স্কুল ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ, এসপি’র পরিদর্শন –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

বোরকা পরিহিত দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী (১৬) -এর গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আজ শনিবার রাজবাড়ী থানায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলো, রাজবাড়ীর সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিজির স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪০) এবং তার সহযোগি অজ্ঞাত নামা আরো চার জন।
মামলার ্এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটার দিকে চার জন বোরকা পরিহিত ব্যক্তি ওই ছাত্রীকে তার বাড়ির বারান্দা থেকে মুখ বেঁধে পাশের একটি পাট ক্ষেতে নিয়ে যায় এবং ওড়না দিয়ে তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে তার শরীরের আগুন ধরিয়ে দেয়। সে সময় মেয়েটির মা ও প্রতিবেশিরা গিয়ে আগুন নিভিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।
ওই ছাত্রীর বাবা জানান, আমার মেয়ের কাছে আসামি শিল্পী বেগম কিছু দিন ধরে দুই লক্ষ টাকা দাবি করে আসছিল। টাকা দিতে না পারার কারনে ঈদের পর দিন গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে আমার মেয়ে ঘরের বারান্দায় বসে জাম খাচ্ছিলো। তখন আমরা কেউ বাড়ি ছিলাম না। এমন সময় চার জন বোরকা পরা লোক এসে মেয়েকে মুখ বেধে বাড়ির পাশে পাট ক্ষেতে নিয়ে যায়। তারপর আমার মেয়ের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।
সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর জানান, শিল্পী বেগমের চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ ভালো নয়। তাছাড়া যে ঘটনা ঘটনানো হয়েছে, তা একটি নেক্কার জনক ঘটনা। অল্পের জন্য মেয়েটা প্রাণে বেঁচেছে। তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে এমন ঘটনা আর না ঘাটে।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, ঘটনাটি তারা অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। থানায় এজাহার গ্রহণ এবং মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম, পিপিএম বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। যে কারণে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে ঘটনার স্বীকার মেয়ে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন। পুরো ঘটনা ও ঘটনার সাথে জড়িতদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন। আর সে অনুযায়ী রাজবাড়ী থানার ওসিকে আসামিদের গ্রেপ্তার করাসহ অন্যান্য নির্দেশ দিয়েছেন।

(Visited 547 times, 1 visits today)