সাপের কামড়ের রোগী এন্টিভেনম ব্যবহারে পেলো রক্ষা –

সোহেল রানা, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীকে এন্টিভেনম ব্যাবহার করে (সাপে কাটা রোগীর বিশেষ ভ্যাকসিন) সফল হয়েছেন কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. অচিন্ত কুমার দাস ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. বিদ্যুৎ কুমার কুন্ডু।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রোগীর পরিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের নতুনচর গ্রামের আঃ আলীমের ছেলে আব্দুল আউয়াল (২৭) কে গত ২২ মে বাড়ী থেকে বিষধর সাপে ছোবল দেয়। তাৎক্ষনিক ভাবে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত রাখায় রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছে। শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।
সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া মেডিকেল অফিসার ডা. অচিন্ত কুমার দাস বলেন, মুডোফোনের মাধ্যমে জানতে পারি একজন সাপে কাটা রোগী আমাদের হাসপাতালে আসছেন। বিষয়টি জানতে পেরে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. বিদ্যুৎ কুমার কুন্ডু সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু প্রস্তুত রাখে। রোগী হাসপাতালে আসার পর তার স্বজনরা আমাদেরকে নিশ্চিত করেন বিষধর সাপ তাকে ছোবল দিয়েছে। নিয়মানুয়ারী রোগীর স্বজনদের সম্মতি সাপেক্ষে চিকিৎসা শুরু করি। এই রোগীকে সুস্থ্য করার ক্ষেত্রে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল কারণ চিকিৎসা পরবর্তী আইসিইও ব্যবস্থা, এনেসথেসিয়া ডাক্তারসহ যে ধরনের সাপোর্ট প্রয়োজন হয় সেটি আমাদের কাছে ছিল না। তাৎক্ষনিক ভাবে আমরা যদি তাকে উপর্যুক্ত চিকিৎসা না দেই তাহলে তার জীবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ফলে ওই সময় তাকে আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার জানামতে বালিয়াকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই প্রথম কোন সাপে কাটা রোগীকে এন্টিভেমন ব্যবহার এবং তার সুস্থ্য হওয়ার মত ঘটনা এটি।
তবে রোগীর স্বজনদের আন্তরিকতার কারণে একরকম ঝুকি নিতে পেরেছি। তাদের সাহস ও উৎসাহ আমাদের চ্যালেঞ্জ নিতে বাধ্য করেছে। সৃষ্টিকর্তা সহায় আব্দুল আউয়াল সুস্থ্য হয়ে শুক্রবার সকালে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ী চলে গেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, ২০১৭ সালের শেষের দিকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে এন্টিভেনম ইনজেকশন পাঠানো হয়। এরপর সাপে কাটা ৩-৪ জন রোগী হাসপাতালে আসলেও তারা সঠিক তথ্য ও রোগীকে আমাদের হাতে ছেড়ে দিতে না পারায় এন্টিভেনম ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
তাছাড়া রোগীর স্বজনদের অসচেতনতা, অসহযোগিতা, বিধিমোতাবেক বন্ডে স্বাক্ষর না করাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের চেষ্টা ও ইচ্ছা থাকার পরও রোগীদেরকে চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হই। এই প্রথম একজন সাপে কাটা রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পেরেছেন। আসলে তার স্বজনদের আন্তরিকতা ও অনুমতি পেয়েই তাৎক্ষনিক ভাবে চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ পেয়েছি আমরা। তার মতে একজন সাপে কাটা রোগী যদি নির্দিষ্ট সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে তাহলে তাকে বাঁচানো সম্ভব।

(Visited 329 times, 1 visits today)