রাজবাড়ীর বিভিন্ন রুটে বিগত ৬ মাসে ট্রেনে কাঁটা পড়ে নিহত ৯ –

রুবেলুর রহমান, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট টু পোড়াদাহ, রাজবাড়ী টু ফরিদপুর ও রাজবাড়ী টু ভাটিয়াপাড়া রেলপথে চলতি বছর (২০১৯) সালের জুন মাস পর্যন্ত মহিলা-পুরুষসহ ৯ জন ট্রেনে কাঁটা পড়ে নিহত হবার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা এবং এ ঘটনায় রাজবাড়ী রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে ৭টি।
ট্রেনের যতায়াতে নিরাপদ ভেবে অতিথের তুলনায় যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পেলেও বাড়ে নাই যাত্রীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং কর্তৃপক্ষের নাই জনসচেতনতামুলক কোন কার্যক্রম। ফলে মাঝে মধ্যেই ঘটছে দূর্ঘটনা। বর্তমান সরকার রেলপথ ও ট্রেনের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহন করলেও ব্যবস্থ্যাপনার উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রী ও বিশিষ্ঠজনদের।
রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলার মধ্যে দিয়েই রয়েছে রেলপথ। কিন্তু রেলপথে ৮৪টি রেল ক্রসিংয়ের বেশির ভাগ ক্রসিংয়ে নাই গেটম্যান। এছাড়া ওইসব ক্রসিংয়ের সংযোগ সড়কের অনেকস্থানে নাই সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড।
রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা সুত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের ৬ মাসে রাজবাড়ীর বিভিন্ন রেলপথে অসাবধানতার কারণে ট্রেনে কাঁটা পড়ে ৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারী মাসে ২ জন, ফেব্রুয়ারীতে ২ জন, মার্চে ১ জন, এপ্রিলে ১ জন, মেতে ১ জন ও জুনে ২ জন।
অপরদিকে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানা পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযানে চলতি বছরের ৬ মাসে ১২ জন মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অভিযানে ২৩ লিটার চোলাই মদ, ৮৫ পিস ইয়াবা, ৪৮ বোতল ফেনসিডিল ও ৬৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করেছে।
ট্রেনে চলাচালকারী যাত্রীরা জানান, অন্যান্য যানবাহনে চেয়ে ট্রেনে যাতায়াত অনেক নিরাপদ। কিন্তু সম্প্রতি সেই নিরাপদ মাধ্যম এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ট্রেনের সিট ও ফ্যানের অবস্থা ভাল না। এছাড়া বাথরুমও পরিস্কার না। নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে থাকা পুলিশকে কাজের সময় খুজে পান না। সব মিলিয়ে ট্রেন যাতায়াতে ব্যবস্থাপনা ভাল না। ট্রেন যাত্রা নিরাপদ করা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন যাত্রীরা।
সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রেলের শহর রাজবাড়ী। সম্প্রতি ট্রেন দূর্ঘনায় রাজবাড়ীতে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে রেলপথ সংলগ্ন হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ ইত্যাদি স্থানে প্রচারনামুলক কাজের মাধ্যমেও সচেতন করা যায় । তাহলে দূর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। এছাড়া আগামীতে রাজবাড়ী রেলওয়ে বিভাগীয় শহর হবার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী এখনই সবারই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। রাজবাড়ীর রেলপথ গুলোর বেশির ভাগ ক্রসিংয়ে গেটম্যান নাই। এ জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে জনসচেতনামুলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দূর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।
রাজবাড়ী সরকারী কলেজর অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার রেলওয়ে খাতে অনেক উন্নয়ন করছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হয় নাই। ট্রেনে আগের তুলনায় এখন যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সেবা ও সার্ভিসের মান বাড়ে নাই। এ জন্যই ট্রেনে লোকসান হয়। ঢাকা-চিটাগং রেলপথে যে মানের ট্রেন চলাচল করে, সে মানের ট্রেন এসব পথে চলানো প্রয়োজন। এছাড়া ট্রেন দূর্ঘটনা রোধে প্রতিনিয়তই জনসচেতনামূলক কার্যক্রম করতে হবে এবং রেলক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গেটম্যান ও নির্দেশিকা সাইন বোর্ড ঝুলালে দূর্ঘটনা রোধে অনেকটা কাজে আসবে। তবে দূর্ঘটনা রোধে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। যেমন ট্রেন লাইনের উপর বসে আড্ডা না দেওয়া, লাইনের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মোবাইল ফোনে কথা না বলা বা কানে হেইডফোন গান না শোনা, ট্রেন যাবার সময় ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইন পার না হওয়া । এসব বিষয় গুলো আমাদের মেনে চলা উচিত।
রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাষ্টার তন্ময় কুমার দত্ত বলেন, জনগণ ও সাধারন যাত্রীদের ট্রেনে যাতায়াতের জন্য সচেতন করতে মাঝে মধ্যেই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার থানার ওসি মোহাঃ আকরব হোসেন জানান, রাজবাড়ীর বিভিন্ন রেলপথে ট্রেন দূর্ঘটনায় এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত মহিলা-পুরুষসহ ৯ জন নিহত হয়েছে। মূলত এ দূর্ঘটনাগুলো অসাবধানতার কারণে ঘটেছে। এছাড়া ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা, ফিনসিডিল, মদসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামুলক কার্যক্রম ও মাদক বিরোধী অভিযান নিয়মিত করা হয়।
রাজবাড়ী রেলওয়ে বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব) কাজী ওয়ালিউল হক বলেন, রাজবাড়ীর রেলপথের বেশির ভাগ ক্রসিংয়ে প্রকল্প ভিত্তিক, অস্থায়ী ও স্থায়ী ভাবে গেটম্যান রয়েছে । স্থায়ীভাবে ক্রসিং গুলোতে গেটম্যান নিয়োগের জন্য নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ফলাফল হলে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।

(Visited 63 times, 1 visits today)