বালিয়াকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৪ জনকে নিন্ম আদালতে আত্নসমর্পনের নির্দেশ –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদসহ ১৪ জনকে নিন্ম আদালতে আত্নসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
জানাগেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ একেএম রুহুল আমিনকে ২০০২ সালের ২১ ডিসেম্বর নবাবপুর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে কলেজে কর্মরত অবস্থায় অফিস রুমের মধ্যে গুরুতর জখম করেন। তিনি ২৩ দিন ফরিদপুর সদর কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষের স্ত্রী বেগম দিল আফরোজা বাদী হয়ে ২০০২ সালের ২১ ডিসেম্বর ১৮জনকে আসামী করে বালিয়াকান্দি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ১৮জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীর্ট দাখিল করে। মামলার স্বাক্ষ্য প্রমান শেষে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট জিআর ৩৭৩/০২ এ সকল আসামীকে খালাস প্রদান করেন। পরে বাদী রাজবাড়ী জেলা জজ আদালতে ক্রিমিনাল আপিল ৪০/০৮ দায়ের করে। এ মামলায় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মোঃ কামাল হোসেন, আলী আযম খান, আব্দুর রহমান, আঃ লতিফ, শাহ্ জালাল মোল্যা, ইউসুব হোসেন, জাহিনুর রহমান, ফিরোজ মোল্যা, লুৎফর রহমান, সালেহ মোঃ ওয়াজেদ আলী, জাহিদ মোল্যা, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও কুদ্দুস মন্ডলকে সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড হয়। আসামীরা হাইকোর্টের ক্রিমিনাল রিভিশন নং ১৪১৩/০৯ দায়ের করেন। বাদী উচ্চতর সাজার লক্ষে ক্রিমিনাল রিভিশন নং ১৫১৩/০৯ দায়ের করেন। হাইকোর্টের একক বেঞ্চে শুনানীতে মামলার পদ্ধতিগত ভুল সংশোধনের জন্য রাজবাড়ী জজ কোর্টে ফেরত পাঠান। শুনানী অন্তে ক্রিমিনাল আপীল ৪০/০৮ পরবর্তিত হয়ে ৯৮/১৮ হয় ও আসামীদের খালাস পান। বাদী এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন।
মীর মশাররফ হোসেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ একেএম রুহুল আমিন বলেন, তার অজান্তে ডিগ্রীতে অবৈধ ভাবে তৈরী নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্রে জোড়পুর্বক স্বাক্ষর নিতে ব্যর্থ হয়ে মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মোঃ কামাল হোসেন, আলী আযম খান, আব্দুর রহমান, আঃ লতিফ, শাহ্ জালাল মোল্যা, ইউসুব হোসেন, জাহিনুর রহমান, ফিরোজ মোল্যা, লুৎফর রহমান, সালেহ মোঃ ওয়াজেদ আলী, জাহিদ মোল্যা, মোঃ শফিকুল ইসলাম, কুদ্দুস মন্ডলসহ ২০-২৫জন মারধোর করে গুরুতর জখম করে। মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে রাজবাড়ী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ক্রিমিনাল মামলা নং-৪০/০৮ মোঃ আবুল কালাম আজাদসহ ১৪জনকে অর্থদন্ডসহ সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। বর্তমানে হাইকোর্টে ক্রিমিনাল মিস, কেস নং-৩৫০০১/১৯ এ বিচারপতি মোঃ আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি আহম্মেদ সোহেল সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০১৯ সালের ২০ মে ১৪ জনকে নিন্ম আদালতে আতœসমর্পনের আদেশ দেন। ২০১৯ সালের ২৩ জুন ৬৮৪৪৯ স্মারকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, রাজবাড়ী, অতিরিক্ত জেলা জজ রাজবাড়ীকে স্বাক্ষরিত পত্র প্রেরণ করেছেন, হাইকোর্টের এ্যাসিসটেন্ড রেজিষ্ট্রার জাকির হোসেন পাটোয়ারী ও সুপারেন্টটেন মোঃ মনিবুর রহমান।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষাক্ষণে এসব অবৈধ সুলভ আচরণগত ব্যাক্তিদের হাত থেকে দেশের শিক্ষক সম্প্রদায়কে রক্ষার্থে আমার এ আইনী যুদ্ধ।
বাদী পক্ষে আইনী সহায়তা দিচ্ছেন হাইকোর্টের এ্যাডভোকেট সফিউদ্দিন মোঃ আমিনুর রহমান (চন্দন)।

(Visited 802 times, 1 visits today)