বালিয়াকান্দিতে “আমার গ্রাম-আমার শহর” শীর্ষক আলোচনা সভা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :  “সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রতিপাদ্যের অন্যতম এজেন্ডা “আমার গ্রাম-আমার শহর”। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই গ্রামকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দর্শন হিসাবে বিবেচনা করে আসছেন। স্বাধীন দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অঙ্গিকার যুক্ত করেছিলেন। বর্তমান সরকার প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সরকার ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মহূর্তে আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ গ্রাম নির্মাণের কতিপয় লক্ষ্য ও পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
উন্নত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিৎসা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মানসম্পন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক শহরের সকল সুবিধাদি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে। গ্রামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ আরো বাড়ানো ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যে গ্রুপভিত্তিতে বায়োগ্যাস প্লান্ট ও সৌরশক্তি প্যানেল বসানোর উৎসাহ ও সহায়তা দেয়া হবে।
গ্রাম পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র সেবা কেন্দ্র, ওয়ার্কশপ স্থাপন করে যন্ত্রপাতি মেরামতসহ গ্রামীণ যান্ত্রিকায়ন সেবা সম্প্রসারণ করা হবে এবং এসবের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান করা হবে। অ-কৃষি খাতের এসব সেবার পাশাপাশি হাল্কা যন্ত্রপাতি তৈরি ও বাজারজাত করতে বেসরকারি খাতের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। শনিবার সকাল ১০টায় মুন্সী ইয়ার উদ্দীন আহমেদ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে “আমার গ্রাম-আমার শহর” শীর্ষক এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৬৯তম বুনিয়াদি কোসের প্রশিক্ষনার্থী মাসুদুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার নিজের গ্রাম নারুয়া গ্রামবাসীদের নিয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মুনছুর আলী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হারুন অর রশিদ, লিয়াকত আলী স্কুল ও কলেজের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলী, মুন্সী ইয়ার উদ্দীন আহমেদ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম, নারুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অর্ধেন্দু কুমার রায়, নারুয়া গ্রাম ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু সাঈদ মোল্লা, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রীনা পারভীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন চুন্নু। গ্রামবাসীর পক্ষে বক্তৃতা করেন, হাসেম আলী মোল্লা, নারুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইলাম, নারুয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আঃ গনি শেখ সহ অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ। গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। গ্রামবাসীর প্রানের দাবী নদী ভাঙ্গন রোধ, রাস্তাঘাট সংস্কার, মাদক নির্মুল, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক মাসুদুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রাম বলেন, গ্রাম উন্নয়ন নীতিমালা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যদি উপর্যুক্ত বিষযগুলো বিবেচনায় রাখা হয় তাহলে আমার গ্রাম শুধু আমার শহরই হবেনা। আমার গ্রাম হবে বসবাসের এক আদর্শ স্থান।
তিনি আরো বলেন, আমার গ্রাম, আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ এটা ইশতেহারের সবচেয়ে সময়োাপযোগী অঙ্গীকার। অন্যদিকে তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা আরেকটি প্রত্যাশিত প্রয়োজনীয় অঙ্গীকার।
“আমার গ্রাম, আমার শহর” এই অঙ্গীকার সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে অন্যান্য দিক পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিটি বিদ্যালয় নতুন ভাবে সাজানো প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের সাজসজ্জা গুলো এরকম হতে পারে- শহরের বিদ্যালয় এর সিলেবাস গুলোর সাথে গ্রামের বিদ্যালয়ের সিলেবাসের সমন্বয় সাধন করা এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ করা প্রয়োজন।
আমরা জানি বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে ৬ ফেব্রুয়ারী বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় এবং ১৯৯২ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু হয়। নির্বাচনী এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে বাধ্যতামূলক মাধ্যমিক শিক্ষার বিষয়টি ভাবতে হবে। বিদ্যালয়ের শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করনের জন্য বাল্য বিবাহ নিরোধে যথাযথ ভূমিকা গ্রহন করতে হবে।
মোটিভেশনাল ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। নৈতিক ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে যথাযথ ক্যাম্পেইন করতে হবে। অভিভাবক সমাবেশ। ডিবেটিং ক্লাব। লাইব্রেরী ওয়ার্ক। ল্যাংগুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠা।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন, এই ইশতেহারের মাধ্যমে গ্রামে বসবাসরত মানুষদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আমার গ্রাম, আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ।
ইশতেহারের সবচেয়ে সময়োপযোগী অঙ্গীকার। অন্যদিকে তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি: তরুণ যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা আরেকটি প্রত্যাশিত প্রয়োজনীয় অঙ্গীকার।
আলোচনা শেষে গ্রামবাসীদের নিয়ে নদী ভাঙ্গন পরিদর্শন করেন এবং এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, মা জন্ম দেয়, মাটি লালন করে। মায়ের মতো মাটিকেও ভালোাসতে হয়। সরকারী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ গ্রামের প্রতি যে দায়িত্ব রয়েছে তা পালনে সর্বদাই সচেষ্ট থাকব।

(Visited 96 times, 1 visits today)