 visits today)