বালিয়াকান্দির প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের চাপিয়ে দেয়া হলো “প্লে উইথ পিকচার” বই –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম : 

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ৯৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে “প্লে উইথ পিকচার” নামক ইংরেজি বই। আর ওই বই চাপিয়ে দিয়েছেন সয়ং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। সেই সাথে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন, প্রতিস্কুল থেকে ৮ শত টাকা। সাম্প্রতি ওই শিক্ষা অফিসার বদলী হয়ে চলে গেলে শিক্ষকরা সে শিক্ষা অফিসারের এ অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
জানাগেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলায় জাতীয়করণকৃতসহ ৯৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্লে উইথ পিকচার নামে ২৬ পৃষ্ঠার (এপিট-ওপিট মিলে) প্রাক-প্রাথমিকের ১০টি করে ইংরেজি বই দেয়া হয়েছে। বইটির দ্বিতীয় পাতায় নিদের্শনায় প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আকরাম আল হোসাইন এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলামের (বর্তমানে তিনি শিবালয়, মানিকগঞ্জে কর্মরত) নাম রয়েছে। ওই পৃষ্ঠার নিচের দিকে ‘প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে পরিশোধ যোগ্য।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বালিয়াকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি ও স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, প্লে ইউথ পিকচার নামে ১০টি বই উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে দিয়েছে, যার মূল্য বাবদ প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে ৮০০ টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে। সরকার কর্তৃক বছরের শুরুতেই শিশুদের জন্য ৪ কালার রঙিন ছবিসহ চমকপ্রদ বই পেয়ে থাকি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম স্যার কার স্বার্থে এই বই আমাদের চাপিয়ে দিলেন সেটি বুঝতে পারলাম না, বই দিয়ে কি করব সেটাও বোধগম্য নয়। বই গুলো এনে রেখে দিয়েছি, দেখি কি করা যায়।
নাম প্রকাশ না করার সর্ত্বে একজন শিক্ষক জানান, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য এবার স্কুল প্রতি ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। যে বরাদ্দ এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষকের হিসাবে জমা হয়নি, কাজও শুরু হয়নি। এর আগেই প্রাক-প্রাথমিক থেকে বই ক্রয়ের অর্থ সমন্বয় করার কথা বলা মানে কিছু অসাধু শিক্ষকের অর্থ লোপাটের পথ দেখিয়ে দেওয়া মাত্র।
বালিয়াকান্দি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সিরাজুল ইসলাম স্যার প্লে উইথ পিকচার নামে ১০টি বই ৮০০ টাকা দিয়ে কিনে নিতে বলেছেন, স্যার বলেছেন তাই নিয়েছি তবে প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে সে টাকা সমন্বয় করে নিতে বলেছেন স্যার।
নলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শশাঙ্ক শেখর ভৌমিক বলেন, ১০টি বই অফিস থেকে নিয়েছি, তবে টাকা দেইনি প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে উত্তোলন করে টাকা পরিশোধ করব। বইয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং বাজার মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানিনা।
তৎকালীন বালিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলে ১০টি করে বই দেয়া হয়েছে। বই বাবদ শিক্ষকরা ৮ শত টাকা জমা দিবেন। যে টাকা স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে সমন্বয় করে তাকে দিয়েছেন।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, সিরাজুল ইসলাম স্যার বই বিক্রির অধিকাংশ টাকাই শিক্ষকদের কাছ থেকে নিয়েছেন। যাদের টাকা বাকী আছে তাদের টাকা নিয়ে স্যারের কাছে পৌছে দিতে বলেছেন। ১০টি বই বাবদ ৮০০ টাকা করে দিতে হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নব নিযুক্ত উপজেলার বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল হক জানান, তিনি এক মাস হলো বালিয়াকান্দিতে যোগদান করেছেন। প্রাক-প্রাথমিকে “প্লে উইথ পিকচার” বই নামক যে বই চাপিয়ে দেয়া হয়েছে তা মৌখিক ভাবে শুনেছেন। তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাননি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(Visited 70 times, 1 visits today)