অর্ধ শতাধিক যুবকের স্বপ্ন চুরমান : রাজবাড়ী থেকে উধাও সুপ্রীম গার্ড সার্ভিস –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

উচ্চ বেতনে ভালো চাকুরী দেবার কথা বলে জামানতের পাঁচ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে রাজবাড়ী থেকে উধাও হয়েছে সুপ্রীম গার্ড সার্ভিস লিমিটেড নামক একটি নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। আর ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আতœগোপন করায় অর্ধ শতাধিক যুবকের চাকুরী করার স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেছে। তারা নানা ভাবে চেষ্টা করেও পাচ্ছেন না ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সন্ধান। যে কারণে গত মঙ্গলবার তারা রাজবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
জানাগেছে, এক মাস আগে রাজবাড়ী জেলা শহরের শ্রীপুর এলাকার জনৈক সেলিনা খাতুনের ভবনের দ্বিতীয় তলায় সুপ্রীম গার্ড সার্ভিস লিমিটেড নাম একটি প্রতিষ্ঠান সাইনবোর্ড টানিয়ে ভাড়া ওঠে। এর পরই তারা লোভনীয় বেতনে সিকিউরিটি অফিসার, সুপারভাইজার, সিকিউরিটি গার্ড, বেসরকারী ট্রেনের টিটিসহ নানা ধরণে পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞাপন দেখে শ্রীপুর ও এর আশপাশসহ রাজবাড়ী, যশোর ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বেকার যুবকরা এসে ওই অফিসে ভীর জমায়। এই সুযোগে কথিত মার্কেটিং ম্যানেজারের পদ বাবদ ৭০ হাজার টাকা, পিয়নের পদ বাবদ ২২ হাজার টাকা, এসিটেন্ট অফিসারের পদ বাবদ ৩০ হাজার টাকা, সহকারী মার্কেটিং অফিসারের পদ বাবদ ৫৫ হাজার টাকা, সিকিউরিটি গার্ড পদ বাবদ ১৫ হাজার টাকা, স্পেশাল গার্ড পদ বাবদ ২৭ হাজার টাকা, সুপারভাইজার পদ বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, আয়া পদ বাবদ ১৫ হাজার টাকা করে গ্রহণ করে। স্বল্প এই সময়ে প্রায় অর্ধশতাধিক যুবককে তারা নিয়োগ প্রদান করে পাঁচ লাখেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই সাথে যুবকদের আতœবিশ^াস বাড়াতে সিকিউরিটি গার্ডদের গাজীপুরের শালবনে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
এসিটেন্ট অফিসারের পদ বাবদ ৩০ হাজার টাকা প্রদানকারী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের হোসনাবাদ বলেন, তিনি অফিস জবে চাকুরী পাবার জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত দিয়েছেন। সুপ্রীম গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের শ্রীপুরের কার্যালয় নিজবাড়ীর কাছাকাছি হওয়ায় তিনি মাঝে মধ্যেই ওই অফিসে আসা যাওয়া করতেন। ওই কার্যালয়ে ম্যানেজারের দায়িত্ব ছিলো, জাহিদ হাসান এবং অফিস সুপার ভাইজার ছিলেন, নজরুল ইসলাম। তাদের দুই জনেরই বাড়ী বগুড়া জেলায় বলে শুনেছেন। আর ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি’র নাম ছিলো আনোয়ার হোসেন। তবে এমডি থাকতেন ঢাকা অফিসে। নিয়োগ প্রাপ্ত ১১ জন সিকিউরিটি গার্ড সদস্যকে গত ২২ এপ্রিল গাজীপুরের শালবনে প্রশিক্ষণ দিতে নিয়ে যান জাহিদ ও নজরুল। তারা গাজীপুরে ওই ১১ জনকে এমডি আনোয়ার হোসেনের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে রাজবাড়ী ফিরে আসেন।
সিকিউরিটি গার্ডের প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া জেলা শহরের সজ্জনকান্দা গ্রামের মজিবর ব্যাপারীর ছেলে সুমান ব্যাপারী বলেন, থাকা-খাওয়াসহ নানা ধরণের দূর্ভোগের মধ্যে তাদের ট্রেনিং করানো হয়। টানা ১২ দিন সেখানে প্রশিক্ষণ নেয়ার পর হঠাৎ করেই এমডি আনোয়ার হোসেনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর সেখানে আসেন না। পরে রাজবাড়ী অফিসের কর্মকর্তা জাহিদ ও নজরুলের ফোনেও কল করা হয়। তবে তাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে তারা তাদের স্বজনদের রাজবাড়ী অফিসে পাঠান। অফিসে এসে তার স্বজনরা দেখতে পান তাতে তালা লাগনো। পরবর্তীতে ঢাকা অফিসে গিয়েও দেখা যায়, সে অফিসও চলে গেছে। তাই তারা ফিরে আসেন এবং প্রতারিত হবার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
জেলা শহরের লক্ষিকোল গ্রামের সম্রাট ইসলাম বলেন, স্থানীয় একটি চক্র সুকৌশলে সে সময় শ্রীপুরের অফিসের তালা ভেঙ্গে যে যার মত অফিসের টেবিল চেয়ার ও আলমারি নিয়ে যায়। সেই সাথে তারা কয়েকজন প্রতারিত যুবক সম্মিলিত ভাবে গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ী থানায় আসেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

(Visited 629 times, 1 visits today)